Full Transcript
https://www.youtube.com/watch?v=UOGJ_DtsEw0
[00:25] মানব সভ্যতার ইতিহাসে যে কয়েকটি সভ্যতা বীরদর্পে নিজেদের দাপট পৃথিবীবাসী কে দেখাতে সমর্থ হয়েছে রোমান সভ্যতা তার মধ্যে অন্যতম।
[00:35] পশ্চিমা সভ্যতা সূচনাকারী যদি হয় গ্রীক সভ্যতা তাহলে রোমান সভ্যতাকে এর স্তম্ভ বলা চলে।
[00:39] আমাদের আজকের এই আলোচনায় আমরা জানতে চলেছি ভূমধ্য সাগরের মধ্য অঞ্চলে ইতালি উপদ্বীপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রোমান সভ্যতা নিয়ে।
[00:46] রোমান সভ্যতার ভিত প্রতিষ্ঠিত হয় রোমকে কেন্দ্র করে? কিন্তু কিভাবে গঠিত হয় রোম নগরী? কিভাবে উৎপত্তি হয়েছিল রোমান সভ্যতার?
[00:54] কিভাবে রাজতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে প্রজাতন্ত্রের সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা সাম্রাজ্যের রূপ নেয়।
[01:02] দাস বিদ্রোহের ইতিহাস কি এবং কে ছিল স্পারডাকাস।
[01:04] জুলিয়াস সিজারের উত্থান এবং তার পতন রোমানদের ধর্ম কি ছিল? ইতিহাসে তাদের ভূমিকা কি এবং সর্বশেষ ইসলামের উত্থান এবং রোমানদের পতন।
[01:15] এই সবগুলো বিষয় নিয়েই আমাদের আজকের এই এপিসোড।
[01:17] চেষ্টা করবো আপনাদেরকে ইতিহাসের একদম গভীরে নিয়ে যাওয়ার।
[01:21] তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে ভিডিওর মূল পয়েন্টে আসা যাক।
[01:25] রোমান সভ্যতা। যার ভিত্তি ছিল বর্তমান
[01:27] রোমান সভ্যতা।
[01:30] যার ভিত্তি ছিল বর্তমান ইতালির রাজধানী রোমান নগরী। টাইবার নদীর ইতালির রাজধানী রোমান নগরী।
[01:32] টাইবার নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরকে বলা হয় চির শান্তির শহর।
[01:35] আবার সাতটা পাহাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠায় এটাকে সাত পাহাড়ের শহরও বলা হয়ে থাকে।
[01:39] রোমান সভ্যতার ইতিহাস যেহেতু এই রোমকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়।
[01:42] তাই চলুন এই রোমনগরীর ইতিহাস নিয়ে একটু জেনে নেই।
[01:44] রোমানগরী প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এটাকে ঘিরে একটি জনশ্রুতি রয়েছে|
[01:49] যা রমুকরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বাস করে আসছে।
[01:54] রোমান মিথ অনুসারে রোমিউলাস এবং রেমাস নামের দুই জমজ ভাই যারা রেয়া সিলভিয়ার সন্তান।
[01:57] রেয়া সিলভিয়া হলো বর্তমান রোমের নিকটবর্তী তৎকালীন আলহাঙ্গা নামক শহরের রাজার কন্যা।
[02:03] রাজার নাম ছিল নুমিতর।
[02:05] লিজেন্ড অনুসারে নমিতরের ভাই অ্যামিউলাস তাকে ক্ষমতাচ্ছ্যত করে এবং রিয়াসিলভিয়াকে জোরপূর্বক ভ্যাস্টাল ভার্জিন অর্থাৎ চিরকুমারী সন্ন্যাসীনী হিসেবে থাকতে বাধ্য করে।
[02:15] যাতে করে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মত কোন সন্তান সে জন্ম দিতে না পারে।
[02:18] কিন্তু দৈবক্রমে রেয়াসিলভিয়া এবং রোমকদের যুদ্ধ দেবতা মার্সের মিলনের ফলে জন্ম হয় রোমিউলাস এবং
[02:28] মার্সের মিলনের ফলে জন্ম হয় রোমিউলাস এবং রেমাসের।
[02:31] অ্যামেলিয়াস খুব চিন্তায় পড়ে রেমাসের।
[02:31] অ্যামেলিয়াস খুব চিন্তায় পড়ে যায়।
[02:34] সে তখন তাদের হত্যা করার জন্য টাইবার যায়।
[02:34] সে তখন তাদের হত্যা করার জন্য টাইবার নদীতে তাদের ফেলে আসার নির্দেশ দেয়।
[02:36] নদীতে তাদের ফেলে আসার নির্দেশ দেয়।
[02:36] কিন্তু অলৌকিকভাবে রমিউলাস এবং রেমাস সেখান থেকে বেঁচে ফিরে।
[02:39] কিন্তু অলৌকিকভাবে রমিউলাস এবং রেমাস সেখান থেকে বেঁচে ফিরে।
[02:39] লুপা নামক এক নেকড়ে তাদের সন্ধান পায় এবং তাদেরকে তার গুহায় নিয়ে যায়।
[02:41] সেখান থেকে বেঁচে ফিরে।
[02:41] লুপা নামক এক নেকড়ে তাদের সন্ধান পায় এবং তাদেরকে তার গুহায় নিয়ে যায়।
[02:44] নেকড়ে তাদের সন্ধান পায় এবং তাদেরকে তার গুহায় নিয়ে যায়।
[02:44] যেখানে সে নিয়মিত তাদেরকে দুধ পান করাতো।
[02:46] গুহায় নিয়ে যায়।
[02:46] যেখানে সে নিয়মিত তাদেরকে দুধ পান করাতো।
[02:49] তাদেরকে দুধ পান করাতো।
[02:49] অবশেষে একদিন ফস্টিউলাস নামের একজন লোক তাদের খুঁজে পায় এবং তাদেরকে বড় করে তোলে।
[02:52] ফস্টিউলাস নামের একজন লোক তাদের খুঁজে পায় এবং তাদেরকে বড় করে তোলে।
[02:52] বড় হওয়ার পর তারা ্যামিউলাসকে সিংহাসন চুত করে এবং তাদের দাদা নমিতরকে আলভালঙ্গার সিংহাসনে বসায়।
[02:54] পায় এবং তাদেরকে বড় করে তোলে।
[02:54] বড় হওয়ার পর তারা ্যামিউলাসকে সিংহাসন চুত করে এবং তাদের দাদা নমিতরকে আলভালঙ্গার সিংহাসনে বসায়।
[02:57] হওয়ার পর তারা ্যামিউলাসকে সিংহাসন চুত করে এবং তাদের দাদা নমিতরকে আলভালঙ্গার সিংহাসনে বসায়।
[02:57] করে এবং তাদের দাদা নমিতরকে আলভালঙ্গার সিংহাসনে বসায়।
[02:59] সিংহাসনে বসায়।
[02:59] পরবর্তীতে ক্ষমতাধ্বন্দের লড়াইয়ে রোমিউলাস রেমাস কে হত্যা করে|
[03:02] ক্ষমতাধ্বন্দের লড়াইয়ে রোমিউলাস রেমাস কে হত্যা করে|
[03:02] এবং সে একক ক্ষমতার মালিক হয়।
[03:05] লড়াইয়ে রোমিউলাস রেমাস কে হত্যা করে|
[03:05] এবং সে একক ক্ষমতার মালিক হয়।
[03:07] এবং সে একক ক্ষমতার মালিক হয়।
[03:07] পরবর্তীতে সে একটি নগরী তৈরি করে| যার নাম নিজের নামের অনুসারে রাখে রোম।
[03:10] সে একটি নগরী তৈরি করে| যার নাম নিজের নামের অনুসারে রাখে রোম।
[03:10] যার নাম নিজের নামের অনুসারে রাখে রোম।
[03:13] নামের অনুসারে রাখে রোম।
[03:13] সে হয়ে যায় রোমের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম রাজা।
[03:17] রোমের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম রাজা।
[03:17] দর্শক এতক্ষণ আপনাদের যা বললাম তা হলো মিথোলজির একটা অংশ।
[03:20] এতক্ষণ আপনাদের যা বললাম তা হলো মিথোলজির একটা অংশ।
[03:20] বাস্তবিক পক্ষে এই গল্পগুলোর কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই।
[03:22] একটা অংশ।
[03:22] বাস্তবিক পক্ষে এই গল্পগুলোর কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই।
[03:25] কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই।
[03:25] এগুলো জাস্ট মিথ গল্পগাথা।
[03:27] গল্পগাথা।
[03:27] বিশ্বাস করার দায়িত্ব একান্তই আপনাদের।
[03:27] তবে ইতিহাসবিদরা এই ব্যাপারে
[03:29] আপনাদের।
[03:32] তবে ইতিহাসবিদরা এই ব্যাপারে ঐক্যমত্বে পৌঁছেছেন যে খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে রোম নগরীর প্রতিষ্ঠা হয়।
[03:35] রোমের ইতিহাসকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করার জন্য এটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
[03:40] যার প্রথম ভাগটি হচ্ছে খ্রিষ্টপূর্ব 753 থেকে 509 সাল পর্যন্ত।
[03:46] যখন এটুসকানদের পরাজিত করে রোমান রাজতন্ত্রের সূত্রপাত ঘটে।
[03:51] তারপর খ্রিষ্টপূর্ব 509 থেকে খ্রিষ্টপূর্ব 31 সাল পর্যন্ত।
[03:54] এই সময়টা হচ্ছে রোমান প্রজাতন্ত্র তথা অভিজাত্যের শাসন।
[03:57] আর তৃতীয় খন্ডটা হচ্ছে খ্রিষ্টপূর্ব 31 সাল পরবর্তী সময়।
[04:02] যখন জুলিয়া সিজারের পালিত পুত্র অক্টোভিয়ানের মাধ্যমে রোমান সাম্রাজ্যের উৎপত্তি ঘটে।
[04:07] অক্টোভিয়ানই প্রথম অগস্ট সিজার উপাধি ধারণ করে খ্রিস্টপূর্ব 31 সালে রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
[04:13] তাই আলোচনা তৃতীয় ভাগে থাকবে রোমান সাম্রাজ্যের আলোচনা।
[04:16] তাহলে চলুন ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করা যাক।
[04:19] রোমের ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে এট্রুসকান সভ্যতার নাম আসে সর্বাগ্রে।
[04:23] খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে এট্রিস্কানরা প্রায় সমগ্র ইতালি উপদ্বীপে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।
[04:28] রোমে শাসন
[04:31] তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।
[04:33] রোমে শাসন শুরু হয় বিদেশী এটুসকানদের।
[04:36] তাদের শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণঅসন্তোষ দেখা দিলে এক পর্যায়ে রোমের রাজতন্ত্রে বিলুপ্ত ঘটিয়ে এক অভিজাত প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
[04:40] 509 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে রোমে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রোম পরিকল্পনা করল সমগ্র ইতালী উপদ্বীপ বিজয় করার।
[04:47] ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সর্ববৃহৎ শক্তিরূপে উত্থান ঘটলো রোম প্রজাতন্ত্রের।
[04:52] সমগ্র ইতালি উপদ্বীপ দখলের পর রোমের দৃষ্টি পড়ল কার্থেজে নগরীর উপর।
[04:57] যা ছিল তৎকালীন উত্তর আফ্রিকার এক বিশাল সমৃদ্ধশালী নগরী।
[05:00] এ নগরী উত্তর আফ্রিকার তিউনিস থেকে জিব্রালটার প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের মালিক ছিল।
[05:07] সেই অনুপাতে এটিকে শুধু নগরী বললে ভুল হবে।
[05:09] কার্যত কার্তেজ ছিল এক বিরাট সাম্রাজ্যের অধিকারী।
[05:12] সমগ্র ইতালী উপদ্বীপে প্রভুত্ব কায়েম করার ফলে রোম ধীরে ধীরে সাম্রাজ্যবাদী মবাপন্ন হয়ে ওঠে।
[05:17] এবং এই ধারায় তারা কার্তেজিয়ানদের সাথে একাধিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
[05:22] যুদ্ধগুলোতে রোমানরা বিজয় লাভ করে।
[05:24] কার্তেজের সাথে সংঘটিত হওয়া এই যুদ্ধগুলো রোমান ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
[05:29] ইতিহাসে এই যুদ্ধগুলো পিউনিক যুদ্ধ নামে
[05:31] ইতিহাসে এই যুদ্ধগুলো পিউনিক যুদ্ধ নামে পরিচিত।
[05:31] রোমানরা কার্তেজিয়দের বলত পিনি।
[05:34] পরিচিত।
[05:34] রোমানরা কার্তেজিয়দের বলত পিনি।
[05:34] পিনি শব্দটি এসেছে ফিনিশিয়া শব্দ থেকে।
[05:37] পিনি শব্দটি এসেছে ফিনিশিয়া শব্দ থেকে।
[05:37] কারথেজ ফিনিশিয়ার উপনিবেশ ছিল বলে
[05:39] কারথেজ ফিনিশিয়ার উপনিবেশ ছিল বলে
[05:39] রোমানরা কারথেজিদের ফিনিশিয়া বলে মনে
[05:42] রোমানরা কারথেজিদের ফিনিশিয়া বলে মনে করত।
[05:42] এ কারণেই কারথেজ যুদ্ধ পিউনিক যুদ্ধ
[05:45] করত।
[05:45] এ কারণেই কারথেজ যুদ্ধ পিউনিক যুদ্ধ নামে পরিচিত।
[05:45] ইতিহাসে তিনটি পিউনিক যুদ্ধে
[05:47] নামে পরিচিত।
[05:47] ইতিহাসে তিনটি পিউনিক যুদ্ধে সংঘটিত হয়।
[05:47] 264 খ্রিস্ট পূর্বাব্ধে
[05:50] সংঘটিত হয়।
[05:50] 264 খ্রিস্ট পূর্বাব্ধে রোমানদের সঙ্গে কার্তেজের যুদ্ধ বেঁধে
[05:52] রোমানদের সঙ্গে কার্তেজের যুদ্ধ বেঁধে যায়।
[05:52] সিসিলি দ্বীপের উপর কার্তেজীয়দের
[05:54] যায়।
[05:54] সিসিলি দ্বীপের উপর কার্তেজীয়দের প্রভাব বিস্তার রোমানদের ঈশান্বিত করে
[05:56] প্রভাব বিস্তার রোমানদের ঈশান্বিত করে তোলে।
[05:56] পিউনিক যুদ্ধের এটাই হচ্ছে প্রথম
[05:59] তোলে।
[05:59] পিউনিক যুদ্ধের এটাই হচ্ছে প্রথম কারণ।
[05:59] সিসিলির পশ্চিম অংশের উপর কার্থেজের
[06:02] কারণ।
[06:02] সিসিলির পশ্চিম অংশের উপর কার্থেজের নিয়ন্ত্রণ ছিল।
[06:02] সিসিলিতে কার্তেজের
[06:04] নিয়ন্ত্রণ ছিল।
[06:04] সিসিলিতে কার্তেজের অবস্থান নিজের আধিপত্য বিস্তারের মুখে
[06:06] অবস্থান নিজের আধিপত্য বিস্তারের মুখে বাধা হিসেবে মনে করল রোম।
[06:06] এই বাধা
[06:08] বাধা হিসেবে মনে করল রোম।
[06:08] এই বাধা অপসারণের জন্য কারথেজের বিরুদ্ধে রোম
[06:10] অপসারণের জন্য কারথেজের বিরুদ্ধে রোম যুদ্ধ ঘোষণা করে।
[06:10] 23 বছর স্থায়ী এই
[06:13] যুদ্ধ ঘোষণা করে।
[06:13] 23 বছর স্থায়ী এই যুদ্ধে রোমানরা জয়ী হয়।
[06:13] কারথেজ সিসিলিতে
[06:15] যুদ্ধে রোমানরা জয়ী হয়।
[06:15] কারথেজ সিসিলিতে তার সম্পদ সহ আত্মসমর্পণ করে এবং রোমানদের
[06:19] তার সম্পদ সহ আত্মসমর্পণ করে এবং রোমানদের ক্ষতিপূরণ দেয়।
[06:19] প্রথম পিউনিক যুদ্ধের
[06:21] ক্ষতিপূরণ দেয়।
[06:21] প্রথম পিউনিক যুদ্ধের সাফল্য রোমকে আরো আগ্রাসী করে তোলে।
[06:21] 16
[06:24] সাফল্য রোমকে আরো আগ্রাসী করে তোলে।
[06:24] 16 বছর স্থায়ী দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধে প্রথম
[06:26] বছর স্থায়ী দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধে প্রথম দিকে কার্তেজ ভালো অবস্থায় ছিল।
[06:26] কার্তেজে
[06:29] দিকে কার্তেজ ভালো অবস্থায় ছিল।
[06:29] কার্তেজে বিখ্যাত সেনাপতি হ্যানিবলের বাহিনী ইতালি
[06:31] বিখ্যাত সেনাপতি হ্যানিবলের বাহিনী ইতালি লুণঠন করে রোমকে কোণঠাসা করে ফেলে।
[06:31] কিন্তু
[06:34] লুণঠন করে রোমকে কোণঠাসা করে ফেলে।
[06:36] কিন্তু রোমানদের দেশপ্রেমের শক্তি ও বিখ্যাত রোম সেনাপতি সিপিও এর যোগ্য নেতৃত্বে রোম শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায় এবং ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে কার্টতেজ পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়।
[06:46] এরপর 149 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে রোমের সিনেট কার্তেজের নিকট দাবি পেশ করে যে কার্থেজিয়াদের মূল নগরী ছেড়ে সমুদ্র উপকূল থেকে 10 মাইল অভ্যন্তরে গিয়ে বসবাস করতে হবে।
[06:56] বাণিজ্য নির্ভর একটি জাতির জন্য এ দাবি ছিল মৃত্যুর সমান।
[06:59] তাই কারথেজ রোমের সিনেটের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
[07:03] ফলস্বরূপ তৃতীয় পিউনিক যুদ্ধ বেঁধে যায়।
[07:07] 149 খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে 146 খ্রিস্ট পূর্বাব্দ সময়কাল ব্যাপী এ যুদ্ধ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক ও বর্বরচিত।
[07:14] কার্তেজের অধিবাসীরা এক নিষ্ঠুর হত্যাযোগের শিকার হয় এবং তাদের সিংহভাগ নগর থেকে বিতাড়িত হয়।
[07:20] বন্দি কার্তেজীদের দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়।
[07:22] আর কার্তেজ হয়ে পড়ে রোমের একটি প্রদেশ।
[07:25] তবে খ্রিস্টপূর্ব 146 থেকে খ্রিষ্টপূর্ব 46 সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল রোমান ইতিহাসের দ্বন্দ সংঘাত ও কলহের যুগ।
[07:33] আর এই সময় ঘটেছিল ইতিহাসের অন্যতম চমকপ্রদ ঘটনা দাস
[07:36] ঘটেছিল ইতিহাসের অন্যতম চমকপ্রদ ঘটনা দাস বিদ্রোহ।
[07:39] প্রিয় দর্শক দাস বিদ্রোহ এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে জানার আগে আপনাদের একটা কনফিউশন ক্লিয়ার করি।
[07:43] তা হলো খ্রিস্টাব্দ ও খ্রিষ্টপূর্বাবদের মধ্যকার পার্থক্য।
[07:45] খেয়াল করে দেখুন আমি বলছি খ্রিষ্টপূর্ব 146 থেকে খ্রিষ্টপূর্ব 46 সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল রোমান ইতিহাসের দ্বন্দ সংঘাত ও কলহের যুগ।
[07:54] আমরা জানি যে দিনকে দিন সময় এবং সাল বাড়তে থাকে।
[07:57] যেমন একসময় ছিল 1930 সাল।
[08:00] তারপরে আসলো 1931 সাল।
[08:03] এভাবে বাড়তে বাড়তে 2025 সাল।
[08:07] এখানে সময়টা স্বাভাবিক নিয়মে বাড়ছে।
[08:08] কিন্তু যখন বললাম 146 খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে 46 খ্রিস্ট পূর্বাব্দ।
[08:12] এখানে সময়টা কমছে।
[08:14] এর ব্যাখ্যা কি?
[08:17] আসলে এখানে বোঝার বিষয় হচ্ছে যীশু খ্রিস্ট অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের সাল থেকে খ্রিস্টাব্দ বা সালের এই হিসাবটা করা হয়।
[08:23] তার জন্মের পূর্ববর্তী সময়কে বলা হয় খ্রিস্ট পূর্ব।
[08:25] আর পরবর্তী সময়কে বলা হয় খ্রিস্টাব্দ।
[08:27] আমি যদি বলি 146 খ্রিস্ট পূর্বাব্দ।
[08:30] তার মানে আমি যীশু খ্রিস্টের অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লামের জন্মের 146 বছর আগের কথা বলছি।
[08:32] আবার যদি বলি 570
[08:38] 146 বছর আগের কথা বলছি।
[08:38] আবার যদি বলি 570 খ্রিস্টাব্দ।
[08:40] তার মানে ঈসা আলাইহিস খ্রিস্টাব্দ।
[08:40] তার মানে ঈসা আলাইহিস সাল্লামের জন্মের 570 বছর পরের কথা বলছি।
[08:43] সাল্লামের জন্মের 570 বছর পরের কথা বলছি।
[08:43] কেউ ঈসা আলাইহি সাল্লামের 20 বছর আগে
[08:45] কেউ ঈসা আলাইহি সাল্লামের 20 বছর আগে পৃথিবীতে আসলে বা ওই সময় কোন ঘটনা ঘটে
[08:47] পৃথিবীতে আসলে বা ওই সময় কোন ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা বলব 20 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ওই
[08:50] থাকলে আমরা বলব 20 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ওই ঘটনা ঘটেছে বা অমুক ব্যক্তি জন্মগ্রহণ
[08:52] ঘটনা ঘটেছে বা অমুক ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছে।
[08:52] ইংরেজিতে খ্রিস্টাব্দ বুঝাতে এডি
[08:55] করেছে। ইংরেজিতে খ্রিস্টাব্দ বুঝাতে এডি বা এনোডমিনি বা সিই কমনীরা লেখা হয়।
[08:59] বা এনোডমিনি বা সিই কমনীরা লেখা হয়।
[08:59] আর খ্রিস্ট পূর্বাব্দ বোঝাতে বিসি বিবর
[09:01] খ্রিস্ট পূর্বাব্দ বোঝাতে বিসি বিবর ক্রাইস্ট বা বিসিই বিভবর কমন ইরা লেখা
[09:03] ক্রাইস্ট বা বিসিই বিভবর কমন ইরা লেখা হয়।
[09:03] তো এই ছিল খ্রিস্টাব্দ আর খ্রিষ্ট
[09:06] পূর্বাবদের মধ্যকার পার্থক্য।
[09:06] যাই হোক
[09:08] চলুন আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে যাই।
[09:10] চলুন আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে যাই।
[09:10] খ্রিষ্টপূর্ব 146 থেকে খ্রিষ্টপূর্ব 46
[09:14] খ্রিষ্টপূর্ব 146 থেকে খ্রিষ্টপূর্ব 46 সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল রোমান ইতিহাসের
[09:16] সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল রোমান ইতিহাসের দ্বন্দ সংঘাত ও কলহেরি যুগ।
[09:18] দ্বন্দ সংঘাত ও কলহেরি যুগ।
[09:18] আর এই সময়টাতে সংঘটিত হয়েছিল দাস বিদ্রোহ।
[09:21] সময়টাতে সংঘটিত হয়েছিল দাস বিদ্রোহ।
[09:21] যার নেতৃত্বে ছিল স্পার্ডটাকাস।
[09:23] নেতৃত্বে ছিল স্পার্ডটাকাস।
[09:23] স্পার্ডটাকাস ছিলেন মেসিডোনিয়ার উত্তরের থ্রেস রাজ্যের
[09:26] ছিলেন মেসিডোনিয়ার উত্তরের থ্রেস রাজ্যের বাসিন্দা।
[09:26] এপিয়ানের মতে তিনি রোমের
[09:28] বাসিন্দা। এপিয়ানের মতে তিনি রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বন্দী হন এবং দাস হিসেবে
[09:31] বিরুদ্ধে যুদ্ধে বন্দী হন এবং দাস হিসেবে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
[09:33] তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
[09:33] অন্য এক প্রাচীন ঐতিহাসিক ফ্লোরাস দাবি করেন
[09:35] প্রাচীন ঐতিহাসিক ফ্লোরাস দাবি করেন স্পার্ডটাকাস্ট ছিলেন রোমান মার্সিনারি।
[09:38] স্পার্ডটাকাস্ট ছিলেন রোমান মার্সিনারি।
[09:38] সেনাদল ত্যাগ করে দশ্যবৃত্তির অভিযোগে
[09:40] সেনাদল ত্যাগ করে দশ্যবৃত্তির অভিযোগে তাকে বন্দী করে দাসত্বে আবদ্ধ করা হয়।
[09:43] তাকে বন্দী করে দাসত্বে আবদ্ধ করা হয়।
[09:43] কেন এবং কিভাবে তিনি দাস হিসেবে বন্দী হন
[09:45] কেন এবং কিভাবে তিনি দাস হিসেবে বন্দী হন তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটা ব্যাপারে সবাই
[09:47] তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটা ব্যাপারে সবাই একমত ছিলেন যে স্পার্ডটাকাস দৈহিকভাবে
[09:50] একমত ছিলেন যে স্পার্ডটাকাস দৈহিকভাবে লম্বা ও শক্তিশালী ছিলেন।
[09:50] তার বুদ্ধিমত্তা
[09:52] লম্বা ও শক্তিশালী ছিলেন।
[09:52] তার বুদ্ধিমত্তা আর আচার আচরণও ছিল সাধারণ থেকে অনেক উঁচু
[09:55] আর আচার আচরণও ছিল সাধারণ থেকে অনেক উঁচু মানের।
[09:55] সেকালে শক্তসমর্থ দাসদের অনেকের
[09:59] মানের।
[09:59] সেকালে শক্তসমর্থ দাসদের অনেকের ঠিকানায় ছিল গ্লাডিয়েটর স্কুল।
[10:01] ঠিকানায় ছিল গ্লাডিয়েটর স্কুল।
[10:01] সেখানে প্রশিক্ষণের পরে তাদের পাঠানো হতো রুমে।
[10:03] প্রশিক্ষণের পরে তাদের পাঠানো হতো রুমে।
[10:03] এমপি থিয়েটারে হাজার হাজার হর্সৎপূর্ণ
[10:06] এমপি থিয়েটারে হাজার হাজার হর্সৎপূর্ণ রোমান নাগরিকের সামনে তারা নিজেরা নিজেরা
[10:08] রোমান নাগরিকের সামনে তারা নিজেরা নিজেরা অথবা হিংস্র পশুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো।
[10:11] অথবা হিংস্র পশুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো।
[10:11] রোমানদের জন্য এটি ছিল বিনোদনের অন্যতম
[10:13] রোমানদের জন্য এটি ছিল বিনোদনের অন্যতম উৎস।
[10:13] স্পার্ডটাকাসের শারীরিক সামর্থ্য
[10:16] উৎস।
[10:16] স্পার্ডটাকাসের শারীরিক সামর্থ্য দেখে ব্যাটিয়াস নামে এক গ্লাডিয়েটর
[10:18] দেখে ব্যাটিয়াস নামে এক গ্লাডিয়েটর প্রশিক্ষক তাকে কিনে নিলেন।
[10:19] প্রশিক্ষক তাকে কিনে নিলেন।
[10:19] স্পার্ডটাকাসের স্থান হলো কাপুয়ার এক
[10:21] স্পার্ডটাকাসের স্থান হলো কাপুয়ার এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।
[10:23] প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।
[10:23] এখানে নির্মম নির্যাতন আর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তার দিন
[10:26] নির্যাতন আর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তার দিন কাটতে থাকে।
[10:26] এক পর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে তার
[10:29] কাটতে থাকে।
[10:29] এক পর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে তার পরিকল্পনা মাপিক 200 বন্দি পালানোর
[10:31] পরিকল্পনা মাপিক 200 বন্দি পালানোর পরিকল্পনা করল।
[10:31] কিন্তু এই পরিকল্পনা ফাঁস
[10:33] পরিকল্পনা করল।
[10:33] কিন্তু এই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়।
[10:36] হয়ে যায়।
[10:36] স্পার্কার সহ 78 জন দাস
[10:36] স্পার্কার সহ 78 জন দাস রান্নাঘর থেকে ছুরি সংগ্রহ করে তাদের
[10:38] রান্নাঘর থেকে ছুরি সংগ্রহ করে তাদের প্রশিক্ষক আর মালিকদের হত্যা করে।
[10:38] এরপর
[10:41] প্রশিক্ষক আর মালিকদের হত্যা করে।
[10:43] এরপর শহর থেকে তারা গ্ল্যাডিয়েটরদের জন্য রাখা অস্ত্রশস্ত্র দখল করে পালিয়ে যায়।
[10:46] 73 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে তারা রোমের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহের ঘোষণা দেয়।
[10:48] তাদের সঙ্গে শহর থেকে অনেক পলাতক ক্রীতদাস যোগ দিয়েছিল।
[10:50] রোমান শাসকদের বিরুদ্ধে ক্রীতদাসদের বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
[10:54] এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব ছিলেন স্পার্ডটাকাস।
[10:56] দক্ষিণ ইতালিতে স্পারাডাকাস দুই বছর তার আধিপত্য বজায় রাখেন।
[10:59] স্পার্ডটাকাসের সেনাবাহিনী উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হল।
[11:01] তার আক্রমণের সংবাদ ভীত হয়ে রোমান সিনেট ক্রেসাসের অধীনে বিরাট সৈন্যদল সমবেত করেন।
[11:03] তারা স্পারাটাকাসের বাহিনীকে বাধা দিতে প্রস্তুত হলো।
[11:05] স্পার্ডটাকাস কিন্তু রোম আক্রমণ না করেই দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন।
[11:08] পতিমধ্যে রোমান বাহিনীর দু একটি দলের সাথে খন্ডযুদ্ধ হয়।
[11:10] তাদের পরাজিত করে স্পারাটাকাস বাহিনী শেষ পর্যন্ত ইতালির সর্বদক্ষিণ পশ্চিম কোণে এসে উপস্থিত হয়।
[11:12] তাদের উদ্দেশ্য ছিল সিসিলিতে গমন করা।
[11:15] কিন্তু জাহাজ যোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
[11:17] কাঠের ভেলায় সমুদ্র পার হওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
[11:19] ইতিমধ্যে ক্রেসাসের বাহিনী উপস্থিত হয়ে তাদের পথ রোধ করে দাঁড়ালো।
[11:22] নিরুপায় হয়ে স্পাডটাকাস যুদ্ধে লিপ্ত
[11:42] নিরুপায় হয়ে স্পাডটাকাস যুদ্ধে লিপ্ত হলেন রোমান বাহিনীর সাথে।
[11:47] খ্রিস্ট পূর্বাধ্যে তিনি নিহত হন।
[11:49] স্পার্ডটাকাস শেষ পর্যন্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করেন।
[11:51] রোমানরা শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধে তাদের প্রচুর ক্ষতি হয়।
[11:56] ইতিমধ্যে সেনাপতি পম্পের নেতৃত্বে রোমানদের আরেকটি বাহিনী বলকান উপদীক থেকে এসে পৌঁছায়।
[12:01] তারা মৃতবায় আহত কৃতদাসদের ধরে ধরে ক্রুশবিদ্ধ করে জুলিয়ে রাখে।
[12:07] বিদ্রোহের অগ্নি যেখানে প্রথম প্রজ্জ্বলিত হয় সেই কাপুয়া শহর থেকে রোম পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তার দু-ধারে খুঁটি পুতে এভাবে প্রায় 6000 ক্রীতদাসকে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো বিভীষিকা সৃষ্টির জন্য।
[12:19] যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো দাসা বিদ্রোহ করার চিন্তাও করতে না পারে।
[12:22] ক্রীতদাস প্রথার কুফলের কারণে রোমের সমাজ অর্থনীতি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।
[12:27] জেগে উঠেছিলেন দুই ভাই গ্রাকি ও গ্রাকাস।
[12:31] রোমের সিনেট দুই ভাইকে পর্যায়ক্রমে মৃত্যুদন্ড দেয়।
[12:34] দাস বিদ্রোহের পরও রোম তার সাম্রাজ্যবাদী নীতি চালিয়ে যেতে লাগল।
[12:39] খ্রিষ্টপূর্ব 111 সালে উত্তর আফ্রিকার নুমিডিয়া রাজ্যের রাজা যুগার্ধারের বিরুদ্ধে রোম যুদ্ধে লিপ্ত
[12:43] যুগার্ধারের বিরুদ্ধে রোম যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
[12:46] রাজ্যের নানা প্রান্তেই রোম তার সেনাবাহিনী পাঠালো বিদ্রোহ দমন করার জন্য।
[12:51] সামরিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে অগ্রগণ্য মারিয়াস তার সেনাবাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতার শীর্ষে উঠেন।
[12:56] খ্রিষ্টপূর্ব 88 সালে সুলা রোমের কনসাল নিযুক্ত হন এবং রোম এক রক্তকয় গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়।
[13:01] ঠিক সেই সময় এশিয়ার মাইনর ও গ্রিসে রোমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়।
[13:06] সুলা এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে রোমকে শক্তিশালী করেন।
[13:11] ঠিক এই সময়ে মারিয়াসের দল পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ক্ষমতা দখল করেন।
[13:14] সূলার অধীনস্থ সৈন্যদল বিপুল বিক্রমে রোমে প্রবেশ করল এবং ইতিহাসে অতুলনীয় নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সূচনা করল।
[13:22] সুলা তার বিরুদ্ধাচারীদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের নির্মমভাবে হত্যার নির্দেশ দেন এবং হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করার সংকল্প ঘোষণা করেন।
[13:29] ইতালি, সিচেরি, স্পেন এবং আফ্রিকাতে এভাবে লক্ষ লক্ষ নাগরিককে সূরার শত্রুর রূপে চিহ্নিত করে হত্যা করা হলো।
[13:37] রোমের সিনেট সূলার সমস্ত কার্যকলাপকেই অনুমোদন দান করে তাকে রোমের একনায়ক রূপে বহাল করল।
[13:43] সূলা এবং মারিয়াসের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ হলো
[13:45] সূলা এবং মারিয়াসের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ হলো রোমান গৃহযুদ্ধের প্রথম পর্ব।
[13:48] এবার আসা যাক গৃহযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বে।
[13:50] এ পর্বের মূল চরিত্র হলো জুলিয়াস সিজার আর পম্পে।
[13:54] স্পারাটাকাসের দাস-বিদ্রোহ যখন নির্মম হাতে দমন করা হচ্ছিল ঠিক সে সময় চলছিল রোমের গৃহযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব।
[13:58] রোমের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক অধিনায়ক পম্পে এবং সিজার ক্ষমতার ধ্বন্দে একে অপরের বিরুদ্ধে চাপিয়ে পড়লেন।
[14:06] এ সময় সিরিয়া ও প্যালেস্টাইন বিজয়ের জন্য পম্পের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।
[14:10] অপরদিকে গলের অর্থাৎ বর্তমান ফ্রান্সের গভর্নর হিসেবে নিযো জুলিয়া সিজার আধুনিক বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে রোমের সঙ্গে যুক্ত করতে গৌরবপূর্ণ সামরিক দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন।
[14:20] সুলার পতনের পর মূলত 68 খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ থেকে রোমের এক নায়ক হিসেবে পম্পের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল।
[14:26] তবে 52 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে প্রথম রোমের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করার জন্য সিনেট পম্পেকে একমাত্র কনসাল হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকার প্রদান করেন।
[14:35] জুলিয়াস সিজারকে রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষমতাহীন করার জন্য পম্পে সিনেটের এক অংশের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
[14:45] অংশের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
[14:45] ফলে পম্পে ও সিজারের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যায়।
[14:48] পম্পে ও সিজারের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যায়।
[14:51] সিজার 49 খ্রিস্টাব্দে রুবিকন অতিক্রম করে রুমের দিকে যাত্রা শুরু করেন।
[14:53] ইতালির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সৈন্য সমাবেশ করা হয়।
[14:55] নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সৈন্য সমাবেশ করা হয়।
[14:58] 48 খ্রিস্টাব্দে দুই নেতার মুখোমুখি সংঘর্ষে পম্পের পরাজয় ঘটে।
[15:01] কিছুকাল পরে মিশরের রাজার নিয়োজিত চরদের হাতে পম্পের মৃত্যু ঘটে।
[15:04] মিশরের রাজার নিয়োজিত চরদের হাতে পম্পের মৃত্যু ঘটে।
[15:06] রোমান প্রজাতন্ত্রের এক নায়ক হিসেবে 46 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজার প্রতিষ্ঠিত হন।
[15:09] হিসেবে 46 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজার প্রতিষ্ঠিত হন।
[15:12] শুরু থেকেই রোমকে তিনি এক ব্যক্তির শাসনাধীনে পরিণত করেন।
[15:14] তিনি এক ব্যক্তির শাসনাধীনে পরিণত করেন।
[15:16] তিনি পারস্য সম্রাট দারিউসের অনুকরণে তার প্রশাসন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করেন।
[15:19] প্রশাসন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করেন।
[15:21] মহান আলেকজান্ডারও পারস্য প্রশাসনকে অনুসরণ করেছিলেন।
[15:24] করেছিলেন। রোম মুখ্যত আলেকজান্ডারের দ্বারায় প্রভাবিত হয়েছিল।
[15:26] দ্বারায় প্রভাবিত হয়েছিল। জুলিয়া সিজার বিশাল রোম সাম্রাজ্যের জনসাধারণের অবস্থার
[15:29] বিশাল রোম সাম্রাজ্যের জনসাধারণের অবস্থার উন্নতি করার পক্ষেই এই পুনর্গঠন প্রচেষ্টা
[15:31] উন্নতি করার পক্ষেই এই পুনর্গঠন প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন।
[15:34] সকল রোমান ও সাম্রাজ্যে বসবাসরত জার্মান বর্বরদের পূর্ণ নাগরিকত্ব
[15:36] বসবাসরত জার্মান বর্বরদের পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদান করেন তিনি।
[15:39] প্রদান করেন তিনি। সিনেটের প্রতিনিধিদের সংখ্যা বাড়িয়ে 300 থেকে 900 তে উন্নীত
[15:41] সংখ্যা বাড়িয়ে 300 থেকে 900 তে উন্নীত করেন।
[15:43] করেন। আমরা যে আজকের ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি তা অনেকটা জুলিয়াস সিজারের
[15:46] অনুসরণ করি তা অনেকটা জুলিয়াস সিজারের অবদান।
[15:48] গ্রিক জ্যোতির্বিদ্দের সাহায্যে সিজার রোমান পঞ্জিকার সংশোধন করেন।
[15:51] নাগরিকদের মধ্যে শস্য বন্টনে তিনি অমিতবাহিতা রোধ করার জন্য প্রকৃত দোস্তদের তালিকা তৈরি করেন।
[15:55] সমগ্র সাম্রাজ্য জুড়ে খাস জমি গৃহহীন নাগরিকদের মধ্যে বন্টন করা হয়।
[16:00] যদিও জুলিয়াস সিজার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
[16:03] তবুও রোমের প্রজাতন্ত্রীরা এক ব্যক্তির শাসনকে মানতে পারেননি।
[16:05] খ্রিষ্টপূর্ব 44 সালে প্রজাতন্ত্রপন্থী অভিজাত্যদের একটি দল সিজারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
[16:10] যেখানে সিজারের বন্ধু ও আস্থাভাজন ব্রুটাস ও ক্র্যাসিয়াস অন্যতম।
[16:14] তাদের নেতৃত্বে সিনেটের একটি অধিবেশনে সিজারকে 23 বার ছুরিকাগাতে হত্যা করা হয়।
[16:16] এক নায়ক তন্ত্রের প্রতিভূ হলেও জুলিয়াস সিজার ইতিহাসে খ্যাতিমান হয়ে আছেন।
[16:19] আজকের ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে তিনি রোমান শাসনে নিয়ে এসেছিলেন।
[16:21] তিনি একাধারে রোমের কন্সাল, রাজস্ব সচিব, বিচারক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রের প্রধান ছিলেন।
[16:24] জুলিয়া সিজারের হত্যাকাণ্ড রোমকে আরেকবার গৃহযুদ্ধের দিকে নিক্ষেপ করে।
[16:26] সিজারকে হত্যা করে ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াস রোমের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন।
[16:28] কিন্তু রোমের জনসাধারণ সিজারের
[16:47] কিন্তু রোমের জনসাধারণ সিজারের মৃত্যুতে এতখানি শোকাভূত হয়ে পড়ে যে
[16:49] মৃত্যুতে এতখানি শোকাভূত হয়ে পড়ে যে ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াস ভীত হয়ে রোম ছেড়ে
[16:52] ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াস ভীত হয়ে রোম ছেড়ে পালিয়ে যান।
[16:54] পালিয়ে যান। রোমে আবারও অভিযাত্রা ক্ষমতা
[16:56] দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু জুলিয়াস সিজারের তিনজন অনুসারীর কাছে তারা পরাজিত
[16:59] সিজারের তিনজন অনুসারীর কাছে তারা পরাজিত হয়।
[17:02] হয়। এই তিনজন হলেন সিজারের দত্তক পুত্র অক্টাভিয়ান, বন্ধু মার্ক অন্টনি এবং
[17:04] অক্টাভিয়ান, বন্ধু মার্ক অন্টনি এবং লেভিডাস।
[17:07] লেভিডাস। তিনজনের মৃত শাসন ইতিহাসে ত্রয়ী
[17:10] শাসন নামে পরিচিত। থ্রোই শাসকদের প্রধান
[17:12] কাজ ছিল জুলিয়া সিজারের হত্যাকাণ্ডের
[17:13] সাথে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে
[17:16] শাস্তি দেওয়া। সিজারের খুনি ব্রুটাস এবং
[17:18] ক্যাসিয়াস যারা রোমের প্রজাতন্ত্রের
[17:20] পুনরুদ্ধারের দাবি করেছিলেন তারা সিজারের
[17:22] সমর্থকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে
[17:24] এবং পরাজিত হয়। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে
[17:26] ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াস উভয়ে আত্মহত্যা
[17:29] করলেন। সংঘটিত হওয়া এই গৃহযুদ্ধটি
[17:31] ইতিহাসে ব্যাটেল অফ ফিলিপি বা ফিলিপি
[17:34] যুদ্ধা নামে পরিচিত। ফিলিপি যুদ্ধে সাফল্য
[17:37] লাভের পর অক্টেভিয়ান রোমে ফিরে এলেন।
[17:38] অল্পকালের মধ্যে অক্ট্রিবিয়ান সমগ্র
[17:40] রোমের উপর নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
[17:42] প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
[17:46] রোমের শাসন থেকে লেপিডাসের পতন ঘটে। এদিকে
[17:48] মার্ক অন্টনি গ্রিস ও এশিয়া মাইনরের দিকে অগ্রসর হলেন সেখানকার অবস্থাকে
[17:50] অগ্রসর হলেন সেখানকার অবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নিজের আয়ত্তে আনার
[17:52] সম্পূর্ণভাবে নিজের আয়ত্তে আনার উদ্দেশ্যে। মিশর উপস্থিত হয়ে তিনি
[17:54] উদ্দেশ্যে। মিশর উপস্থিত হয়ে তিনি ক্লিওপেট্রার সাক্ষাৎ পেলেন। ক্লিওপেট্রার
[17:57] ক্লিওপেট্রার সাক্ষাৎ পেলেন। ক্লিওপেট্রার উপাধি হলো সারপেন্ট অফ দ নাইল বা নীলনদের
[18:00] উপাধি হলো সারপেন্ট অফ দ নাইল বা নীলনদের সর্প। প্রাচ্যের সুন্দরী রূপে মুগ্ধ হয়ে
[18:02] সর্প। প্রাচ্যের সুন্দরী রূপে মুগ্ধ হয়ে অন্টনি নিজ কর্তব্য সম্পর্কে ভুলে গেলেন।
[18:04] অন্টনি নিজ কর্তব্য সম্পর্কে ভুলে গেলেন। দিনের পর দিন মিশরের রাজপ্রাসাদের বিলাস
[18:07] দিনের পর দিন মিশরের রাজপ্রাসাদের বিলাস ব্যাসনের মধ্যে অন্টনির দিন কাটতে লাগলো।
[18:10] ব্যাসনের মধ্যে অন্টনির দিন কাটতে লাগলো। এদিকে অন্টনি শত্রুরা রোমে প্রচার করতে
[18:12] এদিকে অন্টনি শত্রুরা রোমে প্রচার করতে লাগল যে অন্টনি মিশরের আলেকজান্ড্রিয়া
[18:14] লাগল যে অন্টনি মিশরের আলেকজান্ড্রিয়া নগরীকেই রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানীতে
[18:16] নগরীকেই রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত করতে চান। এদিকে অক্টেভিয়ান এই
[18:19] পরিণত করতে চান। এদিকে অক্টেভিয়ান এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন। তিনি সিনেটকে
[18:22] সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন। তিনি সিনেটকে নির্দেশ দিলেন অন্টনিকে প্রাচ্যের
[18:23] নির্দেশ দিলেন অন্টনিকে প্রাচ্যের শাসনকর্তার পদ থেকে বিচ্যুত করতে।
[18:26] শাসনকর্তার পদ থেকে বিচ্যুত করতে। অক্টেভিয়ান এরপর অন্টনির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
[18:28] অক্টেভিয়ান এরপর অন্টনির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। অন্টনি ও যুদ্ধের জন্য
[18:30] ঘোষণা করেন। অন্টনি ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। মিশরীয় সৈন্যবাহিনী
[18:32] প্রস্তুত হলেন। মিশরীয় সৈন্যবাহিনী অন্টনিকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা করল।
[18:35] অন্টনিকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা করল। গ্রীজের পশ্চিম তীরে একটিয়াম নামক স্থানে
[18:37] গ্রীজের পশ্চিম তীরে একটিয়াম নামক স্থানে উভয়ের মধ্যে বিরাট নৌ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
[18:39] উভয়ের মধ্যে বিরাট নৌ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখে
[18:41] যুদ্ধে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখে ক্লিওপেট্রা তার যুদ্ধজাহাজ নিয়ে পালিয়ে
[18:43] ক্লিওপেট্রা তার যুদ্ধজাহাজ নিয়ে পালিয়ে গেলেন। অন্টনিও ক্লিওভেট্রার সাথে পালিয়ে
[18:46] গেলেন। অন্টনিও ক্লিওভেট্রার সাথে পালিয়ে গেলেন। পরাজিত বিধ্বস্ত মিশরীয় নৌ বাহিনীর
[18:49] পরাজিত বিধ্বস্ত মিশরীয় নৌ বাহিনীর অবশিষ্টাংশ অক্বিয়ানের নিকট আত্মসমর্পণ করলেন।
[18:51] অবশিষ্টাংশ অক্বিয়ানের নিকট আত্মসমর্পণ করল।
[18:54] পরাজয়ের সংবাদে অন্টনিও ক্লিপেটরা উভয় আত্মহত্যা করল।
[18:57] অতঃপর মিশর এখন থেকে রোমান সাম্রাজ্যভুক্ত হল।
[19:00] মার্ক এন্টনির মৃত্যুর পর থেকেই রোমের গৃহযুদ্ধের অবসান হল।
[19:02] এরই সঙ্গে অক্টোভিয়ান সিজার সমগ্র রোমান সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হন।
[19:07] রোমান সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হন।
[19:09] সিনেটের অনুমোদন নিয়ে অক্টেভিয়ান অগস্টাস সিজার নাম ধারণ করে প্রথম রোমান সম্রাট হিসেবে ক্ষমতায় আরোহণ করেন।
[19:13] সম্রাট হিসেবে ক্ষমতায় আরোহণ করেন।
[19:15] যার মধ্য দিয়ে রোমান সাম্রাজ্যের ভিত তৈরি হলো।
[19:18] শুরু হলো রোম সাম্রাজ্যের শাসন।
[19:20] রোমান সিনেট তাকে অগাস্টাস অর্থাৎ সম্মানিত সম্রাট উপাধিতে ভূষিত করেন।
[19:22] সম্মানিত সম্রাট উপাধিতে ভূষিত করেন।
[19:25] এরপরের সকল রোমান সম্রাটই নিজেদের অগস্টাস সিজার বলে পরিচয় দিতেন।
[19:28] জুলিয়াস সিজার প্রবর্তিত কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা অগস্টা সিজার অব্যাহত রাখেন।
[19:32] অগাস্টা সিজার আইনের ক্ষেত্রে সাম্যান করেন এবং সকল প্রজাসাধারণকে নাগরিক অধিকার দান করেন।
[19:37] সকল প্রজাসাধারণকে নাগরিক অধিকার দান করেন।
[19:40] রাষ্ট্রের শান্তি শৃঙ্খলা বিধানের জন্য তিনি অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
[19:42] অগস্ট সিজারের সময় রোমে ল্যাটিন ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ঘটে এবং উন্নতি সাধিত হয়।
[19:47] ল্যাটিন ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা
[19:49] ল্যাটিন ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়।
[19:51] ফলে সমগ্র রোমের অধিবাসীদের মধ্যে এ ভাষা চর্চা করতে হয়।
[19:54] ল্যাটিন ভাষা থেকে উন্নতি ঘটিয়েই আধুনিক জার্মান, ফরাসি, স্প্যানিশ, ইংরেজি প্রকৃতি ভাষা নিজস্ব রূপ লাভ করে।
[19:59] প্রিয় দর্শক, এই ছিল রোমানদের ধারাবাহিক ইতিহাস।
[20:02] এবার আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি রোমানদের ধর্ম এবং কিভাবে প্যাগান থেকে তারা খ্রিষ্ট ধর্মের প্রতি যুগে ছিল এ ব্যাপারে।
[20:10] প্রাথমিক যুগে অর্থাৎ প্রথম আট শত বছর রোমানরা ছিল প্যাগান তথা পৌত্তলিক।
[20:14] তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও কল্পকাহিনী ছিল মূলত রোমান মিথোলজিকে কেন্দ্র করে।
[20:17] আর এই রোমান মিথোলজি আবির্ভূত হয় গ্রিক মিথোলজির প্রভাবে।
[20:22] রোমানরা গ্রিক দেবতাদের নিজেদের মত করে গ্রহণ করেছিল।
[20:24] এবং তাদের নতুন নাম ও বৈশিষ্ট্য দিয়েছিল।
[20:27] রোমানদের প্রধান দেবতাদের মধ্যে ছিলেন জুপিটার।
[20:30] যিনি ছিলেন দেবতাদের রাজা এবং আকাশ ও বজ্রের দেবতা।
[20:35] যে ছিল গ্রিক দেবতা জিউসের সমতুল্য।
[20:38] তার স্ত্রী ছিল জুনো যিনি ছিলেন দেবী এবং বিবাহ ও নারীদের রক্ষা কর্তৃক দেবী হেরার মত আরেক গুরুত্বপূর্ণ দেবতা ছিলেন নেপচুন
[20:50] মত আরেক গুরুত্বপূর্ণ দেবতা ছিলেন নেপচুন যিনি সমুদ্রের দেবতা গ্রিক দেবতা
[20:52] যিনি সমুদ্রের দেবতা গ্রিক দেবতা প্রোসাইডেনের মত এছাড়াও রোমানরা মঙ্গল
[20:55] প্রোসাইডেনের মত এছাড়াও রোমানরা মঙ্গল গ্রহের দেবতা মার্সকে যুদ্ধ ও কৃষির দেবতা
[20:58] গ্রহের দেবতা মার্সকে যুদ্ধ ও কৃষির দেবতা হিসেবে পূজা করত প্রেমের দেবী ছিলেন ভেনাস
[21:01] হিসেবে পূজা করত প্রেমের দেবী ছিলেন ভেনাস জ্ঞানের দেবী ছিলেন মিনারভা রোমান
[21:04] জ্ঞানের দেবী ছিলেন মিনারভা রোমান মেথোলজিতে দেবতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন
[21:06] মেথোলজিতে দেবতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পৌরাণিক জীব ও চরিত্রের উল্লেখ পাওয়া
[21:08] পৌরাণিক জীব ও চরিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায় যেমন ফাউন্ড নিমফ এবং বিভিন্ন
[21:11] যায় যেমন ফাউন্ড নিমফ এবং বিভিন্ন স্থানীয় আত্মার পূজা। রোমানরা তাদের
[21:13] স্থানীয় আত্মার পূজা। রোমানরা তাদের দৈনন্দিন জীবন এবং প্রকৃতির বিভিন্ন দিক
[21:16] দৈনন্দিন জীবন এবং প্রকৃতির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করার জন্য এই মিথগুলো ব্যবহার
[21:18] ব্যাখ্যা করার জন্য এই মিথগুলো ব্যবহার করত। বিভিন্ন উৎসব ও আচার অনুষ্ঠানের
[21:21] করত। বিভিন্ন উৎসব ও আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা দেবতাদের সম্মান জানাতো এবং
[21:23] মাধ্যমে তারা দেবতাদের সম্মান জানাতো এবং তাদের আশীর্বাদ কামনা করত। রোমান মিথোলজি
[21:26] তাদের আশীর্বাদ কামনা করত। রোমান মিথোলজি কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল না। এটি ছিল
[21:28] কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল না। এটি ছিল তাদের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও শিল্পের একটি
[21:31] তাদের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দীর্ঘদিনের এই
[21:33] গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দীর্ঘদিনের এই প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতিতে ফাটল ধরা শুরু হয়
[21:36] প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতিতে ফাটল ধরা শুরু হয় যীশুখ্রীষ্টের আবির্ভাবের পর। অগস্টা
[21:38] যীশুখ্রীষ্টের আবির্ভাবের পর। অগস্টা সিজারের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
[21:40] সিজারের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে খ্রিস্ট ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা যীশু
[21:42] হচ্ছে খ্রিস্ট ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা যীশু খ্রিস্টের জন্মলাভ। শুরুতে খ্রিস্ট ধর্মের
[21:45] খ্রিস্টের জন্মলাভ। শুরুতে খ্রিস্ট ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়
[21:47] সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয় রোম। কেননা যীশুখ্রীষ্টের একত্ববাদের
[21:49] রোম। কেননা যীশুখ্রীষ্টের একত্ববাদের শিক্ষা ছিল রোমান বহু ঈশ্বরবাদের সাথে
[21:51] শিক্ষা ছিল রোমান বহু ঈশ্বরবাদের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এছাড়া তার প্রচারিত
[21:54] পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এছাড়া তার প্রচারিত সাম্য ও ইনসাফের শিক্ষা বোগবাদে বিশ্বাসী
[21:57] সাম্য ও ইনসাফের শিক্ষা বোগবাদে বিশ্বাসী অত্যাচারী রোমান সাম্রাজ্যের মস্তদ
[21:59] অত্যাচারী রোমান সাম্রাজ্যের মস্তদ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাই প্রাথমিক যুগের
[22:01] কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাই প্রাথমিক যুগের খ্রিস্টানদের উপর অমানসিক অত্যাচার করতে
[22:03] খ্রিস্টানদের উপর অমানসিক অত্যাচার করতে থাকে রোমানরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাধারণ
[22:05] থাকে রোমানরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হতে থাকে
[22:08] মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হতে থাকে যীশুখ্রীষ্টের প্রচারিত ধর্ম। একসময়
[22:10] যীশুখ্রীষ্টের প্রচারিত ধর্ম। একসময় সর্বস্তরে এমনকি উচ্চ পর্যায়েও
[22:12] সর্বস্তরে এমনকি উচ্চ পর্যায়েও খ্রিষ্টধর্ম প্রভাব বিস্তার করতে শুরু
[22:14] খ্রিষ্টধর্ম প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। খ্রিষ্টধর্মের উপর প্রথম আঘাত হানেন
[22:17] করে। খ্রিষ্টধর্মের উপর প্রথম আঘাত হানেন উন্মাদ রোম সম্রাট নিরো। 66 সালে রোম
[22:20] উন্মাদ রোম সম্রাট নিরো। 66 সালে রোম নগরীতে ভয়াবহ আগুন লাগে। সে আগুন লাগার
[22:22] নগরীতে ভয়াবহ আগুন লাগে। সে আগুন লাগার ঘটনায় নীরো কিছুই করতে পারেনি। উল্টো দোষ
[22:25] ঘটনায় নীরো কিছুই করতে পারেনি। উল্টো দোষ দেয় নিরীহ কিছু মুষ্টিমেয় খ্রিস্টানদের।
[22:27] দেয় নিরীহ কিছু মুষ্টিমেয় খ্রিস্টানদের। খ্রিস্টানদের সম্পত্তি বাজাপ্ত করেন তিনি।
[22:29] খ্রিস্টানদের সম্পত্তি বাজাপ্ত করেন তিনি। এমনকি আগুন দিয়ে খ্রিস্টানদের জীবন্ত
[22:31] এমনকি আগুন দিয়ে খ্রিস্টানদের জীবন্ত পুড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। রোমানরা ছিল
[22:33] পুড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। রোমানরা ছিল বিভিন্ন দেব দেবীর পূজারী। খ্রিস্টানদের
[22:35] বিভিন্ন দেব দেবীর পূজারী। খ্রিস্টানদের তিপাদকে রোমানরা তাদের দেব দেবীর উপর
[22:38] তিপাদকে রোমানরা তাদের দেব দেবীর উপর অসম্মান বলে গণ্য করত। সে সময় খ্রিস্টান
[22:40] অসম্মান বলে গণ্য করত। সে সময় খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার ছিল মারাত্মক এক অপরাধ।
[22:43] ধর্মের প্রচার ছিল মারাত্মক এক অপরাধ। খ্রিস্টানদের উপর সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতন
[22:45] খ্রিস্টানদের উপর সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে সম্রাট ডায়াকলেটিয়ানের সময়।
[22:47] নেমে আসে সম্রাট ডায়াকলেটিয়ানের সময়। 284 সালে তিনি সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন
[22:50] 284 সালে তিনি সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন একজন ধর্মান্ধ। 303 সালে তিনি
[22:53] একজন ধর্মান্ধ। 303 সালে তিনি খ্রিস্টানদের সব সম্পত্তি বাজাপ্ত করার
[22:54] খ্রিস্টানদের সব সম্পত্তি বাজাপ্ত করার আদেশ জারি করেন। সমস্ত বিষব ও খ্রিস্টান
[22:57] আদেশ জারি করেন। সমস্ত বিষব ও খ্রিস্টান পুরোহিতদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন।
[22:59] পুরোহিতদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন। ঘোর দুর্দিন নেমে আসে রোমান সাম্রাজ্যের
[23:01] ঘোর দুর্দিন নেমে আসে রোমান সাম্রাজ্যের খ্রিস্টানদের উপর। খুব আশ্চর্যের ব্যাপার
[23:04] খ্রিস্টানদের উপর। খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সম্রাট ডায়াকলিশিনের এরকম নির্মমতার
[23:06] হলো সম্রাট ডায়াকলিশিনের এরকম নির্মমতার পরেই রোমান সম্রাট হয়ে আসেন
[23:08] পরেই রোমান সম্রাট হয়ে আসেন কনস্ট্যান্টাইন। 313 সালে খ্রিস্টান
[23:11] কনস্ট্যান্টাইন। 313 সালে খ্রিস্টান ধর্মকে তিনি রোমান সাম্রাজ্যের রাজকীয়
[23:13] ধর্মকে তিনি রোমান সাম্রাজ্যের রাজকীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই
[23:15] ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই খ্রিস্টান অনুসারীদের সংখ্যা জ্যামিতিক
[23:17] খ্রিস্টান অনুসারীদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। আজকের ব্রিটেন,
[23:19] হারে বাড়তে থাকে। আজকের ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন সহ পুরো উত্তর ও মধ্য
[23:21] ফ্রান্স, স্পেন সহ পুরো উত্তর ও মধ্য ইউরোপ রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।
[23:24] ইউরোপ রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। তুরস্ক সহ এশিয়ার মাইনর উত্তর আফ্রিকার
[23:26] তুরস্ক সহ এশিয়ার মাইনর উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ ভূভাগ জুড়ে রোমানদের
[23:28] বিস্তীর্ণ ভূভাগ জুড়ে রোমানদের পৃষ্ঠপোষকতায় খ্রিস্টান ধর্ম ছড়িয়ে
[23:30] পৃষ্ঠপোষকতায় খ্রিস্টান ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় দশকে রোমান
[23:32] পড়ে। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় দশকে রোমান সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি বিশালকার ধারণ করে।
[23:35] সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি বিশালকার ধারণ করে। তাই 285 খ্রিস্টাব্দে শাসনকার্যের সুবিধার
[23:38] তাই 285 খ্রিস্টাব্দে শাসনকার্যের সুবিধার জন্য রোমান সম্রাট ডায়োক্কলেটিয়ান
[23:40] জন্য রোমান সম্রাট ডায়োক্কলেটিয়ান সাম্রাজ্যকে ইস্টার্ন ওয়েস্টার্ন
[23:42] সাম্রাজ্যকে ইস্টার্ন ওয়েস্টার্ন এম্পায়ারে বিভক্ত করে। ওয়েস্টার্ন
[23:43] এম্পায়ারে বিভক্ত করে। ওয়েস্টার্ন এম্পায়ারের রাজধানী প্রাচীন রোমে বহাল
[23:46] এম্পায়ারের রাজধানী প্রাচীন রোমে বহাল রাখা হয়। আর ইস্টার্ন জোনের রাজধানী
[23:48] রাখা হয়। আর ইস্টার্ন জোনের রাজধানী ঘোষণা করা হয় বর্তমান তুরস্কের
[23:50] ঘোষণা করা হয় বর্তমান তুরস্কের বাইজান্টিয়ামে। তাই নব্য প্রতিষ্ঠিত
[23:52] বাইজান্টিয়ামে। তাই নব্য প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন এম্পায়ারের রাজধানীর নামানুসারে
[23:54] ইস্টার্ন এম্পায়ারের রাজধানীর নামানুসারে বাইজান্টাইন এম্পায়ারের নাম পরিচিতি লাভ
[23:56] বাইজান্টাইন এম্পায়ারের নাম পরিচিতি লাভ করে। তবে পুরাতন শহর বাইজেন্টিয়ামের
[23:59] করে। তবে পুরাতন শহর বাইজেন্টিয়ামের অদূরেই আরেকটি অধিক সুরক্ষিত প্রশাসনিক
[24:01] অদূরেই আরেকটি অধিক সুরক্ষিত প্রশাসনিক নগর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে
[24:03] নগর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সম্রাট কনস্টান্টাইন 330 খ্রিস্টাব্দে
[24:06] সম্রাট কনস্টান্টাইন 330 খ্রিস্টাব্দে কনস্টান্টিনাপল শহরে গোড়াপত্তন করেন।
[24:08] কনস্টান্টিনাপল শহরে গোড়াপত্তন করেন। এদিকে বিভক্ত হওয়া দুই শতাব্দীর মধ্যেই
[24:11] এদিকে বিভক্ত হওয়া দুই শতাব্দীর মধ্যেই ওয়েস্টার্ন রোমান এম্পায়ার হানগদ ও
[24:13] ওয়েস্টার্ন রোমান এম্পায়ার হানগদ ও ভ্যান্ডালদের মুহুর মুহুর আক্রমণের শিকার
[24:15] ভ্যান্ডালদের মুহুর মুহুর আক্রমণের শিকার হয়ে ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে। রোমানদের
[24:18] হয়ে ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে। রোমানদের কাছে এরা পরিচিত ছিল দ বারবারিয়ান নামে।
[24:21] কাছে এরা পরিচিত ছিল দ বারবারিয়ান নামে। বারবারিয়ানদের লুটতরাজের মুখে বিলীন হতে
[24:23] বারবারিয়ানদের লুটতরাজের মুখে বিলীন হতে থাকে রোমের শান সৌকত। অবশেষে 476
[24:26] থাকে রোমের শান সৌকত। অবশেষে 476 খ্রিস্টাব্দে বিলুপ্ত হয়ে যায়
[24:28] খ্রিস্টাব্দে বিলুপ্ত হয়ে যায় ওয়েস্টার্ন রোমান এম্পায়ার। তখন থেকেই
[24:31] ওয়েস্টার্ন রোমান এম্পায়ার। তখন থেকেই রোমান সাম্রাজ্য বলতে বোঝাতো শুধু
[24:33] রোমান সাম্রাজ্য বলতে বোঝাতো শুধু বাইজেটাইন সাম্রাজ্যকে। যার রাজধানী ছিল
[24:35] বাইজেটাইন সাম্রাজ্যকে। যার রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপলে। অর্থাৎ রোমের অভিবাষী না
[24:38] কনস্টান্টিনোপলে। অর্থাৎ রোমের অভিবাষী না হয়েও রোমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারকবাহক
[24:41] হয়েও রোমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারকবাহক হওয়ায় বাইজেটাইনরা রোমান হিসেবে পরিচিত
[24:43] হওয়ায় বাইজেটাইনরা রোমান হিসেবে পরিচিত ছিল। বাইজেটাইন এম্পায়ার খুব অল্প সময়ের
[24:46] ছিল। বাইজেটাইন এম্পায়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে গেল। রাজ্য
[24:48] মধ্যে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে গেল। রাজ্য বিস্তার নিয়ে তাদের ঘোর প্রতিদ্বন্দী ছিল
[24:50] বিস্তার নিয়ে তাদের ঘোর প্রতিদ্বন্দী ছিল তখনকার পারস্য সাম্রাজ্য। ইসলাম আগমনের
[24:53] তখনকার পারস্য সাম্রাজ্য। ইসলাম আগমনের আগে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে একে অপরের
[24:55] আগে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে একে অপরের সাথে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত ছিল বাইজান্টাইন
[24:57] সাথে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত ছিল বাইজান্টাইন রোমান ও পার্শিয়ানরা। ইসলামের উত্থানের
[25:00] রোমান ও পার্শিয়ানরা। ইসলামের উত্থানের যুগে মিশর দখল নিয়ে রোমান ও
[25:02] যুগে মিশর দখল নিয়ে রোমান ও পার্শিয়ানদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দীতা
[25:04] পার্শিয়ানদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দীতা চলছিল। আরবের শুকনো অনর্বর মরুভূমির প্রতি
[25:07] চলছিল। আরবের শুকনো অনর্বর মরুভূমির প্রতি রোমান বা পার্শিয়ান কারোরই কোন বিশেষ
[25:09] রোমান বা পার্শিয়ান কারোরই কোন বিশেষ আগ্রহ ছিল না। তাই ইসলামের প্রাথমিক
[25:11] আগ্রহ ছিল না। তাই ইসলামের প্রাথমিক উত্থান পর্বে মুসলমানদের খুব একটা আমলে
[25:13] উত্থান পর্বে মুসলমানদের খুব একটা আমলে নেয়নি পার্শিয়ান বা রোমানরা। তবে মক্কা
[25:16] নেয়নি পার্শিয়ান বা রোমানরা। তবে মক্কা বিজয়ের এক বছর আগে মুসলমানদের সাথে প্রথম
[25:19] বিজয়ের এক বছর আগে মুসলমানদের সাথে প্রথম যুদ্ধবাদে রোমানদের। সে সময় রোমান সম্রাট
[25:22] যুদ্ধবাদে রোমানদের। সে সময় রোমান সম্রাট ছিলেন হেরাক্লিয়াস। জাজিরাতুল আরবের
[25:25] ছিলেন হেরাক্লিয়াস। জাজিরাতুল আরবের উত্তরে জর্ডানে অবস্থান ছিল রোমান
[25:27] উত্তরে জর্ডানে অবস্থান ছিল রোমান সাম্রাজ্যের করদার গাসানীয় রাজ্যের। 628
[25:30] সাম্রাজ্যের করদার গাসানীয় রাজ্যের। 628 খ্রিস্টাব্দে গাসানীয়দের সাথে জর্ডানের
[25:33] খ্রিস্টাব্দে গাসানীয়দের সাথে জর্ডানের মুতার প্রান্তরে যুদ্ধের মাধ্যমে রোমান ও
[25:35] মুতার প্রান্তরে যুদ্ধের মাধ্যমে রোমান ও মুসলিমদের মধ্যে বিরোধের সূচনা হয়। যা
[25:38] মুসলিমদের মধ্যে বিরোধের সূচনা হয়। যা চলেছিল পরবর্তী আরো 800 বছর। মুতার যুদ্ধে
[25:41] চলেছিল পরবর্তী আরো 800 বছর। মুতার যুদ্ধে আক্ষরিক অর্থে কোন পক্ষের বিজয় না হলেও
[25:43] আক্ষরিক অর্থে কোন পক্ষের বিজয় না হলেও অত্যন্ত ছোট সেনাবাহিনী নিয়ে গাসানীয়দের
[25:46] অত্যন্ত ছোট সেনাবাহিনী নিয়ে গাসানীয়দের বিরাট বাহিনী সাফল্যের সাথে মোকাবেলা
[25:48] বিরাট বাহিনী সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করায় মোরাল ভিক্টোরি হয়েছিল মুসলমানদের
[25:50] করায় মোরাল ভিক্টোরি হয়েছিল মুসলমানদের ওই মুতার যুদ্ধে অভূতপূর্ব বীরত্বের জন্য
[25:53] ওই মুতার যুদ্ধে অভূতপূর্ব বীরত্বের জন্য হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু
[25:55] হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে সাইফুল্লাহ উপাধিতে ভূষিত
[25:57] তা'আলা আনহুকে সাইফুল্লাহ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। পরের বছর যুদ্ধের আশঙ্কায়
[25:59] করা হয়। পরের বছর যুদ্ধের আশঙ্কায় মুসলমানরা তাবুকে বেশ বড় সৈন্য সমাবেশ
[26:02] মুসলমানরা তাবুকে বেশ বড় সৈন্য সমাবেশ করলেও সে বছর আর কোন যুদ্ধ হয়নি। 632
[26:05] করলেও সে বছর আর কোন যুদ্ধ হয়নি। 632 খ্রিস্টাব্দে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
[26:07] খ্রিস্টাব্দে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের মৃত্যুর পর হযরত আবু বকর
[26:09] সাল্লামের মৃত্যুর পর হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মুসলিম বিশ্বের
[26:11] রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মুসলিম বিশ্বের খলিফা নির্বাচিত হন। তার আমলে রোমানদের
[26:13] খলিফা নির্বাচিত হন। তার আমলে রোমানদের সাথে মুসলিমদের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা
[26:16] সাথে মুসলিমদের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি। তবে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু
[26:18] ঘটেনি। তবে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর এর পর হযরত ওমর
[26:19] তা'আলা আনহুর এর পর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সময় মুসলিম
[26:21] রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সময় মুসলিম ও রোমানদের মধ্যে বিরোধ চরম পর্যায়ে
[26:23] ও রোমানদের মধ্যে বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ফিলিস্তিনের সংগঠিত আজনাইনদের
[26:26] পৌঁছায়। ফিলিস্তিনের সংগঠিত আজনাইনদের যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হয় এই যুদ্ধ চলতে
[26:28] যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হয় এই যুদ্ধ চলতে থাকে প্রায় দুই বছরের মতো। একে একে
[26:30] থাকে প্রায় দুই বছরের মতো। একে একে রোমানরা মুসলমানদের কাছে ফিলিস্তিন, মিশর
[26:33] রোমানরা মুসলমানদের কাছে ফিলিস্তিন, মিশর ও সিরিয়া হারাতে থাকে। রোমানদের বিরুদ্ধে
[26:36] ও সিরিয়া হারাতে থাকে। রোমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজয়
[26:37] মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় ছিল ইয়ারমুকের যুদ্ধ। সিরিয়ার দক্ষিণে
[26:40] ছিল ইয়ারমুকের যুদ্ধ। সিরিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত ইয়ারমুকের প্রান্তরে মুসলিম
[26:42] অবস্থিত ইয়ারমুকের প্রান্তরে মুসলিম বাহিনী ও রোমান বাহিনীর মধ্যে চার দিন ধরে
[26:44] বাহিনী ও রোমান বাহিনীর মধ্যে চার দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে রোমানরা চূড়ান্তভাবে
[26:47] চলা এই যুদ্ধে রোমানরা চূড়ান্তভাবে পর্যদস্ত হয় এবং সিরিয়ার কর্তৃত্ব
[26:49] পর্যদস্ত হয় এবং সিরিয়ার কর্তৃত্ব চিরদিনের মত হারায়। মিশর ও সিরিয়ার মত
[26:52] চিরদিনের মত হারায়। মিশর ও সিরিয়ার মত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ হারানোর দখল
[26:54] দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ হারানোর দখল রোমানরা আর কোনদিনও সামলে উঠতে পারেনি।
[26:56] রোমানরা আর কোনদিনও সামলে উঠতে পারেনি। শুধু তাই নয় খোলাপায় রাশেদীনের সময়েই
[26:59] শুধু তাই নয় খোলাপায় রাশেদীনের সময়েই রোমানরা খোদ আনাতলিয়াতেও এলাকা হারাতে
[27:01] রোমানরা খোদ আনাতলিয়াতেও এলাকা হারাতে থাকে মুসলমানদের কাছে। এছাড়া পরবর্তীতে
[27:04] থাকে মুসলমানদের কাছে। এছাড়া পরবর্তীতে উমাইয়াদের সময় মুসলিমদের ইউরোপ অভিযানের
[27:06] উমাইয়াদের সময় মুসলিমদের ইউরোপ অভিযানের ফলে কখনোই আর আগের জায়গায় ফিরে যেতে
[27:08] ফলে কখনোই আর আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারেনি রোমানরা। পঞ্চদ শতকে খিওয়ান রোমান
[27:12] পারেনি রোমানরা। পঞ্চদ শতকে খিওয়ান রোমান তথা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য শুধু
[27:13] তথা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য শুধু কনস্টান্টিনোপল নগরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে
[27:15] কনস্টান্টিনোপল নগরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। 1453 সালে তাদের উপর চূড়ান্ত আঘাত
[27:18] পড়ে। 1453 সালে তাদের উপর চূড়ান্ত আঘাত হানেন ওসমানীয় সুলতান মোহাম্মদ বিন
[27:20] হানেন ওসমানীয় সুলতান মোহাম্মদ বিন ফাতেহ। ধর্মপান উসমানীয়রা
[27:22] ফাতেহ। ধর্মপান উসমানীয়রা কনস্ট্যান্টিনোপলের নাম বদলে রাখেন
[27:25] কনস্ট্যান্টিনোপলের নাম বদলে রাখেন ইসলামুল। যা পরবর্তীতে তুরস্কের
[27:27] ইসলামুল। যা পরবর্তীতে তুরস্কের সেক্যুলারাইজেশনের সময় গ্রিককরণ করে
[27:29] সেক্যুলারাইজেশনের সময় গ্রিককরণ করে ইস্তানম্বুল হিসেবে লেখা হয়। এখন
[27:31] ইস্তানম্বুল হিসেবে লেখা হয়। এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত কনস্টান্টিনোপল।
[27:35] ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত কনস্টান্টিনোপল। এক সময়ের পরাক্রমশালী রোমান সাম্রাজ্য
[27:37] এক সময়ের পরাক্রমশালী রোমান সাম্রাজ্য খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে তার ক্ষমতার
[27:39] খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে তার ক্ষমতার শীর্ষে প্রায় 50 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার
[27:41] শীর্ষে প্রায় 50 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার দূরে বিস্তৃত ছিল। এই বিশাল ভূখণ্ডে
[27:43] দূরে বিস্তৃত ছিল। এই বিশাল ভূখণ্ডে আনুমানিক পাঁচ থেকে 7 কোটি মানুষ বসবাস
[27:46] আনুমানিক পাঁচ থেকে 7 কোটি মানুষ বসবাস করত। যার মধ্যে প্রায় 10 লক্ষ ছিল শুধু
[27:48] করত। যার মধ্যে প্রায় 10 লক্ষ ছিল শুধু রোম শহরে। তাদের সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে
[27:51] রোম শহরে। তাদের সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে প্রায় আড়াই থেকে পাঁচ লক্ষ সৈন্য ছিল।
[27:54] প্রায় আড়াই থেকে পাঁচ লক্ষ সৈন্য ছিল। যা সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত।
[27:56] যা সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। বাণিজ্যের ধমনী স্বরূপ তাদের তৈরি করা
[27:59] বাণিজ্যের ধমনী স্বরূপ তাদের তৈরি করা 80000 কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাঘাট সুবিশাল
[28:01] 80000 কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাঘাট সুবিশাল সাম্রাজ্যকে সংযুক্ত রেখেছিল।
[28:03] সাম্রাজ্যকে সংযুক্ত রেখেছিল। অর্থনৈতিকভাবেও তারা ছিল শক্তিশালী।
[28:06] অর্থনৈতিকভাবেও তারা ছিল শক্তিশালী। যেখানে উন্নত নগরজীবন এবং কৃষিভিত্তিক
[28:08] যেখানে উন্নত নগরজীবন এবং কৃষিভিত্তিক সমাজের এক ভারসাম্য দেখা যায়। যদিও সেই
[28:11] সমাজের এক ভারসাম্য দেখা যায়। যদিও সেই সময়ের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয় করা কঠিন।
[28:13] সময়ের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয় করা কঠিন। তবুও এই সংখ্যাগুলো রোমানার সাম্রাজ্যের
[28:15] তবুও এই সংখ্যাগুলো রোমানার সাম্রাজ্যের বিশালতা ও ক্ষমতার এক স্পষ্ট চিত্র তুলে
[28:18] বিশালতা ও ক্ষমতার এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। এককালের পরাক্রমশালী রোমানরা আজ নেই।
[28:21] ধরে। এককালের পরাক্রমশালী রোমানরা আজ নেই। কালের স্রোতে তাদের সাম্রাজ্যের ভিত্তি
[28:23] কালের স্রোতে তাদের সাম্রাজ্যের ভিত্তি ধষে গেছে। কিন্তু তবুও রয়ে গেছে তাদের
[28:26] ধষে গেছে। কিন্তু তবুও রয়ে গেছে তাদের বিশাল কীর্তি। দিকে দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
[28:28] বিশাল কীর্তি। দিকে দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের অমলিন চিহ্ন। স্থানিক
[28:30] আছে তাদের অমলিন চিহ্ন। স্থানিক প্রেক্ষাপট দেখলে ইউরোপের প্রান্ত থেকে
[28:33] প্রেক্ষাপট দেখলে ইউরোপের প্রান্ত থেকে শুরু করে উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার
[28:35] শুরু করে উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার মাইনরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রোমানদের
[28:37] মাইনরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রোমানদের পদছিন্ন আজও বিদ্যমান। তাদের তৈরি করা
[28:40] পদছিন্ন আজও বিদ্যমান। তাদের তৈরি করা সুধীর রাস্তাঘাট, বিশাল আকারের সেতু,
[28:43] সুধীর রাস্তাঘাট, বিশাল আকারের সেতু, ঝাকজমকপূর্ণ অট্টালিকা আর সুবিন্যস্ত নগর
[28:46] ঝাকজমকপূর্ণ অট্টালিকা আর সুবিন্যস্ত নগর পরিকল্পনা সে সময়ের উন্নত প্রকৌশল ও
[28:48] পরিকল্পনা সে সময়ের উন্নত প্রকৌশল ও স্থাপত্য শৈলীর সাক্ষ্য বহন করে। সময়ের
[28:51] স্থাপত্য শৈলীর সাক্ষ্য বহন করে। সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় অনেক কিছুই ধুরস্বাদ
[28:53] দীর্ঘ পরিক্রমায় অনেক কিছুই ধুরস্বাদ হয়েছে। কিন্তু বর্ষস্তূপের নিচে চাপা
[28:56] হয়েছে। কিন্তু বর্ষস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ভগ্নস্তুপও যেন তাদের অতীত
[28:58] পড়ে থাকা ভগ্নস্তুপও যেন তাদের অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কালিক
[29:01] গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কালিক ব্যাপ্তিতে রোমান সভ্যতা এক সুদূরপ্রসারী
[29:03] ব্যাপ্তিতে রোমান সভ্যতা এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে গেছে। প্রায় 1200 বছর
[29:06] প্রভাব বিস্তার করে গেছে। প্রায় 1200 বছর ধরে টিকে থাকা এই সাম্রাজ্য শুধু রাজনৈতিক
[29:08] ধরে টিকে থাকা এই সাম্রাজ্য শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রেই নয়। আইন, ভাষা,
[29:11] বা সামরিক ক্ষেত্রেই নয়। আইন, ভাষা, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং দর্শনসহ জীবনের
[29:14] সাহিত্য, শিল্পকলা এবং দর্শনসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর ছাপ ফেলেছে। রোমান
[29:16] প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর ছাপ ফেলেছে। রোমান আইনের মূলনীতি আজও বিশ্বের অনেক আইনি
[29:19] আইনের মূলনীতি আজও বিশ্বের অনেক আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে আছে। রোমান
[29:22] ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে আছে। রোমান ভাষা ল্যাটিন বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপের
[29:24] ভাষা ল্যাটিন বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের
[29:27] শিক্ষা ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের প্রধান ভাষা ছিল এবং আধুনিক রোমানস
[29:29] প্রধান ভাষা ছিল এবং আধুনিক রোমানস ভাষাগুলো যেমন ইতালিয়, স্প্যানিশ, ফরাসি,
[29:32] ভাষাগুলো যেমন ইতালিয়, স্প্যানিশ, ফরাসি, পর্তুগিজ, রোমানিয় সেই ল্যাটিনেরই
[29:34] পর্তুগিজ, রোমানিয় সেই ল্যাটিনেরই উত্তরসরী। ভার্জিল, সিসেরো, সেনেকার মত
[29:38] উত্তরসরী। ভার্জিল, সিসেরো, সেনেকার মত খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও দার্শনিকদের সৃষ্টি
[29:40] খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও দার্শনিকদের সৃষ্টি আজও জ্ঞান পিপাসুদের কাছে অমূল্য সম্পদ।
[29:44] আজও জ্ঞান পিপাসুদের কাছে অমূল্য সম্পদ। ঐতিহাসিকভাবে রোমান সভ্যতার গুরুত্ব
[29:45] ঐতিহাসিকভাবে রোমান সভ্যতার গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমা বিশ্বের ইতিহাসকে বুঝতে
[29:48] অপরিসীম। পশ্চিমা বিশ্বের ইতিহাসকে বুঝতে হলে রোমানদের অবদানকে উপেক্ষা করার কোন
[29:50] হলে রোমানদের অবদানকে উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান
[29:52] উপায় নেই। তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেমন প্রজাতন্ত্র সাম্রাজ্যের ধারণা,
[29:54] যেমন প্রজাতন্ত্র সাম্রাজ্যের ধারণা, পরবর্তীকালে রাষ্ট্রনায়কদের অনুপ্রাণিত
[29:57] পরবর্তীকালে রাষ্ট্রনায়কদের অনুপ্রাণিত করেছে। খ্রিষ্ট ধর্মের বিস্তার এবং এর
[29:59] করেছে। খ্রিষ্ট ধর্মের বিস্তার এবং এর পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব রোমান
[30:01] পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব রোমান সাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয়েছিল।
[30:03] সাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয়েছিল। এমনকি তাদের যুদ্ধকৌশল ও সামরিক সংগঠনও
[30:06] এমনকি তাদের যুদ্ধকৌশল ও সামরিক সংগঠনও পরবর্তীকালে বহু সামরিক শক্তির মডেল
[30:08] পরবর্তীকালে বহু সামরিক শক্তির মডেল হিসেবে কাজ করেছে। রোমান সভ্যতার এই বিশাল
[30:11] হিসেবে কাজ করেছে। রোমান সভ্যতার এই বিশাল সিন্ধু এতটাই গভীর বিস্তৃত যে এর উপর
[30:13] সিন্ধু এতটাই গভীর বিস্তৃত যে এর উপর কয়েক লক্ষ বই প্রকাশিত হওয়ার পরও
[30:15] কয়েক লক্ষ বই প্রকাশিত হওয়ার পরও সম্পূর্ণরূপে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে
[30:17] সম্পূর্ণরূপে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা যাবে না। প্রতিনিয়ত নতুন
[30:20] বলে ধারণা করা যাবে না। প্রতিনিয়ত নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার, নতুন ঐতিহাসিক
[30:22] প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার, নতুন ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে
[30:25] ব্যাখ্যা এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোমানদের সম্পর্কে
[30:27] বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোমানদের সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবুও তাদের
[30:30] আমাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবুও তাদের সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং পতনের
[30:32] সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং পতনের কারণগুলো নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে আজও
[30:34] কারণগুলো নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে আজও বিতর্ক বিদ্যমান। রোমানরা এখনো
[30:37] বিতর্ক বিদ্যমান। রোমানরা এখনো ঐতিহাসিকদের কাছে গবেষণার এক অত্যন্ত
[30:39] ঐতিহাসিকদের কাছে গবেষণার এক অত্যন্ত প্রিয় বিষয়। তাদের উত্থানপতন, তাদের
[30:42] প্রিয় বিষয়। তাদের উত্থানপতন, তাদের অর্জন ও ভুল, তাদের রেখে যাওয়া
[30:44] অর্জন ও ভুল, তাদের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার সবকিছুই যেন এক অনন্ত
[30:46] উত্তরাধিকার সবকিছুই যেন এক অনন্ত কৌতুহলের জন্ম দেয়। তাই এই ভিডিওটিকে
[30:49] কৌতুহলের জন্ম দেয়। তাই এই ভিডিওটিকে রোমানদের সেই বিশাল জ্ঞান ও ঐতিহ্যের
[30:52] রোমানদের সেই বিশাল জ্ঞান ও ঐতিহ্যের সিন্ধু থেকে সামান্য একটি বিন্দু তুলে
[30:54] সিন্ধু থেকে সামান্য একটি বিন্দু তুলে আনার ছোট্ট প্রয়াস হিসেবে দেখলে ভুল হবে
[30:56] আনার ছোট্ট প্রয়াস হিসেবে দেখলে ভুল হবে না।
[30:58] না। প্রিয় দর্শক আমাদের আজকের এপিসোডের একদম
[31:01] প্রিয় দর্শক আমাদের আজকের এপিসোডের একদম শেষ পর্যায়ে এসে আমরা উপনীত হয়েছি।
[31:03] শেষ পর্যায়ে এসে আমরা উপনীত হয়েছি। আমাদের চেষ্টা ছিল রোমান সভ্যতা ও রোমান
[31:06] আমাদের চেষ্টা ছিল রোমান সভ্যতা ও রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে আপনাদের
[31:08] সাম্রাজ্যের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরা। আশা করি আমাদের এই
[31:10] সামনে তুলে ধরা। আশা করি আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আপনাদের জানার উদ্দীপনাকে
[31:12] ক্ষুদ্র প্রয়াস আপনাদের জানার উদ্দীপনাকে আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তো
[31:14] আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তো পরবর্তী এপিসোড দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে
[31:16] পরবর্তী এপিসোড দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ।