# ধূমাবতী!! (দশমহাবিদ্যার গ্রাম্য ভয়ের গল্প) - @mhstation | Sayak Aman | Sritama Sengupta | Horror

https://www.youtube.com/watch?v=kKKc3o6EPdE
Translation: en

[00:01] মিডনাইট হরর স্টেশনের সমস্ত গল্প শুনতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলে।
  Subscribe to our channel to listen to all the stories of Midnight Horror Station.

[00:07] শুনতে থাকুন শ্রেতমা সেনগুপ্তের কাহিনী।
  Keep listening to the story by Shretama Sengupta.

[00:18] ধুমাবতী দশ মহাবিদ্যার সপ্তম মহাবিদ্যা দেবী ধুমাবতী ভয়ঙ্কর এই তান্ত্রিক দেবী বৈধব্য অমঙ্গলের প্রতীক।
  Dhumavati is the seventh Mahavidya of the ten Mahavidyas; this terrifying Tantric goddess is a symbol of widowhood and misfortune.

[00:29] কিন্তু কেন কুসুমের জীবনে আবির্ভূত হলেন তিনি?
  But why did she appear in Kusum's life?

[00:32] এক নিজতরঙ্গ গ্রাম্য জীবনে কেন ঘনিয়ে এলো অমঙ্গলের মেঘ?
  Why did the clouds of misfortune gather in a quiet village life?

[00:37] সে রহস্যেরই উত্তর খুঁজবো আজকের গল্পে।
  We will look for the answer to that mystery in today's story.

[00:41] শুনতে থাকুন শ্রীতমা সেনগুপ্তের কাহিনী ধুমাবতি।
  Keep listening to the story Dhumavati by Sritama Sengupta.

[00:56] হুস হুস শব্দে কাকগুলোকে উড়িয়ে দিতে দিতে বড় বউ বিরক্ত হল সকাল থেকে হয়েছে।
  The eldest daughter-in-law got annoyed while shooing away the crows with 'hush hush' sounds, as it has been happening since morning.

[01:03] এই এক জ্বালা, কা কা করে কান ঝালাপালা করে দিল!
  What a nuisance, the cawing is making my ears deafen!

[01:08] পুরো গোবড়া পোতার কাক বোধহয় ওদের বাড়িতেই এসেছে আজ।
  Perhaps all the crows of Gobra Pota have come to their house today.

[01:10] বিনি, এই বিনি, তারা তো এগুলোকে অলক্ষণের মতন চেললাচ্ছে।
  Bini, hey Bini, they are screeching at these like an omen.

[01:18] ওদিকে কাঁচা আমে নুন লঙ্কা গুড়ো ছড়িয়ে জিভে চকা চকাশ শব্দ করতে করতে ঘরে ঢুকছিল বিনি।
  Meanwhile, Bini was entering the room while making smacking sounds with her tongue after sprinkling salt and chili powder on raw mango.

[01:24] হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো।
  Suddenly she stopped in her tracks.

[01:29] এতক্ষণ রোদদূর থেকে ঘরে আসতে চোখে আধার দেখছে, ঠিকঠাওর করতে পারলো না যেন।
  Coming into the room from the bright sun, she was seeing darkness and couldn't quite make things out.

[01:33] ভ্রু কুচকে খানিক তাকিয়ে থেকে বলল, কে, গায়ে ছোট খুড়ি?
  Frowning and staring for a while, she said, "Who is it, is it Choto Khuri?"

[01:38] উত্তর এলো না।
  There was no answer.

[01:42] ঘর থেকে ছোট খুড়ির খাটে চুল এলিয়ে কে যেন শুয়ে।
  Someone was lying on Choto Khuri's bed with their hair spread out.

[01:46] ঢেউ ঢেউ মত রুক্ষ চুলগুলো যেন বিনি চুলে তেল না মাখলে এমনটা হয়।
  The wavy, rough hair looked like what happens when Bini doesn't oil her hair.

[01:51] অন্ধকারে ভালো বোঝাও যাচ্ছে না।
  It's hard to tell clearly in the dark.

[01:54] বিনি ভাবল, এই অসময় ছোটখুড়ি ঘর অন্ধকার করে শুয়ে?
  Bini thought, Choto Khuri is sleeping in a dark room at this odd hour?

[01:59] বিনি ও বিনি!
  Bini, oh Bini!

[02:04] পুরার মুখে টংটং করে চড়ে বেড়ানো আর হয় না।
  Roaming around aimlessly on the mouth of the village is no longer possible.

[02:07] মায়ের গলা পেয়ে তড়িঘড়ি রান্নাঘরের দিকে ছুটলো বিনি।
  Hearing her mother's voice, Bini rushed towards the kitchen in a hurry.

[02:11] বিনিকে দেখেই মা যমুনা বলল সারাটা দুপুর কোন বাড়ির ধেঙ্গি মেয়ে এমন মাঠে ঘাটে ঘরে নে মা।
  Seeing Bini, her mother Jamuna said, 'Which house's unruly girl wanders around the fields all afternoon like this?'

[02:23] ওই গাছে চড়ে আম পারলাম দেখো কেমন মেখেছে আম থেত করে গিয়েছো মেয়ে।
  I climbed that tree and picked mangoes; look how messy I've become, you've crushed the mangoes, girl.

[02:26] বিয়ের বয়স হয়ে গেল আর উনি গাছে চড়ছেন।
  You are of marriageable age, and you are climbing trees.

[02:30] আসুক তোর বাবা আজ।
  Let your father come home today.

[02:35] ছোট খোড়ের কি হয়েছে মাম?
  What happened to the little one, Mom?

[02:39] আমের আচারের মসলা ভাজছিল যমুনা মেয়ের কথায় হাত থামিয়ে বলল বেরাম কেন বেরাম কেন হতে যাবে শুয়ে আছে যে ঘর অন্ধকার করে।
  Jamuna was frying spices for mango pickle; stopping her hand at her daughter's words, she said, 'Why would she be sick? Why would she be sick? She is lying in the dark room.'

[02:51] শুয়ে আছে কেন এইতো ঠাকুর প এল এ সময় শোবে কেন তা কি জানি আমিও তো অবাক হলুম তাই বললম।
  Why is she lying down? The priest has just arrived; why would she be sleeping at this time? I don't know, I was also surprised, so I said so.

[03:03] ঝগড়াঝাটি করেছে কিনা।
  Whether they have had an argument or not.

[03:07] দাড়া, মসলাটা ভেজে দেখি গিয়ে গোটা জিরে।
  Wait, let me go and roast the spices, the whole cumin seeds.

[03:10] শুকন লঙ্কা, মেথি, মৌড়ি শুকন খোলায় ভাজতে ভাজতে ভাবতে লাগলো যমুনা।
  As she was dry-roasting the dried red chilies, fenugreek, and fennel seeds, Jamuna started thinking.

[03:14] গত পরশু খুব অশান্তি হয়েছিল দুটিতে।
  The day before yesterday, there was a lot of trouble between the two of them.

[03:18] পাড়া গেয়ে ব্যাপার, হাওয়ার আগে খবর ভাসে।
  It's a neighborhood affair; news travels faster than the wind.

[03:21] ছোট বউ গঞ্জের মেয়ে, বোঝে না।
  The younger daughter-in-law is a girl from the town; she doesn't understand.

[03:25] চিল চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলবে।
  She will scream at the top of her lungs and bring the house down.

[03:28] নতুন বউ, সবে চার মাস বিয়ে হয়েছে।
  She is a new bride, married only four months ago.

[03:32] এখন সোয়ামীর সঙ্গে এমন গলা তুলে ঝগড়া করলে ছিচিৎকার পড়বে না কে শোনে কার কথা?
  If she quarrels with her husband raising her voice like this now, there will be an uproar; who listens to whom?

[03:39] আগেও এমনটা হয়েছে।
  This has happened before too.

[03:43] রাত্রিরে দুটিতে সেবারও ঝগড়া, কি নিয়ে লেগেছে আর চিৎকার।
  That time too, they quarreled at night; what they fought about and the screaming.

[03:47] পরদিন যেই পুকুরে গেছে যমুনা, অমনি সব শুনিয়ে দিতে ছাড়লো না যে নতুন বউ দজ্জাল।
  The next day, as soon as Jamuna went to the pond, she didn't miss the chance to tell everyone that the new bride is a shrew.

[03:55] শহুরে মেয়ে আনা উচিত হয়নি।
  They shouldn't have brought a city girl.

[03:59] সেই থেকে বোঝায় ছোটটাকে।
  Since then, she has been trying to make the younger one understand.

[04:02] শুনলে তো, এমনি মেয়েটা ভালো কুসুম, কিন্তু ওই যে রাগ।
  You heard it, the girl Kusum is good, but that temper.

[04:06] রাগলে মাথা ঠিক থাকে না যেন।
  It's as if she loses her head when she gets angry.

[04:06] তাছাড়া কিছু।
  Besides something else.

[04:10] অশৈলে কান্ডও আছে।
  There is also an incident with Ashail.

[04:15] বড় ভাসুর ঠাকুর পছন্দ করে এনেই খালাস।
  The elder brother-in-law was relieved just by choosing and bringing her.

[04:18] ভাবলেন না আমে আর দুধে সবসময় নাও মিশতে পারে।
  He did not think that mangoes and milk might not always mix well.

[04:21] শহরে মেয়ে গ্রামের হাওয়ায় মিশলে তবে তো গঞ্জ তো প্রায় শহরের মতোই।
  If a city girl mixes with the village air, well, the trading post is almost like a city.

[04:25] দোকানপাট, স্কুল, হাট সব মজুদ।
  Shops, schools, and markets are all available.

[04:29] সেখানকার ধারা আর এই গোবড়ে পোতার ধারা এক হবে কেন?
  Why would the ways of that place and the ways of this Gobrepota be the same?

[04:32] সংসারের সব মানা মোটেও শোনে না ছোট বউ।
  The younger daughter-in-law does not listen to any of the household's prohibitions at all.

[04:36] সবচেয়ে যেটা চোখে লাগে তা হলো ওর তড়িঘড়ি খেয়ে নেওয়া।
  The thing that catches the eye the most is her eating in a hurry.

[04:39] কোন কবিরাজ নাকি কবে বলেছিল ওর পেটের ব্যাম।
  Some Ayurvedic doctor had apparently said long ago that she had a stomach ailment.

[04:43] খালি পেটে থাকা নিষেধ।
  Staying on an empty stomach is forbidden.

[04:46] তাই বেলা বাড়তে না বাড়তেই ভাতের থালা নিয়ে বসে যাবে বিনির সাথে।
  So, as soon as the day progresses, she sits down with Bini with a plate of rice.

[04:52] তোর ভাসুর যে আর তুই এক হলি?
  How did your brother-in-law and you become the same?

[04:55] কেন রে বাচা?
  Why, child?

[04:59] খালি পেট কি কেবল ভাতেই ভরে?
  Does an empty stomach only get filled with rice?

[05:03] ঘরে চিড়ে মুড়ি খই নাড়ু তো কম নেই।
  There is no shortage of flattened rice, puffed rice, popped rice, and sweets in the house.

[05:07] তা শহুরে বিবি খাবেনি বা কেন খাওয়ার অনিয়ম নাকি বারণ অমন কত বারণ কবিরাজ করে সব শুনলে চলবে কেন?
  Then why wouldn't the city lady eat; is irregular eating forbidden? The Ayurvedic doctor makes so many prohibitions, can one listen to all of them?

[05:11] কে শোনে কার কথা?
  Who listens to whom?

[05:11] বরবেলা চারটে খেল বউ।
  The bride ate at four o'clock in the afternoon.

[05:16] একটার মধ্যে খেয়ে দেয়ে উঠে পড়ল।
  She finished eating and got up within one o'clock.

[05:19] ভারী বিচ্ছিড়ি লাগে যমুনার এমন অশীলে কান্ড।
  Yamuna finds such indecent behavior very disgusting.

[05:22] দেখেনি আগে।
  She hasn't seen this before.

[05:22] গা ঘরে সোয়ামির আগে খেতে নেই।
  In the household, one should not eat before the husband.

[05:27] আগ হাড়ি খেতে নেই মেয়ে মানুষদের তাতে অমঙ্গল হয়।
  Women should not eat early; it brings misfortune.

[05:29] গ্রামের মেয়ে দেখে শুনে আনলেই ভালো হতো বোধহয়।
  Perhaps it would have been better to bring a girl from the village after checking properly.

[05:32] মাঝে মধ্যে ভাবে যমুনা।
  Yamuna thinks this from time to time.

[05:37] তা ভাসুর বুঝলেন কই?
  But did the brother-in-law understand?

[05:37] সদাশিব মানুষ উনি।
  He is a simple-minded man.

[05:41] সংসার করেননি।
  He did not have a family of his own.

[05:41] আটঘাট বোঝেনও না।
  He doesn't understand the intricacies of life either.

[05:45] ঘটক সম্বন্ধ আনলো।
  The matchmaker brought the proposal.

[05:45] উনি পছন্দ করলেন ছোট ভাইয়ের জন্য।
  He chose it for his younger brother.

[05:49] এমনি ছোট বউ খারাপ না।
  Otherwise, the younger bride is not bad.

[05:49] সবাইকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে।
  She respects everyone.

[05:52] কাজকর্মেও সরস।
  She is also efficient in her work.

[05:56] কিন্তু ওই যে কিছু দোষ আছে।
  But she does have some flaws.

[05:58] মসলা ভাজা হয়ে গেছে।
  The spices have been fried.

[06:01] ঠান্ডা হলে শিলে বেটে নেবে যমুনা।
  Yamuna will grind them on the stone slab once they cool down.

[06:04] আপাতত কড়াইতে একটা ঢাকনা দিয়ে উঠলো।
  For now, she put a lid on the pan and got up.

[06:06] কি হলো আবার দেখা যাক।
  Let's see what happened again.

[06:11] কুসুমের ঘরের দরজা হাট করে খোলা।
  The door to Kusum's room is wide open.

[06:11] কিন্তু ভেতরটা...
  But the inside...

[06:15] অন্ধকার।
  Darkness.

[06:18] এত অন্ধকার কেন?
  Why is it so dark?

[06:18] ওতো জানলা কপাট খুলে রাখে সবসময়।
  She always keeps the windows and doors open.

[06:22] আলো বাতাস আসে তাই।
  That's so light and air can come in.

[06:22] যমুন আরো ঠাহর করতে সময় লাগলো।
  It took Jamuna some time to discern more.

[06:26] তারপর বুঝলো কুসুম বোধহয় শুয়ে আছে চুল এলিয়ে।
  Then she realized Kusum was probably lying down with her hair loose.

[06:34] ঠাকুরপো কই ঘরে ঢোকা ঠিক হবে কিনা ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ পেছনে আওয়াজ।
  Wondering where the brother-in-law was and if it would be right to enter the room, suddenly there was a sound behind her.

[06:42] কে কারো গো বাদ দি চমকে উঠলো যমুনা।
  Startled, Jamuna asked who it was.

[06:47] কুসুম পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে কখন যেন অবাক হয়ে যমুনা বলল তুই কোথায় ছিলি?
  Kusum had come and stood behind her, and Jamuna asked in surprise, "Where were you?"

[06:56] কেন তোমার ঠাকুরপোকে জল দি এলাম তো।
  Why, I went to give water to your brother-in-law.

[06:56] ঠাকুরপো কোথায়?
  Where is the brother-in-law?

[07:00] ঘরেই হবে কেন বলতো?
  He must be in the room, why do you ask?

[07:00] আরেকবার ঘরের দিকে তাকালো যমুনা।
  Jamuna looked towards the room once more.

[07:05] এখনো চুলটা ওভাবেই রয়েছে কুসুমের দিকে তাকিয়ে বলল তবে ঘরে।
  The hair was still like that, and looking at Kusum, she said, "But in the room..."

[07:16] কে ঘরে?
  Who is in the room?

[07:20] বলে কুসুম উকি মারলো এবং দেখলো ওই একই দৃশ্য।
  Saying this, Kusum peeked in and saw the same scene.

[07:24] ঢেউ খেলানো চুল অল্প অল্প দুলছে।
  Wavy hair was swaying slightly.

[07:30] কে কে কে গো ঘরে?
  Who, who, who is in the room?

[07:35] ঘরে কে?
  Who is in the room?

[07:36] হ্যাঁ কে?
  Yes, who is it?

[07:37] কে ঘরে?
  Who is in the room?

[07:39] কুসুম চেচিয়ে উঠলো।
  Kusum shouted out.

[07:41] ঠিক তখনই সশব্দে বাইরে কাঁঠাল গাছের একটা ডাল ভেঙে পড়ার শব্দ হলো।
  Just then, there was a loud sound of a jackfruit tree branch breaking outside.

[07:46] দুজনেই চমকে ঘাড় ঘোড়ালো।
  Both of them turned their heads in surprise.

[07:49] কয়েক মুহূর্ত।
  A few moments.

[07:51] তারপর ঘরের দিকে আবার তাকাতেই কেউ নেই।
  Then, as they looked back towards the room, there was no one.

[07:55] কিচ্ছু নেই।
  There is nothing.

[07:57] কুসুম তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকলো এবার।
  Kusum entered the room quickly this time.

[08:00] এত অন্ধকার।
  It is so dark.

[08:02] পুবের জানলাটা খুলবে বলে এগোতে যাবে।
  She was about to move forward to open the eastern window.

[08:06] পিছলে কিছুতে পা লেগে ধরাম করে পড়ল।
  She slipped, her foot hit something, and she fell with a thud.

[08:09] ও কি?
  What is that?

[08:10] আরে কি করিস কি তুই?
  Hey, what are you doing?

[08:12] যমুনা ঢুকে জানলাটা খুলল এবং দেখল ঘরময় রক্ত।
  Jamuna entered, opened the window, and saw blood all over the room.

[08:20] ছোট ঠাকুরপো রক্তে মাখামাখি হয়ে খাটের ঠিক সামনে পড়ে।
  The younger brother-in-law lies covered in blood right in front of the bed.

[08:26] মাথার পেছনটা থেতলানো।
  The back of his head is crushed.

[08:27] সেখান থেকেই বোধহয় রক্ত গড়িয়েছে।
  Perhaps the blood has trickled from there.

[08:34] আর ওই রক্তেই আছাড় খেয়েছে কুসুম।
  And Kusum has collapsed in that very blood.

[08:37] ঘরে হ্যারিকেন জ্বলছে।
  A hurricane lamp is burning in the room.

[08:39] পাড়া প্রতিবেশী অনেকেই উপস্থিত।
  Many neighbors are present.

[08:44] বিশেষত মহিলারা।
  Especially the women.

[08:46] পুরুষ মানুষ সবাই গেছে।
  All the men have gone.

[08:48] এমন একটা অঘটন কেউ কি ঘরে বসে থাকতে পারে?
  Can anyone sit at home after such an incident?

[08:55] পাশের বাড়ির গোপালের মা চা করে নিয়ে এসেছে।
  Gopal's mother from the house next door has brought tea.

[08:58] দুপুর থেকে কারো পেটে দানাপানি পড়েনি।
  No one has had a morsel of food since noon.

[09:01] আর ইচ্ছেও নেই।
  And there is no desire to either.

[09:04] ওরা না ফেরা অব্ধি ঘরে উনুন জ্বলবে না।
  The stove will not be lit in the house until they return.

[09:07] তাই পাশের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে চা।
  So tea has been brought from the house next door.

[09:10] বিনি, যমুনা, যমুনার মাসি, খুড়শাশুড়ি, মাসতুত ননদ যে যেখানে ছিল আর...
  Bini, Jamuna, Jamuna's aunt, mother-in-law's sister-in-law, cousin sister-in-law, whoever was where and...

[09:20] কুসুম।
  Kusum.

[09:20] সে এখনো যেন হতভম্ব।
  She still seems stunned.

[09:24] কি হলো কেন হলো কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।
  She cannot understand what happened or why it happened.

[09:29] নিজের ঘরে জড়সড় হয়ে বসে আছে।
  She is sitting huddled in her room.

[09:33] বড় ভাসুর, মেজো ভাসুর, পাড়ার লোকজন সবাই মিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
  The elder brother-in-law, the middle brother-in-law, and the neighbors all took him to the hospital as quickly as possible.

[09:41] কুসুম তখনো ভাবছে মাথায় লেগেছে।
  Kusum was still thinking that he had hurt his head.

[09:46] হয়তো ভর্তি করে নেবে হাসপাতালে।
  Perhaps they would admit him to the hospital.

[09:47] এত বড় দুর্যোগ ভাবার কথা মাথাতেই আসেনি ওর।
  The thought of such a great disaster had not even crossed her mind.

[09:52] মরেই গেলেন।
  He died.

[09:53] চলেই গেলেন উনি।
  He left us.

[09:56] হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই নাকি তারই ঘরে উনি চলে গেলেন।
  It is said that he passed away in his own room before they could even take him to the hospital.

[10:05] কিভাবে কি হলো কেউ কিচছু বুঝলো না।
  No one understood how it happened.

[10:08] কুসুম তো উনার স্নানের জল ভরতে গেছিল।
  Kusum had gone to fill his bath water.

[10:13] ওইটুকু সময় মানুষটা মরেই গেলেন।
  In that short time, the man died.

[10:19] পুকুরঘাটে নিয়ে গিয়ে যখন শাখা
  When they took him to the pond ghat and the conch shell...

[10:22] লোহা ভাঙ্গা হচ্ছে তখনও যেন কুসুম স্থির।
  Iron is being broken, yet Kusum seems still.

[10:27] সবাই কাঁদছে।
  Everyone is crying.

[10:27] কেঁদে লুটিয়ে পড়ছে।
  They are collapsing in tears.

[10:30] কিন্তু কুসুমের মাথাটাই যেন ফাঁকা হয়ে গেছে।
  But Kusum's mind seems to have gone blank.

[10:35] কিছু বুঝে ওঠার আগেই কত কি হয়ে গেল।
  So much happened before she could understand anything.

[10:40] নাও বউ, একটু চা নাও, গলাটা ভিজিয়ে নাও।
  Take it, daughter-in-law, have some tea, moisten your throat.

[10:47] মাথা নাড়লো কুসুম, ভালো লাগছে না কিছু।
  Kusum shook her head, she doesn't feel like having anything.

[10:48] নাও, নাও, কিছু খাওনি দুপুর থেকে।
  Take it, take it, you haven't eaten anything since noon.

[10:54] সেই সকালে মুড়ি তরকারি খেয়েছিলে, চাটুকু খাও।
  You had puffed rice and curry in the morning, have a little bit.

[11:02] আবার মাথা নাড়লো কুসুম।
  Kusum shook her head again.

[11:02] তারপর মুরব্বা খেয়েছিলে।
  Then you had some murabba.

[11:08] অবেশি তাও কি আর পেটে কে এবার একটু অবাক হলো।
  Is that even enough for the stomach? Someone was a little surprised now.

[11:16] কে এটা?
  Who is this?

[11:17] চোখ তুলে তাকালো একজন বুড়ি, পাড়া প্রতিবেশী হবে।
  She looked up, an old woman, must be a neighbor.

[11:25] কেউ কুসুম এখনো চেনে না।
  No one knows Kusum yet.

[11:28] সবাইকে কিন্তু এত কথা বলে কেন?
  But why does she talk so much to everyone?

[11:34] নাও নাও খাও খাও।
  Take it, take it, eat, eat.

[11:37] স্টিলর গ্লাসটা এগিয়ে ধরলো বুড়ি কুসুমের দিকে।
  The old woman held out the steel glass towards Kusum.

[11:39] কোচানো চামড়া হাতের সাদা উড়ো উড়ো রুক্ষ চুল মুখে অজস্র বয়সের কারিগরি।
  Wrinkled skin, white flyaway rough hair on her hands, and the craftsmanship of countless ages on her face.

[11:50] উপরের পাটির সামনের দিকে তিনটে দাঁত নেই।
  Three teeth are missing from the front of her upper jaw.

[11:54] হাসি হাসি মুখে চায়ের গ্লাস এগিয়ে ধরে আছে বুড়ি।
  The old woman is holding out the tea glass with a smiling face.

[11:59] বিরক্ত হলো কুসুম।
  Kusum got annoyed.

[12:03] বড় জা কাকে ভেতর ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে ও বলল।
  The elder sister-in-law sent someone into the inner room and said.

[12:07] খাবো না বললম তো, আপনি যান ঠাকুমা, বাকিদের দিন।
  I said I won't eat, you go grandma, give it to the others.

[12:11] খাবি না?
  You won't eat?

[12:15] তোর পেটে তো আগুন জ্বলছিল সব খেয়ে ফেলার মতো খেদের আগুন, এই চাটুকু খাবি না মানে আমাদের চেয়ে?
  There was a fire burning in your stomach, a fire of regret like wanting to eat everything, what do you mean you won't eat this little bit more than us?

[12:26] বড় খিদেে খেনে গলায় বুড়িটা বলে মিথিরভাবে হেসে উঠল।
  The old woman laughed mockingly in a very hungry voice.

[12:36] কুসুম ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠল এবং অজ্ঞান হয়ে গেল।
  Kusum screamed in fear and fainted.

[12:46] থমথম করছে গোটা গ্রামটাই।
  The whole village is tense.

[12:48] অমন তরতাজা একটা প্রাণ সে কিনা বলা নেই কও নেই চলেই গেল।
  Such a vibrant life, gone without a word.

[12:53] চার মাস পড়েনি এখনো বিয়ের।
  It hasn't even been four months since the wedding.

[12:58] আহা গো।
  Oh, dear.

[12:58] অভিষে দিয়ে যাচ্ছে সবাই ভোর থেকে।
  Everyone has been offering condolences since dawn.

[13:02] কাল শেষ রাতে ফিরেছে ওরা শ্মশান থেকে।
  They returned from the cremation ground late last night.

[13:05] সারা গ্রামটাই ক্লান্ত।
  The whole village is exhausted.

[13:09] তবু ভোর হতেই চাল, ডাল, সন্ধক, লবণ, ফলমূল, মিষ্টি সব বোঝাই করে দিয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশীরা।
  Yet, as soon as it was dawn, neighbors have been bringing loads of rice, lentils, rock salt, fruits, and sweets.

[13:15] ওদিকে রজত থম মেরে বসে আছে দাওয়ায়।
  Meanwhile, Rajat is sitting stunned on the porch.

[13:19] এই বয়সে তৃতীয়বার তাকে এ কাজ করতে হলো।
  At this age, he had to do this for the third time.

[13:23] বাবা গেলেন সেই কৈশরে।
  Father passed away back in his adolescence.

[13:23] তারপর মা বছর।
  Then mother, a year later.

[13:28] ছয়েক আগে।
  Six [years/months] ago.

[13:31] বড় ছেলে হিসেবে মুখাগ্নির দায়িত্ব তার।
  As the eldest son, the responsibility of performing the last rites is his.

[13:33] সে দায়িত্ব পালনে কষ্ট থাকলেও এতখানি যন্ত্রণা ছিল না।
  Even though there was hardship in fulfilling that duty, there wasn't this much pain.

[13:38] সবচেয়ে ছোট ভাইয়ের অগ্নিকর্তা হওয়ার মত যন্ত্রণা যেন ঈশ্বর কাউকে না দেন।
  May God not give anyone the pain of having to perform the last rites for their youngest brother.

[13:46] মরমড়ে সাদা কাছা গায়ে একদৃষ্টে উঠনের কাঁঠাল গাছটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে রজত।
  Wearing a crisp white loincloth, Rajat is staring fixedly at the jackfruit tree in the courtyard.

[13:53] শরীর জ্বলছে না।
  His body is not burning.

[13:55] তবু জ্বালাতে তো হবে।
  Yet, he must light the pyre.

[13:58] সংসারের মাথা হওয়ার অনেক জ্বালা।
  There is much pain in being the head of the family.

[14:02] বুক ফাটলেও মুখে তা ফোটানো চলে না।
  Even if one's heart is breaking, one cannot express it.

[14:07] বর ঠাকুর আপনার হবির জোগাড় করা হয়ে গিয়েছে।
  Brother-in-law, your arrangements for the funeral have been made.

[14:11] চোখ তুলে তাকালো রজত।
  Rajat looked up.

[14:12] মেজো ভাইয়ের বউ যমুনা।
  It was Yamuna, the wife of his middle brother.

[14:17] কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে।
  She has swollen her eyes from crying.

[14:19] রজত বলল, ছোট।
  Rajat said, 'Chhoto'.

[14:29] বৌমা, কথাটা শেষ করার আগেই হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলল যমুনা।
  Daughter-in-law, before finishing the sentence, Jamuna burst into tears.

[14:34] পিশিমা কয়েকটা কলাপাতা নিয়ে উঠন দিয়ে আসতে গিয়ে থেমে গেল।
  Pishima stopped while coming through the courtyard with a few banana leaves.

[14:37] বলল, শক্ত হও।
  She said, "Be strong."

[14:42] কান্না কি আমাদের পাচ্ছে না গো?
  Are we not feeling like crying too?

[14:46] কিন্তু ওই ছোট্ট মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে সামলাচ্ছি।
  But I am holding back by looking at that little girl's face.

[14:51] আমি যে আর পারছি না পিশিমা।
  I can't take it anymore, Pishima.

[14:55] বুক ফেটে যাচ্ছে।
  My heart is breaking.

[14:58] ওই ছোটর মুখের দিকে তাকালে আরো বুকটা ফাটছে।
  Looking at that little one's face makes my heart break even more.

[15:03] সব বুইচি বাচা।
  I understand everything, child.

[15:04] সব বুইচ।
  I understand everything.

[15:06] রাজপুত্রের মত ছেলেটা আমাদের।
  Our boy is like a prince.

[15:11] রঞ্জন কোথায় বৌমা?
  Where is Ranjan, daughter-in-law?

[15:13] রজত বলল যমুনাকে।
  Rajat said to Jamuna.

[15:15] রঞ্জন অর্থাৎ রজতের মেজো ভাই কাছে পিঠেই আছেন হবে আপনি আর বেলা করবেন না বসে পড়ুন ছোট বৌমা ছোট বৌমার ব্যবস্থা ওর ঘরেই করা হয়েছে বাবা ওর ঘরে মানে ওদের
  Ranjan, that is Rajat's middle brother, must be nearby; you should not delay any further, please sit down, little daughter-in-law, arrangements for the little daughter-in-law have been made in her room, father, in her room, meaning theirs.

[15:33] ঘরে যেখানে ওরা থাকতো সেখানে হবিশির ব্যবস্থা তোমরা কি করে করলে পিশিমা?
  How did you arrange for the Habishi in the room where they lived, aunt?

[15:39] মেয়েটার কথা একবার ভাবলে না?
  Didn't you think about the girl even once?

[15:42] আমরা বলিনি বর ঠাকুর, ছোট বউ ও নিজেই চাইছে তো চাইছে।
  We didn't say anything, brother-in-law, the younger daughter-in-law is asking for it herself.

[15:46] তোমরা বারণ করতে পারলে না?
  Couldn't you forbid her?

[15:49] ও কি বোঝে অতটুকু মেয়ে?
  What does she understand, she is such a small girl?

[15:54] বারণ করেছিলম, শুনলো না।
  I forbade her, she didn't listen.

[15:57] ওখানেই হবিশি করবে ও, সবাই বুঝিয়েছে, ওর মা অব্দি বোঝালো।
  She will perform the Habishi right there; everyone explained it to her, even her mother tried to make her understand.

[16:03] কিন্তু তুই উঠে বর বাবা বোটা বাজতে যায় এরপর অলক্ষণ।
  But you get up, father-in-law, it is a bad omen to go and play the flute after this.

[16:07] ছোট বৌমা বসে যাবে এখনি।
  The younger daughter-in-law will sit down right now.

[16:10] রজত উঠলো।
  Rajat got up.

[16:12] শরীর চলছে না, তবুও উঠতে হবে।
  His body is not moving, yet he has to get up.

[16:15] ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য হবিষ্যই করতে হবে।
  He must perform the Habishya for his younger brother's death.

[16:18] বরাদ্দ ঘরটাতে গিয়ে রজত দরজা বন্ধ করে দিল।
  Rajat went to the designated room and closed the door.

[16:27] সামনে ইটের উনুন।
  In front is a brick stove.

[16:32] সেখানে পাটকাঠি দিয়ে আগুন ধরানো হয়েছে মাটির মালসায়।
  A fire has been lit there with jute sticks in an earthen pot.

[16:36] আতপচাল, মটর ডাল, আলু, কাঁচকলা সব একসাথে দিয়ে জল দিয়ে বসিয়ে দিয়েছে সেই আগুনে।
  Sun-dried rice, split peas, potatoes, and raw bananas have all been put together with water on that fire.

[16:43] ঘরের সমস্ত দরজা জানলা বন্ধ।
  All the doors and windows of the room are closed.

[16:47] বাইরের আলো ঢোকা নিষেধ।
  Outside light is forbidden from entering.

[16:47] পুরো বাড়ি চুপ।
  The whole house is silent.

[16:52] কারো আওয়াজ হবিশির ঘরে আসা নিষেধ।
  No one's voice is allowed to enter the Habishi room.

[16:54] সাদা খরখরে শাড়িটায় নাক মুখ ঢেকে বসে আছে কুসুম।
  Kusum is sitting with her nose and face covered by a rough white sari.

[17:00] কি ভীষণ ধোয়া।
  What terrible smoke.

[17:02] জ্বলছে চোখ।
  Her eyes are burning.

[17:05] টপ টপ করে জল পড়ছে চোখ দিয়ে।
  Tears are dripping from her eyes.

[17:08] কতটা আগুনের আছে।
  How much of it is from the fire.

[17:13] কতকটা এই ঘরের স্মৃতিতে এই ঘর এই খাট বিছানা আয়না চেয়ার টেবিল ফুলতোলা টেবিলের ঢাকনি রেডিও সবতেই কত স্মৃতি চার মাসেরও কম সময় তবুও স্মৃতি বোধহয় 400 কোটি মনে হচ্ছে কুসুমের পাটকাঠি নিয়ে আনমনেই মালসার
  And how much is from the memories of this room—this room, this cot, bed, mirror, chair, table, embroidered table cover, radio—everything holds so many memories; even though it has been less than four months, it feels like 400 crores of memories to Kusum, as she absentmindedly holds the jute stick over the earthen pot.

[17:36] ভেতরে নাড়াচাড়া করছে আর ভাবছে কুসুম কাল এই সময়ও তো মানুষটা ছিল।
  Kusum is moving things inside and thinking that at this time yesterday, the man was still here.

[17:43] জল জ্যান্ত ছিল।
  He was alive and well.

[17:47] আরেকটু বাদেই তো দোকান বন্ধ করে এসে চানের জল দিতে বলল।
  Just a little while later, he closed the shop and asked for water for his bath.

[17:54] আর আজই কিনা আগুনটা চড়চড় করে উঠলো।
  And today, of all days, the fire crackled up.

[17:57] জল বেশি হয়ে গেছে মালসায়।
  There is too much water in the earthen pot.

[18:00] উতলে পড়ছে জল।
  The water is overflowing.

[18:02] আবার একটু নেড়ে দিল কুসুম পাটকাঠি দিয়ে।
  Kusum stirred it again with a jute stick.

[18:06] বাইরের উননে বাড়ির বাকিদের ভাত বসেছে।
  Rice for the rest of the family has been put on the outdoor stove.

[18:11] ভাতের মধ্যেই আলু, কাঁচকলা, কাঁচালঙ্কা, কুমড়ো, ঝিঙ্গে, পটল সব সেদ্ধ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  Potatoes, raw bananas, green chilies, pumpkins, ridge gourds, and pointed gourds have all been boiled right in the rice.

[18:17] পেটে দিতে হয় তাই দেওয়া।
  It is given because they have to be fed.

[18:21] বাড়িভর্তি আত্মীয়স্বজন না খাইয়ে তো রাখা যায় না সবাইকে।
  One cannot keep the house full of relatives without feeding them all.

[18:25] তা যমুনাকে এদিকটা দেখতে হচ্ছে না।
  Yamuna does not have to look after this side.

[18:28] জ্ঞাতি গোষ্ঠী সকলেই উপস্থিত।
  All the kinsfolk are present.

[18:32] অনেকেরই অসহ্য চলছে।
  Many are finding it unbearable.

[18:33] সবটাই দেখছে কুসুমের শাশুড়ি, মাসি।
  Kusum's mother-in-law and aunt are looking after everything.

[18:36] শাশুড়ি, করতুত ননদ, যমুনার মা, বৌদি, কুসুমের জেঠি মা।
  Mother-in-law, sister-in-law, Yamuna's mother, sister-in-law, Kusum's aunt.

[18:39] কুসুমের মা শুয়ে আছে যমুনার ঘরে।
  Kusum's mother is lying down in Yamuna's room.

[18:45] পাশে বিনি।
  Bini is beside her.

[18:48] শরীর ভালো নেই তেমন।
  Her health is not very good.

[18:48] সুখের ধাক্কা শরীরকে কাবু করে ফেলেছে কিশোরী ও বৃদ্ধার।
  The shock of happiness has overwhelmed the bodies of the young girl and the old woman.

[18:56] ছোট বৌদির এখনো হলো না।
  The younger sister-in-law still hasn't finished.

[18:56] এক ননদের কথায় যেন টনক নড়লো সবার।
  It was as if one sister-in-law's words made everyone realize.

[19:03] তাইতো?
  Is that so?

[19:03] রজতের তো সেই কখন হয়ে গেছে।
  Rajat finished a long time ago.

[19:06] সে পুকুরে মালসা ভাসিয়ে ডুব দিয়েও চলে এসেছে।
  He has even floated the earthen pot in the pond, taken a dip, and returned.

[19:11] খোর শাশুড়ি বলল, কচি মেয়ে।
  The mother-in-law said, she is a young girl.

[19:16] প্রাণে ধরে কি আর সহজে করতে পারে রে?
  Can she really do it easily with her heart?

[19:20] কেঁদেই মলো হয়তো।
  Perhaps she died crying.

[19:24] সেই তবুও অনেকক্ষণ হলো কিন্তু একা মেয়েটা কথা শেষ করার আগেই কোথা থেকে একঝাক কাক এসে কা করে বাড়ি মাথায় করতে লাগল ঠিক যেন
  Still, it has been a long time, but before the girl could finish speaking, a flock of crows came from somewhere and started cawing, making a huge ruckus in the house, just as if...

[19:39] হঠাৎ কোন খবর নিয়ে এসেছে হুস হস যা যা ভাগ ভাগ বৃধা চেষ্টা কাকুগুলো তারস্বরে চিৎকার করেই চলেছে।
  What news have they brought suddenly, hush hush, go go, go away, the crows are trying in vain and screaming at the top of their lungs.

[19:51] কি অলরে কোনে ডাকছে দেখো মুখপুড়াগুলো।
  Look at these wretched things, why are they calling from the corner?

[19:53] এই কে আছিস এদেরকে তাড়া তো।
  Hey, who is there, chase them away.

[19:55] বিরক্ত মুখে বলল যমুনার মা।
  Yamuna's mother said with an annoyed face.

[19:58] উঠনে পড়ে থাকা ইটের টুকরো ছুড়তেও নড়লো না একটাও কাক।
  Not a single crow moved even after throwing pieces of brick lying in the courtyard.

[20:05] কুচকুচে কালো দাড় কাকগুলো কি যে বলতে চাইছে ওরাই জানে।
  Only the jet-black crows know what they want to say.

[20:09] রঞ্জন ঘর থেকে লগাটা দে তো রঞ্জনকে বলল রজত।
  Rajat told Ranjan, "Ranjan, give me the pole from the room."

[20:14] দুই ভাইও যেন এই কলহে কখন এসে দাঁড়িয়েছে উঠনে।
  The two brothers also seemed to have arrived and stood in the courtyard during this commotion.

[20:21] হ্যা আনছি দাঁড়াও।
  Yes, I am bringing it, wait.

[20:22] বলে ঘরের দিকে যেই এগোতে গেল রঞ্জন ঠিক তখনই ধরাম করে নিজের ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো কুসুম।
  As soon as Ranjan said this and started moving towards the room, Kusum came out by banging open her room door.

[20:31] সাদা থানের আঁচল দিয়ে মাথায় কাপড় দেওয়া থাকলেও এলোমেলো সে ঘুমটা খসে পড়বে পড়বে অবস্থা।
  Even though her head was covered with the end of her white sari, her veil was disheveled and about to fall off.

[20:37] হাতে পোড়া খালি মালসা।
  In her hand was a burnt, empty earthen pot.

[20:43] তোমাদের উঠানোটা কি ফুটছে গো হ্যা

[20:48] কথা বলতে নেই ছোট তুই মুখ বন্ধ করে এগুলো

[20:51] ভাসিয়ে দিবি পুকুরে ফিরতি পথ অব্দি কথা

[20:54] বলবিনি আমরা যাচ্ছি চল তোর

[20:57] সাথে ওই হাড়িতে কি ফুটছে গো ঠাকুরজি তুমি

[21:03] চল আগে কাজগুলো সেরে নাও তারপর কথা বলব

[21:07] কেমন ওটা কি ফুটছে গো

[21:12] কেউ বলছে না কেন এবার বিরক্ত হলো বোধহয়

[21:16] কেউ কেউ পাছে কেউ কিছু ভাবে তাই তড়িঘড়ি

[21:19] যমুনা বলল চ ছোট বেলা পড়ে যাচ্ছে পুকুরে

[21:24] ডুব দিতে হবে আবার আরে একা তো ভ্যান

[21:27] ভ্যান করেই যাচ্ছে কি ফুটছে বলতে পারছিস

[21:29] না গো ভাত তো ভাত এইনে নে মালসা নে মালসা

[21:32] এক মালসা ভরে ভাত দে

[21:34] আমাকে খিদে মরে গেল পোড়া মালসাটা যমুনার

[21:39] দিকে এগিয়ে ধরলো

[21:41] কুসুম যমুনা থ বাকিরা বাকি

[21:45] হারা কি বলল ছোট

[21:48] বউ সবাই ভুল শুনছে নাকি

[21:52] সবার দিকে চোখ বুলিয়ে এবার রাগান্বিত গলায়

[21:56] কুসুম বলল কানের মাথা খেয়েছে সব নাকি বলে

[22:00] হনহন করে এগিয়ে গেল উঠনে জ্বলতে থাকা

[22:03] উনুনের

[22:04] দিকে মাথার কাপড় খসে

[22:07] পড়েছে উড় রুক্ষ চুল কাঁধ পিঠময়

[22:11] ছড়ানো হাওয়ায় উড়ছে

[22:14] চুলগুলো টকবক করে ফুটছে ভাত উকি মেরে দেখে

[22:18] নিল কুসুম হাড়ির ভেতর

[22:20] টা তারপর নাকে টেনে নিল ফুটন্ত ভাতের

[22:25] গন্ধ। পাশে রাখা পেতলের একটা বড় হাতা ছিল

[22:29] সেটা তুলে নিল। তারপর হাড়িতে সেই হাতা

[22:33] ডুবিয়ে ভাত তুলে এনে হাতে রাখা পোড়া

[22:36] মালসায়

[22:38] ঢালতে

[22:40] লাগল। সবাই স্থির।

[22:43] সবাই যেন মাটির পুতুল হয়ে গেছে। কাকগুলো

[22:47] আরো জোরে কা করে চিৎকার করতে থাকলো।

[22:50] কয়েকটা কাক উড়ে এসে বসলো উঠনে।

[22:54] বলল যা দাড়া দিকে নে। ওপরের দিকে তাকিয়ে

[22:58] বলল

[22:59] কুসুম। কোথায় কাকগুলোকে উদ্দেশ্য করে।

[23:02] কেননা কাকগুলো আশ্চর্যভাবে চুপ করে

[23:06] গেল। বড় বড় পুটি চোখ দিয়ে দেখতে লাগলো

[23:09] কুসুমকে।

[23:11] মালসা উপচে ওঠা গরম ফ্যান ফ্যান ভাত নিয়ে

[23:15] ওখানেই বসে পড়ল কুসুম।

[23:18] থেবড়ে উঠনে বসে ওই আগুন গরম ভাতই হাতে

[23:22] করে তুলে গোগ্রাসে খেতে

[23:25] লাগল। যেন আজন্মের খিদে

[23:29] পেটে একটা কাক উড়ে ঠিক কুসুমের কাঁধে

[23:32] গিয়ে

[23:34] বসল। ভুক্ষে ফেন সদ্য বিধবা বাড়ির ছোট

[23:38] বউ।

[23:39] এক গুষ্টি লোকের সামনে বসে চেটে পুটে খেতে

[23:44] থাকলো ফ্যানে

[23:46] ভাত

[23:48] কাঁধে একটা কাক

[23:54] [মিউজিক]

[24:01] নিয়ে সন্ধে হয়েছে ঘরে ঘরে হ্যারিকেন

[24:06] জ্বলছে উঠনের যেখানটায় অঞ্জনের এর দেহ

[24:09] রাখা হয়েছিল সেখানে চার কোণে চারটে

[24:12] প্রদীপ

[24:14] বেশি করে তেল দিয়ে রেখেছে যমুনা যাতে

[24:17] সারারাত

[24:18] জ্বলে অপঘাতে মৃত্যু তিন দিনে

[24:21] শ্রাদ্ধ যদিও গতকাল অঞ্জন মারা গেছে সেই

[24:25] হিসেবে আজ দুদিন হয় কিন্তু গ্রামের ভরচাজ

[24:29] মোশাই বিধান দিলেন তাদের গোত্র মতে আজ

[24:31] একদিন ধরা হবে শ্রাদ্ধ হবে

[24:35] পরশু দোতলায় কুসুমের মাযে যে ঘরে আছে

[24:39] সেখানেই মেয়েকে নিয়ে গেছে। বিকেল থেকে

[24:42] পাখি পড়ানোর মত করে মেয়েকে বুঝিয়ে

[24:45] চলেছে মা। দুপুরের ওই কান্ড সবটাই শুনেছে

[24:49] ওর মা। মেয়েটার কি মাথার দোষ হলো? হঠাৎ

[24:53] এমন ঘা

[24:54] খেয়ে বুঝতে পারছে না। এ তুই কি করছিস রে

[24:58] পোড়ার মুখে? কেন করছিস এরকম? লজ্জায়

[25:02] মাথা কাটা যাচ্ছে আমার। তুই তো তুই তো

[25:07] এমনটা কখনো ছিলি না। তাহলে

[25:11] আমের টক মিষ্টি আচারে বয়ামটায় হাত লুবিয়ে

[25:15] একটা করে আমের টুকরো তুলছে আর মুখে পুড়ছে

[25:19] কুসুম। বয়াম ভরা আচার প্রায় মাছ বরাবর

[25:22] শেষ। হাতে মাখামাখি আচারের তেল মসলা।

[25:26] শুনতে পারছিস আমি কি বলছি? সবে বিধবা

[25:31] হয়েছিস তুই। এখনো 48 ঘন্টা বের হয়নি আর

[25:36] তুই কিনা ছি ছি ছি মায়ের কথা আদু কানে

[25:41] ঢুকছে বলে মনে হলো না কুসুমের সে হাতে

[25:44] গড়িয়ে পড়া তেল জিভ দিয়ে চেটে

[25:51] নিল দরজায় ধাক্কা পড়তেই ত্রস্ত হয়ে

[25:54] পড়ল কুসুমের মা দৌড় দিয়ে মেয়েকে

[25:57] বোঝাচ্ছিল এতক্ষণ এমনিতেই ঢিঢি পড়ে গেছে

[26:01] তার উপর এখন যদি শ্বশুরবাড়ির কেউ মেয়ের

[26:03] এই রূপ দেখে তাহলে যে কি হবে ভাবতেও হাত

[26:07] পা ঠান্ডা হয়ে এলো ওর মায়ের সরা আচার

[26:11] সরা শিগিরি

[26:13] কুসুমের হাত থেকে আচারের বয়ামটা কেড়ে

[26:15] নিতে চাইল মাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিল

[26:19] কুসুম ততক্ষণে দরজায় ফের ধাক্কা

[26:23] মাসিমা দরজাটা খুলুন আমি জমুনা

[26:28] আর উপায় নেই দরজাটা খুলে দিলো কুসুমের

[26:32] যমুনা ঘরে ঢুকেই দেখতে পেল কুসুমের আচার

[26:35] খাওয়া। বড় বড় চোখ করে এসে বলল,

[26:40] ছোট তেল মসলা খেতে নেই এ কদিন। আপনি বারণ

[26:44] করেননি মাসিমা। বারণ কি আর করিনি বাঁচা।

[26:49] সেই থেকে বলেই

[26:51] যাচ্ছি। কি যে হয়েছে

[26:54] মেয়েটার। এমন ধারাও নয় গো। বিশ্বাস করো।

[26:59] যমুনা এগিয়ে গেল কুসুমের দিকে। এক ঝটকায়

[27:03] হাত থেকে আচারের বয়ামটা কেড়ে নিল। বলল,

[27:06] অনেক বাড়াবাড়ি হয়েছে তোর। গা ঘরে এমন

[27:09] ধারা চলবে না। লোকে থুথু ফেলছে তোর

[27:11] দুপুরের কান্ডর জন্য। ওই কান্ডের ক্যাটায়

[27:14] আগুন। আমাকে আমাকে আচারটা দাও। দাও শিগিরি

[27:18] দাও। কেড়ে নিলে কোন

[27:21] সাহসে? এ কি

[27:23] ব্যবহার? ছি ছি। তোর গুরুজন হয় যমুনা তুমি

[27:29] যাও তো বাঁচা আমি দেখছি ওকে শোখে তাপে ওর

[27:34] মাথাটাই খারাপ হয়ে গেছে বোধ হচ্ছে তাই

[27:37] দেখুন মাসিমা গায়ে কান পাতা যাবে না এরপর

[27:41] এমনিতেই দুপুরে যা করেছে ওকে রাতের খই

[27:45] মিষ্টি আমি এখানেই দিয়ে যাচ্ছি খাইয়ে দিন

[27:48] আপনি এখানেই শুইয়ে দিন তেমন

[27:51] বুঝলে খই মুড়ির মুখে লাতি দুপুরে এক মুচা

[27:55] কাল যাতে এই খই মিষ্টির

[27:57] পিন্ডি না খাইয়া মারবে সব আমাকে অত সাহজ

[28:02] নয় হ্যা

[28:04] বুঝলে বলতে বলতেই দরজা খুলে ছুট লাগালো

[28:07] কুসুম সিড়ি দিয়ে তরতড়িয়ে নেমে এসে নিজের

[28:10] রান্নাঘরে ঢুকে পড়ল সব বাসন খুলে দেখতে

[28:14] থাকলো কি আছে কিন্তু অসৌচের বাড়ি কি বা

[28:18] থাকবে রান্না করা রাতে সবারই ওই ফলাহারি

[28:22] চলবে কিছু না পেয়ে হাড়ি করা আছড় মেরে

[28:25] ফেলতে লাগল

[28:27] কুসুম। বাসন মেঝেতে পড়ার শব্দে সারা

[28:30] বাড়ির যে যেখানে ছিল সবাই ছুটে এল। পুরো

[28:34] রান্নাঘর তচনচ করে ফেলেছে কুসুম। এক অজানা

[28:37] আক্রোশে সব ঝুড়ছে ভাঙছে শাড়ি আলু থালু।

[28:41] সেদিকে হুস নেই। ও কি? ও কি করছো বৌমা?

[28:46] খুরশাড়ি বলল। গলায় ভয়। সামনে জমা

[28:51] ভিড়কে ধাক্কা মেরে সরিয়ে বড় ভাসুরের

[28:53] ঘরে গেল কুসুম। এক দৌড়ে যে যা হবিশি

[28:57] দিয়েছে সব এখানেই রাখা হচ্ছে। বড় ধামা ভরা

[29:00] ফল খই মিষ্টি মুরগি হামলে পড়লো কুসুম

[29:04] ওখানে। মেঝেতে থপ করে বসে এলো পাথাড়ি খেতে

[29:07] লাগলো কলা, মিষ্টি আম সত্য। কোনটাই পুরোটা

[29:11] শেষ করার ধৈর্য নেই। এক হাতে একটা মিষ্টি

[29:14] মুখে পুড়ছে। অন্য হাতে একটা কলার অর্ধেকটা

[29:17] কামড়ে বাকিটা ফেলে দিচ্ছে। মুখময় তখনো

[29:20] আচারের তেল। এ কি অলকুলে বউরে বাবা। এর

[29:24] জন্যই আমার দাদাটা চলে গেল। ভড় থেকে বলে

[29:27] উঠলো দুঃসম্পর্কের সেই ননদ। তেড়ে গেল

[29:30] কুসুমের দিকে। হ্যা হ্যা হ্যা বেশ করেছি।

[29:32] বেশ করেছি খেয়েছি বেশ করেছি। খেতে পেয়েছে

[29:35] খেতে দিবি না কেন তোরা? আমি আমি যাকে পাব

[29:39] তাকেই খাবো।

[29:41] বলতে বলতেই কুসুম দৌড়ে গেল উঠনের দিকে।

[29:44] অন্ধকার উপরের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে

[29:46] বলল, এই তোরা চুপ করে কেন? চিল চিৎকার

[29:50] শুরু কর। শুরু কর। এত শান্তি সহ্য হয় না

[29:54] মটে আমার শান্তি সহ্য হয় না কথা শেষ হতে

[29:59] যতক্ষণ রাতের বেলা কোথা থেকে সয়ে সয়ে

[30:02] কাকগুলো ফের চলে এল উঠনময় ঘুরে কা করে

[30:06] চিৎকার করতে থাকলো সেই

[30:09] দেখে হেসে লুটিয়ে পড়ল

[30:12] কুসুম হাসতে হাসতে উঠনের একপাশে পড়ে থাকা

[30:15] একটা কুলো তুলে নিল বড়ি শুকতে দেওয়া হয়

[30:19] ওটায় কুলোটা নিয়ে নাড়তে নাড়তে বলল সাপ

[30:22] কাটাকে

[30:23] বাতাস দিয়ে বিদায় করব যদি আমার সাথে লাগতে

[30:26] আসিস হ্যা মনে রাখিস এমন তোরা মেয়ে মানুষ

[30:30] দেখিনি বাপু কোথা থেকে জুটেছিলি এটা কি

[30:35] রজত এই একটা ঘরের বউ রাক্ষস

[30:39] কথাকার মা পাগল নয় তো লুকিয়ে বিয়ে দিয়েছিল

[30:44] হয়তো দেখো

[30:46] গে পাঁচজন পাঁচ রকম কথা বলছে বলবে যমুনা

[30:52] কপাল হাত দিয়ে চুপ করে বসে

[30:55] আছে। বিনি মায়ের গায়ের সাথে গুটিশুটি

[30:58] মেরে বসে। বলি ও বৌমা তোমার ছোট জয়ের

[31:03] ব্যাপারখান কি বলতো? এমন তরই নাকি ও

[31:08] জেঠি শাশুড়ির কথায় চোখ তুলে তাকালো

[31:10] যমুনা। বলল না জেঠি মা এমনটা নয় ছোট।

[31:15] একটু ঝগড়াঝাটি করতো ঠাকুরপোর সাথে।

[31:18] কিন্তু অমন তো স্বামী-স্ত্রীতে হয়েই

[31:20] থাকে। তাহলে হঠাৎ এমন করছে তাই তো

[31:26] দেখছি বলি আরি রজতের কি দরকার ছিল বাপু

[31:30] তোর খোজখবর ভালো করে না নিয়ে বেয়ে দেবার

[31:33] পাগল ছাগল মেয়ে যত কাকি পাগল নয় গো তুই

[31:38] ধামছুরি কতটুকু জানিস তুই দুনিয়ার আরেকটু

[31:42] দেখে শুনে মেয়ে আনলে ক্ষতি কি ছিল বেশ

[31:46] ছেলে ছিল আমাদের পুজো আচ্ছা নিয়ে সেজন্যই

[31:49] আরো শিগরি বিয়ে দিলেন বট ঠাকুর ঠাকুরপতো

[31:53] বিয়েতে মতই দিচ্ছিল না যদি সন্ন্যাসী

[31:56] হয়ে যায় সেই ভয়ে রাগও তোমার সন্ন্যাসী

[32:00] অত সোজা সন্ন্যাসী হওয়া অত সোজা

[32:04] সন্ন্যাসী হওয়া হ্যা অঞ্জন পুজো আচ্ছা

[32:07] করতো যোগ ছিল তাই বলে সংসার না করার মতো

[32:11] ছিল না একদম চুপ করে রইলো

[32:14] যমুনা কি

[32:16] বলবে এই জ্ঞাতি শাশুড়ি ননদ আত্মীয়দের কি

[32:20] বলবে

[32:22] ঠাকুরপ শুধু পূজো আচ্ছা করলে এত শিঘরি

[32:24] বিয়ে দেওয়া হতো না। ওর মেজদাও চাননি। আর

[32:28] দুটো বছর বাদেই ইচ্ছে ছিল সকলের। কিন্তু

[32:30] সেই যে একদিন বিনির বাবা বর ঠাকুরকে বললেন

[32:33] ও সব। তারপরেই

[32:34] তো এত কথা বলা যায় কখনো।

[32:38] ঠাকুরপ কি করতে যে সেবার সেই গ্রামে

[32:42] গেল। আজকের মত পাঠ

[32:46] চুটলো। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে হয়তো। নয়তো

[32:50] নিজেদের মধ্যে আলোচনা

[32:52] করছে। যমুনার চোখে ঘুম

[32:55] নেই। বিনি যমুনা আজ দোতলায় শুয়েছে কুসুমের

[33:00] মায়ের

[33:01] সাথে। কুসুমকেও এখানেই শোয়ানো হয়েছে

[33:04] মাটিতে। কম্বল পেতে তার উপর শুয়েছে

[33:07] মেয়েটা। খাটে বিনি আর কুসুমের মাকে দিয়ে

[33:11] যমুনা নিজে ছোট জায়ের পাশেই

[33:13] শুয়েছে। অঞ্জনদের শোয়ার ঘরে রঞ্জন

[33:16] জেঠামোশাই খুরতুত ভাই। রজত সেই ঘরেই

[33:20] মাটিতে শুয়েছে

[33:21] নিয়মমত। বাদবাকি সবাই মাটিতে খাটে যেভাবে

[33:24] পেরেছে

[33:28] শুয়েছে। যমুনার চোখে ঘুম

[33:31] নেই। এমন অকাল মৃত্যু মানা যায় না। কষ্ট

[33:36] তো

[33:36] আছেই। আর

[33:38] আছে কতগুলো

[33:41] প্রশ্ন। যেগুলো কাল থেকে ভাবার সময়

[33:44] পায়নি। এত তাড়াতাড়ি সব ঘটে গেল যে

[33:47] একবারও যমুনার মনে হয়নি কাল দুপুরে ওভাবে

[33:50] পড়ে গেল কিভাবে

[33:52] ঠাকুরপো ঘরের বিছানায় ওটা কে

[33:55] ছিল আদৌ কেউ ছিল নাকি মনের ভুল

[34:00] তিনটে মানুষই ভুল

[34:03] দেখল ভেবেই চলেছে

[34:05] যমুনা পাশ ঘুরে একবার কুসুমকে দেখে

[34:09] নিল অঘরে ঘুমোচ্ছে

[34:11] মেয়েটা আহারে

[34:15] কপাল পুড়লো কতটুকু

[34:18] বয়সে। সোয়ামির সোহাগ বোঝার আগেই সিদুর

[34:21] মুছে গেল

[34:23] মেয়েটার। এই কদিনেই মেয়েটাকে বড় স্নেহ করে

[34:26] ফেলেছে

[34:27] যমুনা। এতদিন তো একাই ছিল

[34:30] সংসারে। মেয়েটা এই কমাসে যেন নিজের বোনের

[34:33] মতোই হয়ে

[34:35] গেছে। কিছু ভুল ত্রুটি সকলের থাকে। সব

[34:39] মিলিয়েই তো মানুষ। কুসুমেরও তাই। গঞ্জের

[34:44] আদব কায়দায় বড় হওয়া মেয়েটা একটু হয়তো

[34:46] আলাদা। কিন্তু ভালোও খুব কি যে হয়ে গেল।

[34:51] এমন তোর আচরণই বা কেন করছে

[34:54] কুসুম? ওরাই কি তবে ঠিক বলেছে?

[34:57] ব্যামও। মাথার ব্যামও

[35:00] হলো। হঠাৎ সুয়ামীর মৃত্যু নিতে পারলো না।

[35:04] মনে ঘা লাগলো বেশি।

[35:07] তেমন আছড়ি পিছাড়ি কাঁদলোও তো না। ঠায় কেমন

[35:11] তাকিয়ে রইল।

[35:13] বুক ফেটে কাঁদলে হয়তো এমনটা হতো

[35:16] না। শোকে কি সত্যিই পাগল হয়ে গেল মেয়েটা?

[35:21] মা ওমা হঠাৎ বিনির ডাকে চমকে উঠলো

[35:26] যমুনা। ফিসফিস করে ডাকছে

[35:29] বিনি। কখন নিচে নেমে এসেছে বোঝেনি যমুনা।

[35:33] ঘুমসনি এখনো। খাট থেকে নামলি কেন? যা সোগে

[35:39] যা। মা শোনো না। বাথরুম যেতে হবে নাড়াবো

[35:45] না না শোনো আমার একটা কথা এখন কথা না বিনি

[35:50] কাল সকালে যা বলবার বলবি হুড়ি সবে

[35:53] ঘুমিয়েছে উঠে পড়বে আমার একটা কথা শোনো

[35:57] তুমি তুমি এটা একবার দেখো মা আহ জ্বালাসনি

[36:03] তো খাটে যা বিরক্ত হয়ে বলল যমুনা কিন্তু

[36:07] চাপা গলায় যদি উঠে পড়ে

[36:10] ওরা হাতের মধ্যে কি একটা গুজে দিল

[36:14] বিনি। তারপর চুপচাপ খাটে উঠে শুয়ে

[36:19] পড়ল। কাগজের মত এটা কি? এতটাও পাত্তা

[36:23] দেওয়ার দরকার নেই। ওটা বালিশের তলায় রাখতে

[36:27] গিয়েও উঠে বসলো

[36:30] যমুনা। চোখের সামনে

[36:33] ধরল। বোঝা যাচ্ছে না চুক মত একটা

[36:37] কাগজ। কিন্তু মোটা বেশ কাগজটা।

[36:40] ছবি যেমন হয় সেরকম। কুসুমের বিয়ের সময়ও

[36:44] ওদের বাড়ি থেকে এমন কাগজেই ছবি

[36:47] পাঠিয়েছিল। সেটাই

[36:49] নাকি? বিনি খুঁজে পেয়েছে

[36:53] হয়তো। ঘরের হ্যারিকেনটা এতই কমানো বোঝা

[36:57] গেল না

[36:58] কিছুতেই। ঘুমিয়ে পড়বে বা কাল দেখবে ভেবে

[37:02] ও। কি মনে হতে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল

[37:05] হ্যারিকেনের দিকে।

[37:11] শিখাটা একটু বাড়িয়ে তার সামনে কাগজটা

[37:16] ধরলো। আর ঠিক

[37:18] তখনই পৃথিবীর সমস্ত কাক বোধহয় একসাথে

[37:23] ডেকে উঠলো গোটা বাড়ি

[37:28] জুড়ে। কাগজটার দিকে তাকিয়ে বুকের রক্ত

[37:33] বরফ হয়ে গেল যমুনার।

[37:36] সেই সাদা এক মাথা রুক্ষ

[37:39] চুলওয়ালা সামনের দুটো দাঁত ভাঙ্গা কালো

[37:43] কুচিত বুড়ির

[37:45] ছবি একটা চাকা ছাড়া রথে বসে আছে

[37:49] বুড়িটা একপাশে একটা

[37:52] কুলো

[37:54] অন্যপাশে একটা দাড়

[37:57] কাক এই ছবিটা আগেও দেখেছে একবার

[38:01] যমুনা সেই যে সেইবার

[38:06] কিন্তু এটা এখন এতদিন বাদে বিনি কোথায়

[38:12] [মিউজিক]

[38:14] পেল? দশমহাবিদ্যার ওই বইয়ে দেবী ধুমাবতীর

[38:18] যে ছবিটা ছিল সেটা দেখে দেখে একটা সাদা

[38:22] কাগজে পেন্সিল দিয়ে আঁকার চেষ্টা করেছে

[38:26] অঞ্জন। হাত মন্দ হয়নি। নিখুত না হলেও কাজ

[38:32] চলার মত হয়েছে। কোথাও দেবীর ছবি মূর্তি

[38:36] পাওয়া যাবে না জানে

[38:37] অঞ্জন কিন্তু পূজো করতে গেলে কিছু তো একটা

[38:40] প্রয়োজন তা ছবিই হোক বা মূর্তি ওই ছবিটাই

[38:45] নিয়ে গেছিল গঞ্জে

[38:46] স্টুডিওতে ফটোর মত করে দিতে বলেছিল ওটাকে

[38:50] দোকানদার ছোকরা ফ্যালফ্যাল করে তাকালেও

[38:53] শেষমেষ ছবি তুললে যেমন হয় তেমনটা করে

[38:56] দিয়েছিল ওর হাতে আঁকা ছবির

[38:59] কাগজটাকে ছবিটা কালো আসনে রেখেছে অঞ্জন

[39:03] পুজোর উপকরণ অনুযায়ী বড় সুপারি, কাজল,

[39:07] কাঠের বোর্ড, মাটির প্রদীপ, কালো কাপড়,

[39:10] ধূপ ইত্যাদি জোগাড় হয়েছে

[39:13] সহজেই। কিন্তু যোগাড় হয়নি যেগুলো তা হলো

[39:17] কালো হাকিক মালা, কালো উড়াদ ডাল, সদগুরুর

[39:21] ছবি। প্রথম দুটো নাম শোনেনি অঞ্জন। দু

[39:25] চারটা দশকর্মায় জিজ্ঞেস করেছে তারাও

[39:28] শোনেনি। শেষেরটা নিয়ে মনে একটু দ্বিধা

[39:31] ছিল। ওই সাধুও বারবার বলেছিল সঠিক গুরু

[39:35] ছাড়া এ পূজো

[39:37] অসম্ভব। কিন্তু কোথায় এখন গুরু পায়

[39:39] অঞ্জন? কে এই পূজোয় সাহায্য করবে? কেনইবা

[39:54] করবে? সূর্যোদয়ের পরে বা প্রদোষের সময়

[39:58] পূজো করা উচিত। প্রদোষ অর্থাৎ সূর্যাস্তের

[40:02] দেড় ঘন্টা

[40:03] আগে প্রথমটাই বেছে নিয়েছে অঞ্জন। দিনের

[40:07] আলোয় দরজা বন্ধ করে পুজো করলে বাড়ির

[40:11] লোকেদের সন্দেহ হতে

[40:15] পারে। সন্ধে 7তটা বেজে 10

[40:18] মিনিট। পশ্চিম দিকে ধুমাবতীর ছবিটা রেখে

[40:22] যথাসম্ভব নিয়ম অনুযায়ী পুজোয় বসলো

[40:27] অঞ্জন। বইটা প্রদীপের সামনে রাখল।

[40:31] বিড়বিড় করে বইতে লেখা

[40:33] মন্ত্রগুলো উচ্চারণ করতে লাগল।

[40:38] ধুমধতে শত্রু

[40:41] বিনাশায়

[40:46] ধুমতথা

[40:49] সহাম ধুম

[40:52] ধুমধতে শত্রু বিনাশায়

[40:59] ধুমত সহা

[41:04] [মিউজিক]

[41:06] আজ এ বাড়ির অসৌচের দ্বিতীয় দিন। বেলা 11

[41:10] টা বাজে। অভিষেক জোগাড় তৈরি। যমুনার

[41:14] শরীরটা ভালো নেই। সকাল থেকেই গড়িয়ে আছে

[41:18] সে। কাজকর্ম বাড়িতে থাকা জ্ঞাতি মহিলারাই

[41:22] করছে সব।

[41:25] [মিউজিক]

[41:32] তুই তুই এটা কোথায় পেয়েছিস?

[41:36] ছোট খুরোর বালিশের তলায়। মিথ্যে বলিস

[41:40] নিবি? নিশ্চয়ই ওই বন্ধ ঘরে ঢুকেছিলি তাই

[41:43] না? যমুনা ভাবল, ঠিকই তো। সেই ঝামেলার পর

[41:48] ওই ঘর তালা দিয়ে চাবি বর ঠাকুর নিজের

[41:50] কাছেই রেখে দিয়েছেন। সেই থেকে ঘর খোলা

[41:53] হয়নি। সে বলল

[41:56] ছোট খুরোর বালিশের তলায় পেয়েছিস সত্যি

[42:00] হ্যাঁ মা বালিশের তলায় কি দেখছিলি তুই

[42:03] বকবে না তো বল না বল ছোট খুরি আমলকি মসলা

[42:10] মাখানো রাখে তো বালিশের তলায় যখন তখন মুখে

[42:14] দেয় তাই খেতে গিয়ে পাশে রাখা খুরোর

[42:17] বালিশের তলায় এটা কবে পেয়েছিস ওইতো যেদিন

[42:22] অমনটা হলো সেদিন দিনের আগের দিন ঠাকুরপো

[42:26] মারা যাওয়ার আগের দিন হ্যাঁ তুই যা কাউকে

[42:30] বলবি না কিছু আর শোন তোর বাবাকে পাঠিয়ে

[42:34] দিস তো আড়াল করে বলবি যে আমি ডাকছি সেই

[42:39] থেকে যমুনা ঘরে শুয়ে কখন যে মানুষটা আসবে

[42:43] ঘরে কে জানে কথাটা না বলা অব শান্তি হচ্ছে

[42:47] না একবার কি ডাকবে বিনিকে ডেকে বলবে ওর

[42:51] বাবাকে ডেকে দিতে শরীর খারাপ নাকি তোমার?

[42:56] ছোট বৌমার মা কই? রঞ্জনের গলায়

[42:59] তাড়াতাড়ি উঠে বসলো যমুনা। উঠে দরজাটা

[43:03] বন্ধ করল। আরে দৌড় দাও কেন? খেবললে নাকি?

[43:07] বাড়ি ভরা লোক। চুপ করো তো। তোমার সাথে

[43:11] সোহাগ করতে দরজা দেইনি। গা জ্বলে যায়

[43:13] কথার ছিড়ি শুনলে। আচ্ছা আচ্ছা। হয়ে

[43:17] যায়। বল কি বলবে?

[43:21] বাড়ি ভরার লোক বলেই কিনা বলা বালিশের

[43:24] নিচে রাখা ছবিটা ততক্ষণে বের করেছে

[43:28] যমুনা রঞ্জনের মুখের সামনে ছবিটা দেখিয়ে

[43:31] বলল এই যে দেখো এই দেখাতে দৌড় দিয়েছি

[43:35] বাড়ি ভরা লোকের সামনে বলবো যে ঠাউর উপর

[43:38] বালিশের নিচে এটা পাওয়া গেছে

[43:41] দেখি এ আবার কি এতো বিদায়

[43:45] হয়েছিল বর্দাকে ডাকি বর্দাকে বলতে হবে

[43:49] এটা কোথা থেকে এলো

[43:51] আবার বর্দা তো বিদায় দিয়েছিল চুপ চুপ

[43:55] চেচেও না সবাই শুনবে সবাই জানলে কি হবে

[43:58] বলতো বর্দাকে বলবো না নাকি

[44:02] বলবে পরে আড়ালে ডেকে বলবে

[44:06] এটার কি

[44:07] হবে এই কালের জিনিসটা আবার কোথা থেকে

[44:11] এলো অঞ্জন কি আবার ওসব তাই তো মনে হয় ওর

[44:16] বালিশের নিচে না হলে এটা থাকবে কেন ফের

[44:20] শুরু করেছিল হয়তো তা তুমি এটা ধরে বসে আছো

[44:23] কেন রেখে দিয়েছিলে কেন কাল রাত্রিরে এটা

[44:27] বিনি আমাকে দিয়েছে তোমাকে দেখাবো বলেই

[44:30] বিনি কতদিন নিয়ে ঘুরছে এটা ঠাউরপো মারা

[44:33] যাওয়ার দু একদিন আগে থেকে বোধহয়

[44:37] মাগো ভগবান কি অনা সৃষ্টি করছো

[44:41] ভগবান শোনো তুমি এটা ফেলে দাও

[44:44] এখনই আর অমঙ্গল ডেকো না ফেলে দেবো

[44:49] কোথায় ফেলবো যেখানে খুশি ফেলো ঘরে রেখো না

[44:54] বর্দা কি বলেছিল মনে নেই এ কালের জিনিস

[44:59] ফেলে দেওয়া যায় না ওভাবে যতই হোক দেবতা

[45:02] বলে কথা

[45:04] দেবতা বল অপদেবতা

[45:08] বরঞ্চ পুড়িয়ে দি বুঝলে ফেলে দেবার থেকে

[45:12] ভালো সে তুমি যাই বলো ইনি মানুষ তো নন ভূত

[45:16] প্রেত নন ফেলা যায় না মোটেও

[45:19] আচ্ছা ঠিক আছে পুড়িয়েই

[45:22] দাও। আমি তেশলাই জ্বালছি। কাছায় ঝোলানো

[45:26] একটা ঝোলা থেকে দেশলাই বের করল

[45:29] রঞ্জন। ফস করে জালতেই দরজায় ধুমধুম করে

[45:33] ধাক্কা পড়ল।

[45:37] দৌড় খোলো। দৌড় খোলো। কি সবস হয়েছে দেখে

[45:41] যাও। শিঘরে এসো গো। ছোট বউ। ছোট মা কুর

[45:47] শাশুড়ির গলা না দড়ি ঘড়ি দরজা খুলে নিচে

[45:51] ছুটলো যমুনা আর

[45:52] রঞ্জন বাড়ি শুদ্ধ লোক উঠনে দাঁড়িয়ে

[45:56] সবাই হা করে তাকিয়ে ওপর দিকে তাদের

[46:00] দৃষ্টি বরাবর ওরাও

[46:02] দেখল উঠনের সেই কাঁঠাল গাছটার একেবারে

[46:06] ওপরের ডালে

[46:07] বসে পাদল আছে কুসুম

[46:16] চুল এলিয়ে হিহি করে

[46:18] হাসছে। কাকুগুলো যথারীতি ওর চারপাশে উঠছে।

[46:25] ঠিক

[46:25] তখনই ওপর থেকে একটা আর্ত চিৎকার ভেসে এল।

[46:30] খুর শাশুড়ির গলা। যে ডাকতে গেছিল ওদের।

[46:34] নামার সময় খেয়াল করা হয়নি সে নেমেছিল

[46:36] কিনা। জলান জলান পুড়ে গেল। সব পুড়ে গেল।

[46:40] সব জ্বলে গেল গো। যে পারলো ছুট লাগালো

[46:43] উপরে রঞ্জন সবার আগে গিয়ে দেখল মেঝেতে

[46:47] পাতা বিছানায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে

[46:50] সেই আগুন বালিশ কম্বল পুড়িয়ে বিছানার

[46:53] দিকে এগিয়েছে হাতের দেশলাই কাঠিটা তখন

[46:57] ফেলে দিয়েছিল রঞ্জন তাতেই আগুন ধরলো

[47:01] কিন্তু এত

[47:02] আগুন যমুনা এসে দেখল খুর শাশুড়ি কাঁদছে

[47:07] আর বিলাপ করছে

[47:11] কি অলক্ষণে কান্ড হচ্ছে

[47:14] গো। তোরা নেমে গেলি। তখনো তো আগুন ধরেনি।

[47:19] এমনি তোর বেবাক আগুনে আমি কখনো পুড়তে

[47:23] দেখিনি। এতখানি বয়স হলো। ও সূর্যের বাড়িতে

[47:28] আগুন লাগলো। একে তো অপঘাতে মরণ। তাই তাই

[47:33] আবার এসব কান্ড। দেখো ঠাকুর দেখো রক্ষা

[47:39] করো রক্ষা

[47:42] করো কথা শেষ হওয়ার আগেই হি হি করে কুৎসিত

[47:47] তীঘ্ন গলার হাসি শোনা

[47:54] গেল পড্ড হাসি বলা যায় না কেননা গলার

[47:58] আওয়াজটা সূক্ষ সুচের মত কানে বেঁধে সেই

[48:02] সুচের মত অথচ তীব্র শব্দে হিহি করে হাসিতে

[48:06] গোটা বাড়িটা যেন কেঁপে

[48:08] উঠল। জন্মস্তক এমনতর হাসি কেউ

[48:19] শোনেনি। আমায় আগুনে

[48:22] পড়াবি? আমায় পড়াবি তুমি তো তোরা সব ছাই

[48:28] করে দেব। সব ছাই করে দেব। আমি পুড়িয়ে

[48:30] দেব। সব তোমায় ভরিয়ে দেব গোটা জগত

[48:33] সংসার। ছাই ছাই রঙের

[48:38] ধোয়া গলগলিয়ে

[48:41] উঠবে সব সব ঢেকে যাবে শুধু শুধু ধোয়ার

[48:52] ধোয়া বলো বলো ধু ধু ধুমাবতি সোয়া ধু ধু

[48:57] ধুমাবতি সয়া ধু ধু

[49:02] ছোট বউ কুসুম কাঠাল গাছে মগডাল থেকেই

[49:05] সমানেই এসব বলে যাচ্ছে। পা দুটো প্রবল

[49:08] বেগে দোলাচ্ছে আর বলছে বলতে বলতেই গাছের

[49:12] ডাল বেয়ে তরবড়িয়ে নেমে এল কুসুম। যেন

[49:16] টিকটিকি এক লাফে উঠনে গড়িয়ে পড়েই উঠে পড়ল।

[49:20] ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে

[49:22] বলল, বলুন না কুলর বাতাস দিয়ে বিদায় করব।

[49:26] স্বপ্নটাকে সব কটা মরবি আর কুলর বাতাস

[49:30] দিয়ে আপদ বিদায় করব। যেমন এটাকে পড়েছি ধু

[49:34] ধু ধুয়াবতি সহা বল ধু ধু ধুয়াপতি সহা বল

[49:39] ধু ধু

[49:42] [মিউজিক]

[49:46] ধুয়াতি আকাম সেটা বলেছে ব্যাস হয়েছে কোন

[49:52] সুখ তাপ নেই ওটার জন্য নিজে ডেকে এনেছিল

[49:56] মরণকে নিজে ডেকে এনেছিল আমাকে ঠিক হয়েছে

[50:00] ঠিক হয়েছে মনে কাছে আপু ছিল একখানা

[50:03] ডাক্তার গেছে

[50:04] কেন সাপটা তো ছেড়ে না ধুধু ধুয়াতি সহা

[50:10] ধুধু ধুয়া

[50:14] সহা সবাই চুপ ভয়ে কাটা বিষয়টা যে একেবারেই

[50:20] স্বাভাবিক নয় সবাই বুঝছে কিন্তু কি করণীয়

[50:24] বুঝছে না ঠিক সাহস করে কেউ এগিয়েও আসতে

[50:27] পারছে না তবুও ভিড় থেকে কুসুমের মা ভয়েভয়ে

[50:31] কোন রকমে বলল কাকে ডেকেছিল?

[50:36] মায়ের চোখে চোখ স্থির রেখে

[50:39] দাঁড়ালো

[50:41] কুসুম। চোখের ভেতরের সাদা অংশটা যেন ছাই

[50:44] ছাই রঙের। ধোয়ার মত খানিকটা জমাট বেঁধে

[50:48] থাকলে যেমনটা

[50:49] হয়। তীব্র চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে

[50:52] রাগান্বিত মুখে কুসুম উত্তর দিল,

[50:56] আমাকে ধুমাবতিকে

[51:10] প্রথম সন্ধ্যের পূজোটাই তেমন জুত করতে

[51:13] পারলো না অঞ্জন।

[51:15] কিসের পর কি কোনটা আগে কোনটা পরে কতখানি

[51:18] পরিমাণে কি দিতে হবে কিছুই ভালোমতো বুঝে

[51:22] উঠতে পারলো না আনাড়ি হাতে আর সাধারণ

[51:26] পূজোর যা অভিজ্ঞতা আছে তা মিলিয়ে কোন

[51:28] রকমে পূজো শেষ করে ফের ওই বইটা নিয়ে

[51:32] বসলো তবে আর ঠাকুর ঘরে

[51:35] নয় এতক্ষণ থাকলে বাড়ির সকলের সন্দেহ

[51:40] হবে দশমহাবিদ্যা বইটা নিয়ে নিজের ঘরে চলে

[51:43] গেল

[51:45] দোরটা হালকা ভেজিয়ে চেয়ার টেবিলে বসে পড়তে

[51:49] থাকলো।

[51:51] হ্যারিকেনটা জোর করে

[51:54] দিল। এটা বেশ লাগলো পড়ে

[51:57] অঞ্জনের। কি সুন্দর লিখেছেন

[52:00] লেখক। হ্যারিকেনের আলোটা ফের বাড়িয়ে দিল

[52:04] অঞ্জন।

[52:07] গুজ্জাতি গুজ্জ তন্ত্রে দশমহাবিদ্যাকে

[52:11] বিষ্ণুর 10 অবতারের উৎস বলে উল্লেখ করা

[52:15] হয়েছে। এই গ্রন্থ মতে মৎস অবতারের উৎস

[52:20] হলেন

[52:22] ধুমাবতী। মুন্ডুমালা গ্রন্থেও একটি অনুরূপ

[52:25] তালিকা রয়েছে। তবে উক্ত গ্রন্থ মতে

[52:29] ধুমাবতী হলেন বামন অবতারের উৎস।

[52:35] ধুমাবতী সর্বক্ষেত্রেই বিধবা রূপে কল্পিত

[52:37] হন। তাই তিনিই একমাত্র মহাবিদ্যা যার

[52:41] স্বামী নেই। যদিও তিনি শিবেরই স্ত্রী

[52:45] ছিলেন কিন্তু শিবকে তিনি ভক্ষণ করে ফেলেন

[52:49] এবং পরে শিব কর্তৃক পরিত্যক্তা হন। এই

[52:53] রূপে তিনি মহাবিশ্বের পুরুষকে ধ্বংস করে

[52:57] শূন্যের সঙ্গে বিরাজমান হন। কিন্তু তা

[52:59] সত্ত্বেও তার মহাশক্তি সত্তাটি ক্ষুন্ন

[53:03] হয় না। অনেক গ্রন্থে ধুমাবতির সদা অতৃপ্ত

[53:06] ক্ষুধা ও তৃষ্ণার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ

[53:10] করা হয়েছে। এটি তার অতৃপ্ত কামনা বাসনার

[53:16] প্রতীক। হ্যারিগেনে কি তেল

[53:19] নেই? এরা ঢেলে রাখে না কেন? বিরক্ত হলো

[53:23] অঞ্জন। একটা গুরুত্বপূর্ণ পড়ার মাঝে এনো

[53:26] বাধা ভালো লাগে। মেজো বৌদিকে হাঁটতে

[53:30] গিয়েও থেমে গেল। একবার দেখে নিল কি মনে

[53:34] হতে। হ্যারিকেনের চেপিটা খুলে আঙ্গুল

[53:37] ডুবিয়ে দেখল ভরপুর তেল। আঙ্গুল ডোবাতেই

[53:41] কেরোসিনের গন্ধে ভরে গেল চারপাশ। ভিজে গেল

[53:45] আঙ্গুল। অর্থাৎ রোজের মতই হ্যারিকেনে তেল

[53:49] ভরেই রেখেছে মেজো

[53:51] বৌদি।

[53:52] তাহলে বারবার নিভে আসছে

[53:55] কেন? আবার বাড়িয়ে দিল অঞ্জন। পড়তে

[53:59] থাকলো।

[54:00] দোমাবতীকে অমঙ্গলের দেবী মনে করে সাধারণ

[54:04] ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলা হলেও তাকে কোমল

[54:07] হৃদয়া এবং ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণকারী

[54:10] বরদাত্রী রূপে বর্ণনাও করা হয়ে থাকে।

[54:14] অনেক স্থানেই ধুমাবতিকের সিদ্ধি বা অলৌকিক

[54:18] ক্ষমতার প্রদানকারি বিপদ থেকে

[54:21] উদ্ধারকারিণী সকল কামনা পূর্ণকারিণী

[54:25] এবং মোক্ষদাত্রের রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

[54:32] ধুমাবতী যে সকল অমঙ্গলজনক বিষয়গুলোর দেবী

[54:35] সেগুলো ঠেকাতে এবং সত্যের ধোমরাচ্ছাদন

[54:37] উন্মোচন করতে তার পূজা করা হয়।

[54:41] তিনি অপবিত্রতা অমঙ্গলের প্রতীক এবং সমাজ

[54:45] বহির্ভূত বলে তার পূজা করলে পূজক সমাজের

[54:49] নিত্যনৈমিত্তিক দ্বন্দের বাইরে দৃষ্টিপাত

[54:52] করার শক্তি অর্জন করেন এবং সত্য জ্ঞান লাভ

[54:58] করতে সমর্থ

[54:59] হন।

[55:01] [মিউজিক]

[55:02] আচ্ছা বিবাহিত ব্যক্তিদের ধুমাবতীর পূজা

[55:05] করতে বারণ করা হয়। ধুমাবতীর পূজা

[55:09] সর্বত্যাগী ও পরিব্রাজক সন্ন্যাসীদের

[55:12] পক্ষেই সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত। ধুমাবতীকে

[55:16] একাকি ব্যক্তিদের বিশেষত বিধবাদের

[55:21] প্রতিপক্ষপাতী বলে বর্ণনা করা হয়।

[55:24] বিধবারাই একমাত্র তার শক্তি সহ্য করতে

[55:29] পারেন বলে মনে করা হয়।

[55:32] শক্তি সঙ্গম তন্ত্র মতে কোন ব্যক্তিকে

[55:35] উচাটন বা নির্মূল করতে ধুমাবতির পূজা করা

[55:40] যায়। পূজককে সেক্ষেত্রে জগৎ ও দেবীর

[55:44] মন্ত্রটিকে ধূষর রূপে কল্পনা করতে হবে।

[55:47] তাকে দাঁতে কালোর রং করতে হবে। কালো পোশাক

[55:52] পড়তে হবে এবং অল্পহার ভূমিস্যা ও

[55:55] ইন্দ্রিয় দমনের মত কয়েকটি নিয়ম পালন

[55:58] করতে হবে। এই পদ্ধতিটির কাক কর্ম অর্থাৎ

[56:02] অপরের ক্ষতি করতে হলে তাকে তার মনকে কাকের

[56:07] ন্যায় গড়ে তুলতে হবে। অন্য একটি

[56:10] তন্ত্রগ্রন্থের মতে পূজককে ধুমাবতের

[56:14] মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে শ্মশান ক্ষেত্রে

[56:16] একটি কাক দগ্ধ করে শত্রুর ঘরে ছড়িয়ে

[56:21] দিতে হবে। তবেই সে ধ্বংস প্রাপ্ত হবে।

[56:29] এমন আরো বহু নিয়মের কথা লেখা আছে সেই

[56:32] বইতে। সেগুলো গড়গড় করে আত্মস্থ করতে

[56:35] থাকে অঞ্জন। আরো লেখা আছে ধুমাবতীর

[56:39] মন্দিরের সংখ্যা অত্যন্ত অল্প। বারাণসীর

[56:42] একটি মন্দিরে ধুমাবতী হলেন প্রধান দেবতা।

[56:47] বারাণসীর মন্দিরটিকে শক্তিপীঠ বলে দাবি

[56:50] করা হয়। এই মন্দিরে দেবী রথারুহা ও

[56:54] চতুর্ভুজা

[56:57] তার চার হাতে কুল, ঝাঁটা, পাত্র ও অভয়

[57:02] মুদ্রা। এখানে ফল ও ফুল দিয়ে দেবীর পূজা

[57:05] করা হলেও মদ, ভাং,

[57:08] সিগারেট,

[57:10] মাংস এমনকি রক্ত দিয়েও পূজা করা হয়ে

[57:14] থাকে। উৎফুল্ল অঞ্জন দেবীর মাহাত্ব বুঝলো।

[57:19] বুঝলো ধুমাবতিকে খুশি করলে অনেক কিছু সহজ

[57:24] লভ্য হবে

[57:27] জীবনে সত্য জ্ঞান লাভ অর্জনে সক্ষম হওয়া

[57:30] সম্ভব দেবীকে তুষ্ট করলে দেবী তো

[57:35] ঈশ্বরী হন না আর পাঁচজনের চেয়ে আলাদা

[57:39] সন্তানের দোষ ত্রুটি কি তিনি ধরবেন সব

[57:42] নিশ্চয়ই না নিজের মনের মত করে যতদূর

[57:46] সম্ভব আচার পালন করে ধুমাবতীর পূজো করবে

[57:50] কাল থেকেই স্থির করল অঞ্জন।

[57:54] ওকে ঘুরো হ্যারিকেন নিভিয়ে দিয়েছো কেন?

[57:57] বিনির কথায় চমকে উঠলো অঞ্জন। আরে তাই তো

[58:02] কখন নিভলো হ্যারিকেন? কেনইবা নিভলো? তেল

[58:06] তো ভরা। এইমাত্র নিভলো নাকি আগেই? সে কখন

[58:11] থেকে দেখছে অন্ধকার ঘরে বসে আছো। মা

[58:14] পাঠালো তাই খোঁজ নিতে। কতক্ষণ মানে কতক্ষণ

[58:18] দেখেছিস অন্ধকারে আমাকে বকছো কেন আহ বকিনি

[58:23] বল নাবিনি কতক্ষণ দেখেছিস অন্ধকারে আমি

[58:27] পড়ছিলাম

[58:29] বারান্দায় অংক করছিলম তখনই দেখেছি আরে

[58:34] একটু ভেবে বল না তাও কতক্ষণ

[58:38] সাতটা অংক করলাম তো পাটি গণিত

[58:42] বিনির অংকে মাথা মোটেই সুবিধার নয় তাও

[58:45] আবার পার্টি

[58:46] গণিত অঞ্জন মাঝেমধ্যেই পড়তে বসায়

[58:50] বিনিকে। খুব জানে ওর সাতটা পাটি গণিত করতে

[58:53] কতখানি সময় লাগতে

[58:55] পারে। কিন্তু

[58:58] অতক্ষণ অন্ধকারে বইটা স্পষ্ট পড়লো কিভাবে

[59:03] অঞ্জন? ভেবে পেল না সে।

[59:12] ভটচাজ মশাই আমাদের আমাদের বাঁচান কি হচ্ছে

[59:17] কিছুই বুঝছি না

[59:20] তবে অঞ্জন ফের বোধহয় ওই পূজো শুরু করেছিল

[59:23] গোপনে রজতের কথায় বিরক্ত হলো রামরতন

[59:27] ভট্টাচার্য

[59:29] বলল গোপনে শুরু করেছিল

[59:32] মানে তোমরা বাড়ি ভর্তি লোক কি

[59:36] করছিলে বারবার নিষেধ সত্ত্বেও খেয়াল

[59:38] রাখতে পারোনি

[59:42] ঠিক আছে ভালোই ভালোই গাছের মেডুক তারপর

[59:46] দেখছি মুখ নিচু করে ফেলল রজত সত্যিই তো কি

[59:52] উত্তর দেবে

[59:55] সে প্রথম যখন অঞ্জন এই পাগলামি শুরু করে

[59:59] তখনও কটা দিন কিছুই বোঝেনি তারা পুজো

[01:00:02] আচ্ছাও বরাবরই পছন্দ করে নিজের ছোট একখানা

[01:00:06] ঠাকুর ঘর তুলেছে বইপত্রর পরে সন্দেহজনক

[01:00:10] কিছুই বোঝেনি

[01:00:13] কেউ। সেই দিনটা স্পষ্ট মনে আছে

[01:00:17] রজতের। গভীর ঘুম তার। বালিশে মাথা দিলেই

[01:00:21] ঘুম। এক ঘুমে

[01:00:24] সকাল। সেদিন রাতে লুচি মাংস করেছিল বড়

[01:00:27] বৌমা। সাথে পায়েশ। খাওয়াটা গুরুপাক হয়ে

[01:00:31] গেছিল সন্দেহ নেই। অবিবাহিত দাদাটিকে

[01:00:35] বাড়ির সকলেই বড় ভালোবাসে। যত্ন করে

[01:00:38] শ্রদ্ধা করে যমুনা গোটা কুড়ি লুচি না

[01:00:41] খাইয়ে উঠতে দিল না কিছুতেই তার ফলেই

[01:00:44] হয়তো মাঝরাত্রীরের দিকে পেট কনকন করে

[01:00:48] ঘুমটা ভেঙে গেল

[01:00:49] রজতের বাজছি যাওয়া

[01:00:52] দরকার উঠে হ্যারিকেনের সলতেটা বাড়িয়ে

[01:00:54] এসে দরজা খুলল ওই আড়াইটে তিনটের মত হবে

[01:00:59] তখন রাতির ঘর বারান্দা পেরিয়ে উঠন উঠনের

[01:01:04] এক মাথায় কল ঘর পাশে সে বাজছি ঘর

[01:01:08] আলাদা। সে পেটের চাপ অনুভব করায় কোন দিকে

[01:01:11] না তাকিয়ে সোজা বাজছি ঘরে ঢুকে

[01:01:14] যায়। মিনিট দশেক বাদে যখন কল ঘরে হাত পা

[01:01:19] ধুচ্ছে তখনই শব্দটা কানে

[01:01:23] আসে। মাছ ভাজার সময় ফাটলে যেমন আওয়াজ হয়

[01:01:28] ঠিক

[01:01:29] তেমন। এত রাতে কোথা থেকে আওয়াজ আসে? কলঘর

[01:01:34] থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক চায় রজত। বড়

[01:01:37] উঠন। তার চারপাশ চুড়ে ঘর, বারান্দা,

[01:01:40] কলঘর, ঠাকুরঘর, রান্নাঘর, ধানের গোলা।

[01:01:43] ভালো করে দেখলো

[01:01:47] রজত। কোথাও কিচ্ছু চোখে পড়ছে

[01:01:50] না। আবার শব্দটা হতে সেদিকে তাকালো

[01:01:55] রজত। অঞ্জনের ঠাকুর ঘর থেকে আসছে শব্দটা।

[01:02:00] আগুন টাগুন লাগলো

[01:02:02] নাকি চোর

[01:02:05] নয়তো এত রাতে নয়তো কিসের

[01:02:08] শব্দ চোরই হবে চোর চোর চোর কে কোথায় আছিস

[01:02:13] সবাই চোর

[01:02:15] পড়েছে বলতে বলতেই এক লাথি দিয়ে ঠাকুর ঘরের

[01:02:18] দরজাটা খুলে দিল রজত

[01:02:21] ঠিক তখনই ঠং শব্দের

[01:02:24] রডটা মাটিতে পড়ে

[01:02:26] গেল এ কি দেখছে সে

[01:02:30] এটা

[01:02:31] কে? অঞ্জন তার ছোট ভাই না অন্য কেউ? ঘরের

[01:02:37] মাঝে আগুন জ্েলেছে

[01:02:39] অঞ্জন। সেই আগুনের আলোয়ে গোটা ঘর

[01:02:43] ভরা। তাতেই স্পষ্ট বোঝা যায়। অঞ্জনের

[01:02:48] পরণের বস্ত্র ভিজে। কালো রঙের এক টুকরো

[01:02:52] কাপড় লুঙ্গির মত পড়েছে। খালি গা মাথায়

[01:02:58] কালো কাপড়ের

[01:02:59] ফেট্টি। কাপড়গুলো সব

[01:03:02] ভিজে। যেন সদ্য জল থেকে চুবিয়ে এনে

[01:03:05] পড়েছে। এক হাতে একটা মুরগির অর্ধেকটা

[01:03:09] ধরা। অপর হাতে সেটা ছিড়ছে আর আগুনে

[01:03:12] দিচ্ছে অঞ্জন।

[01:03:15] তাতেই ফটফট শব্দটা

[01:03:18] আসছে। নাড়ি ভুড়ি

[01:03:21] ফাটছে। মুরগিটা বোধহয় কিছু আগেও জ্যান্ত

[01:03:24] ছিল।

[01:03:26] টাটকা রক্ত

[01:03:27] ঘরময়। রক্তের আষ্টে গন্ধ ভরে আছে

[01:03:31] চারপাশে। কিরে? এসব কি? জোরে বলে উঠলো

[01:03:36] রজত। কিন্তু অঞ্জনের হুশ নেই। এত জোরে

[01:03:40] দরজা খুলেছে বর্দা। এসে দাঁড়িয়েছে কিছুই

[01:03:43] টের পায়নি অঞ্জন সে বিড়বিড় করে কিসব

[01:03:46] বলছে আর আগুনে ওই মুরগির টুকরো

[01:03:49] দিচ্ছে যেন বস হয়ে

[01:03:52] আছে অথবা যেন অন্ধ কালা হয়ে গেছে কিছু

[01:03:57] দেখতে বা শুনতে পাচ্ছে

[01:04:00] না ততক্ষণে রঞ্জন যমুনা বিনি কাজের মাসিটা

[01:04:04] অব্ধ এসে দাঁড়িয়েছে

[01:04:06] ওখানে সবাই ঘুম চোখে চোর চোর শুনে ছুটে

[01:04:09] এসেছে এসে সে বুঝতে পারছে না যে কি হচ্ছে

[01:04:13] দুপা এগিয়ে এলো রঞ্জন কি হলো

[01:04:16] বর্দা বলতে বলতে ঠাকুর ঘরে উকি দিয়ে ভয়

[01:04:19] পেয়ে গেল বোধহয় বলল

[01:04:22] বর্দা কি করছে

[01:04:24] ওটা এটা কি রজত ততক্ষণে ভেতরে গিয়ে বসে

[01:04:29] থাকা অঞ্জনকে এক ধাক্কা দিয়েছে পুজোর

[01:04:32] নামে এসব কি করছিস তুই আচমকা ধাক্কায় যেন

[01:04:36] মৃতদেহে প্রাণ এল অঞ্জন ধর্মড়িয়ে উঠে

[01:04:39] দাঁড়িয়ে বলল একি তুমি এখানে কেন

[01:04:43] বরদা যাও যাও তুমি ঘরে যাও বরদা যাও ঘরে

[01:04:48] চল তুই চল শিঘির ততক্ষণে বাকিরাও ঢুকে

[01:04:52] পড়েছে ঘরে মেঝেতে অত রক্ত দেখে বাবা গো

[01:04:55] বলে দৌড় দিল কাজের মাসি আর বিনি রঞ্জন আর

[01:04:59] যমুনা থ এসব কি হচ্ছে বুঝতে সময় লাগলো

[01:05:02] ওদের তুমি আমাকে কেন ঘরে আনলে আমার পূজোর

[01:05:05] ব্যাঘাত ঘটালে কেন তোমরা একচরে তোমার দাত

[01:05:08] ফেলে দেব বেয়াদব এটা শ্মশান ঘাট পেয়েছিস

[01:05:11] না? কাপালিক হওয়ার স্বাদ হয়েছে তোর। আরে

[01:05:14] ওটা কাপালিক না দেবী ধুমাবতীর পুজো। তার

[01:05:17] জন্য কাপালিক হতে লাগে না। পুজো কতটুকু

[01:05:20] বোঝো তোমরা? কখনো করেছ পুজো? আমাদের বোঝার

[01:05:24] দরকার নেই। রক্তমাংস দিয়ে কি পূজো হচ্ছিল

[01:05:28] এটুকু বুঝতে পুজো করতে হয় না। খবরদার আর

[01:05:31] যদি দেখে তো ওসব করতে? আমি করবো। বাড়ি

[01:05:35] থেকে বের করে দেব তোকে। খবরদার বললাম।

[01:05:38] আচ্ছা বর্দা বর্দা চুপ করো

[01:05:42] এখন অঞ্জন তুই ঘরে যা ঘুমিয়ে পড় না

[01:05:48] শোবনা আমার পুজো কেন করতে দাওনি তোমরা ওটা

[01:05:52] ভালো পুজো নয় অঞ্জন বোঝ একটু কে বলেছে কে

[01:05:55] আমি অনেক পড়েছি ধুমাবতি মা ভালো না এ কথা

[01:05:59] উচ্চারণ করা পর্যন্ত পাপ এই রাখ তোর

[01:06:01] পাপপূর্ণ যমুনা তখন একা ঠাকুরঘরে

[01:06:04] দাঁড়িয়ে খুটিয়ে দেখছে বাকি সরঞ্জাম

[01:06:07] বিভৎস একটা ছবি একটা সাদা শাড়ি পড়া

[01:06:11] বুড়ি বিশ্রি হাসি সামনের দুখানা দাঁত নেই

[01:06:16] কচকানো চামড়া সাদা খোলা চুল ভয়ঙ্কর

[01:06:20] চাউনি একটা ভাঙ্গা রথে বসে রথের গোড়া নেই

[01:06:25] এক হাতে ফাঁকা কুলো এক হাতে

[01:06:29] কাক তার সামনে রাখা দুটো শুকনো

[01:06:33] রুটি ওপরে নুন

[01:06:35] ছড়ানো পাশে সে সিঙ্গারা নিমকি

[01:06:39] চানাচুর গ্লাসে

[01:06:41] জল এসব তার মানে এই ছবি ঠাকুরকে খেতে

[01:06:44] দিয়েছিল

[01:06:46] ঠাকুরপো এ কেমন ভোগ নিবেদন বাপের জন্মে

[01:06:50] দেখেনি

[01:06:51] যমুনা পাশে একখানা চুল্লুর খোলা বোতল

[01:06:56] গাঁজা পাতা আবার বিড়ির প্যাকেট খানিকটা

[01:07:00] যেন কালীপুজোর মত কিন্তু যেন কালীপুজো নয়

[01:07:04] রক্ত পালক ছড়াছড়ি ঘরে কালো লাল কাপড় সব

[01:07:10] আসনও বোধহয় হাত দেবো না দেবো না করেও

[01:07:13] যমুনা ওই ছবিটা হাতে নিল নিয়ে একছুটে ঘরে

[01:07:18] তিন ভাইয়ের তর্কাতর্কি চলছে সে ঘুমটা

[01:07:21] টেনে নিল নিয়ে ছবিটা এগিয়ে দিয়ে বলল

[01:07:25] কিছু মনে করো না ঠাওরপো এটা কোন ঠাকুর গো

[01:07:29] এমন ডাইনি বুড়ির মতো দেখতে মাগো দেখে

[01:07:33] কেমন ভয় করছো আসন জুতো করলে বধি তুমি

[01:07:37] আমাকে জিজ্ঞেস না করে কোন সাহসে তুমি

[01:07:40] দেবীকে আসনচুত করলে? বৌমা যা করেছে বেশ

[01:07:44] করেছে। কই ওই দেখি তো ছবিটা? বর ঠাকুরের

[01:07:48] দিকে এগিয়ে দিল যমুনা

[01:07:50] ছবিটা। দুই ভাই অবাক হয়ে দেখে। দুজনেই

[01:07:54] প্রায় একসাথে বলে

[01:07:56] উঠলো। কিচ্ছিরে?

[01:07:59] তারপরেও সেদিন বহু তর্কা তর্কি অশান্তির

[01:08:01] পর রাগের মাথায় ধুমাবতীর ছবিখানা নষ্ট

[01:08:04] করে দিয়েছিল রজত।

[01:08:11] ঠাকুর ঘর পরিষ্কার করিয়ে তালা মেরে

[01:08:13] দিয়েছিল বাইরে থেকে। ভরচাজ মশাই গ্রামের

[01:08:16] সবচেয়ে পুরনো ব্রাহ্মণ। জ্ঞানও অনেক। তার

[01:08:20] কাছেই গিয়ে সবটা বলেছিল রজত। আটকে উঠেছিল

[01:08:23] সেও। বলেছিল

[01:08:26] মা দুমাবতীর পূজো করছিল বাড়িতে বসে তোমার

[01:08:29] ভাই কোথা থেকে শিখলো এসব

[01:08:34] কেন করছিল বলেছে

[01:08:36] কিছু উত্তরে তেমন যুৎসই কিছু বলতে পারেনি

[01:08:39] রজত যতটুকু ভাই বলেছে ততটুকুই বলেছিল

[01:08:45] অঞ্জন সংসারের মহমায়া কাটিয়ে সিদ্ধি লাভ

[01:08:49] করতে চাইছিল

[01:08:50] বোধহয় প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী হতে চাইছিল

[01:08:54] ছিল তাই এই পূজো শুরু করেছিল কদিন ধরে

[01:08:59] করছে সঠিক বলতে পারবো না বোধহয়

[01:09:04] মাসখানেক কমও হতে পারে এ পুজো

[01:09:08] ভয়ানক এত সহজ

[01:09:11] নয় সবার কমও নয় ইনি কি কালা জাদুটা দেবী

[01:09:17] ভরচাজ মশাই সেটাই একমাত্র বলা যায়

[01:09:21] না দেবী পার্বত তির এক

[01:09:25] রূপ তবে কোমল

[01:09:28] নন

[01:09:30] উগ্ররূপা দেবীকে সন্তুষ্ট করতে পারলে ভালো

[01:09:34] করা

[01:09:35] সম্ভব বিনাশ করাও

[01:09:38] সম্ভব যে যেভাবে করবে

[01:09:42] আরকি কিন্তু প্রকৃত গুরু ছাড়া পূজো হয়

[01:09:46] না অঞ্জন এমন আম্মুকে কেন করলো আমি

[01:09:51] জানিনা এখন কি হবে চেয়ার হবে

[01:09:56] ঠাকুর ঘর শুদ্ধ করে দিয়ে আসবো

[01:09:59] আমি ও কতখানি কি করেছে তা জানিনা যতটুকু

[01:10:03] আমার বিদ্যাগ

[01:10:05] কুলোয়ে খুব এগোতে পারার কথা

[01:10:09] নয় যদি খারাপ কিছু করেও থাকে আমি শুদ্ধ

[01:10:13] করে সেই খারাপ কাটিয়ে দিতে

[01:10:17] পারবো

[01:10:20] কিন্তু কিন্তু কি ভটচাজ মশাই

[01:10:23] আর ভবিষ্যতে যেন খবরদার এই ছায়াও না মারায়

[01:10:28] অঞ্জন তাহলে কিন্তু অনর্থ

[01:10:31] হবে দেবীকে নিয়ে বারবার ছেলে খেলা করতে

[01:10:35] গেলে প্রাণ নাশ

[01:10:38] সম্ভাবী না ও আর ওসব করবে না ওর বিয়ে দিয়ে

[01:10:42] দেব আমি সংসারে পড়লে সব ঘুচে

[01:10:46] যাবে তারপরই ভাইয়ের বিয়ে দিতে উঠে পড়ে

[01:10:49] লেগেছিল ঘটক লাগিয়েছিল ছিল মোটা টাকা

[01:10:52] দিয়ে বরচাজ মোশাই এসে একদিন ছোট্ট একটা

[01:10:55] গটি মন্ত্রপূত জল ছিটিয়ে গেল ঠাকুর ঘরের

[01:10:59] চারপাশে বাইরের ঝোলানো তালায় হলুদ সুতো

[01:11:02] বেঁধে দিয়ে

[01:11:04] গেল অঞ্জনও তারপর থেকে আর কখনো এসব নিয়ে

[01:11:07] কথা বলেনি বিয়ে হলো সব ঠিকই ছিল তারপর

[01:11:10] হঠাৎ

[01:11:13] এসব আজ অঞ্জনের শ্রাদ্ধ

[01:11:17] তিন দিনে

[01:11:19] কাজ শোখের ছায়ায় থমথম করছে বাড়িটা

[01:11:24] গ্রামটাও সাদা কাপড়ে প্যান্ডেল খাটিয়ে

[01:11:27] উঠনে শ্রাদ্ধের কাজ

[01:11:29] চলছে গতকাল ঘাট কাজ করে এসেছে সবাই কুসুমও

[01:11:34] সে আর কিছু করেনি চুপচাপ যা বলা হয়েছে

[01:11:39] করেছে নড়া মাথায় কাজ করতে বসেছে রজত

[01:11:44] ভরচাজ মশাই স্বয়ং শ্রাদ্ধের কাজ করছে সব

[01:11:48] গোছানোর ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন কথাবার্তা

[01:11:50] বলছে শ্রাদ্ধ

[01:11:51] সম্পর্কে কুসুম যমুনা রঞ্জন বিনি কুসুমের

[01:11:55] মা বাবা দাদা বৌদি এছাড়াও জ্ঞাথিরা সব

[01:11:58] গোল হয়ে

[01:11:59] বসেছে যাদের অসৌচ্য নেই তারাও

[01:12:03] বসেছে সবারই চোখে কম বেশি জল সবচেয়ে বেশি

[01:12:07] কাঁদছে রজত

[01:12:09] ছোট ভাইটার শ্রাদ্ধ করতে হাত চলছে না যেন

[01:12:13] ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে সে

[01:12:16] [মিউজিক]

[01:12:21] দেবা পত্রবাই

[01:12:25] জনার্দনা পত্রবাই

[01:12:28] বেদা পত্রবা

[01:12:32] ব্রহ্ম অর্থাৎ পিতরা দেবতা

[01:12:36] জনার্দন

[01:12:38] ব্রহ্ম

[01:12:42] শ্রাধাতার

[01:12:44] মধারিত সধ

[01:12:47] [মিউজিক]

[01:12:51] বিচনা অর্থাৎ সংসারে দৈহিক দৈবিক ও ভৌতিক

[01:12:55] এই তিন তাপ থেকে মুক্তির জন্য শ্রাদ্ধ

[01:12:58] ছাড়া আর কোন উপায়

[01:13:00] [মিউজিক]

[01:13:01] নেই তাই যত্ন সহকারে শ্রাদ্ধ করতে হয়

[01:13:05] রজত এতে কষ্ট হলেও

[01:13:08] [মিউজিক]

[01:13:10] পূর্ণ অঞ্জনের জন্য করা ধরে

[01:13:14] নাও যেন সূর্যপুত্র জম ক হাজার বছর

[01:13:20] পর্যন্ত ঘোর তপস্যা করে শিবকে প্রসন্ন

[01:13:23] করেন। বর স্বরূপ শিব জমকে পিতৃলোকের

[01:13:27] অধিকারী

[01:13:28] বানান। শাস্ত্র মতে যে ব্যক্তি সারা বছর

[01:13:32] পূজো পাঠ করেন না তারা যদি নিজের

[01:13:35] পূর্বপুরুষের শ্রাদ্ধ করেন তাহলেই

[01:13:38] ইষ্টকার্য সিদ্ধি ও পুণ্য অর্জন করতে

[01:13:41] পারেন। কিন্তু এ যে আমার সন্তান সম ছোট

[01:13:44] ভাই ভটচাজ মোসাই।

[01:13:47] কেদো না।

[01:13:49] এতে অঞ্জন কষ্ট

[01:13:52] পাবে। ওর মুক্তি তো হয়নি

[01:13:55] এখনো। কাজটা নির্বিঘ্নে করো। মেয়েরাও সব

[01:14:00] ফোপাতে শুরু

[01:14:02] করেছে। দুপোয়া দোষ পেয়েছে অঞ্জন। হাতের

[01:14:06] কাজ গোছাতে গোছাতে পরিবেশটা সামান্য হালকা

[01:14:10] করার জন্য গল্প শুরু করল ভরচাজ মশাই।

[01:14:14] জানো শাস্ত্র মতে কিন্তু সারা বছরের

[01:14:18] শ্রাদ্ধের 96 টি সুযোগ

[01:14:21] রয়েছে। যেমন 12 মাসে 12টা অমাবস্যাতা

[01:14:25] আছে। সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দাপরযুগ,

[01:14:28] কলিযুগের শুরুর চারটি

[01:14:31] তিথি মনুবর শুরুর 14টা মন্নাদি তিথি, 12টা

[01:14:37] সংক্রান্তি, 12টা বৈধৃতি যোগ, 12টা

[01:14:41] ব্যাতিপাদ যোগ।

[01:14:43] তারপর রয়েছে 15 টা মহালয়া ও শ্রাদ্ধ

[01:14:47] পক্ষের তিথি পাঁচ 10 ডটোগা পাঁচটা অন্যাস

[01:14:51] ডটোগার পাঁচটা পূর্বে ধু ভরচাজ মশাই

[01:14:55] প্রাচীন মানুষ পড়াশোনা বিলক্ষণ আছে আর

[01:15:00] আছে বলার

[01:15:02] জাদু ক্রন্দনরত মানুষগুলো চোখ মুচতে মুচতে

[01:15:07] শুনতে

[01:15:08] লাগলো আগ্রহবোধ করছে সবাই এটাই চাইছি ছিল

[01:15:12] ভরচাজ মশাই পরিবেশটা হালকা হোক খানিক এরপর

[01:15:17] আছে কোন তিথিতে কার শ্রাদ্ধ করা

[01:15:21] উচিত এরও অনেক

[01:15:23] বিধি যে মাসে যে তিথিতে পরিজনের মৃত্যু

[01:15:27] হয়েছে পিতৃপক্ষে তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত

[01:15:30] তিথিতেই শ্রাদ্ধ করা উচিত এছাড়া কিছু

[01:15:34] বিশেষ তিথিও রয়েছে যখন যেকোনভাবেই মৃত

[01:15:37] পরিজনদের শ্রাদ্ধ করা যেতে পারে স্বামী

[01:15:41] জীবিত থাকাকাল স্ত্রীর মৃত্যু হলে নবমী

[01:15:45] তিথিতে তাদের শ্রাদ্ধ করতে হয়। আবার এমন

[01:15:48] স্ত্রী যার মৃত্যু তিথি জানা যায়নি।

[01:15:52] তাদের শ্রাদ্ধ মাতৃবমীতে করার বিধান

[01:15:55] রয়েছে। সমস্ত বৈষ্ণব সন্ন্যাসীদের

[01:15:58] শ্রাদ্ধ একাদশীতে করা হয়। আবার

[01:16:02] অস্ত্রাঘাত, আত্মহত্যা, বিষ, দুর্ঘটনা

[01:16:05] ইত্যাদির ফলে মৃত্যু হলে চতুর্দশীর দিন

[01:16:08] শ্রাদ্ধ করা হয়।

[01:16:11] এ যেমন আজ করছি

[01:16:14] আমরা এছাড়াও সর্পদংশন ব্রাহ্মণ অভিশাপ

[01:16:18] আগুনে পুড়ে দন্ত

[01:16:20] প্রহার হিংস্র পশুর

[01:16:23] আক্রমণ গলায় ফাঁস লাগিয়ে মরা কোন মহামারী

[01:16:27] অতিমারি ক্ষয়রোগ কলেরা ডাকাতের আক্রমণ

[01:16:31] এসবে মৃত্যু হলে এমন ব্যক্তির শ্রাদ্ধও

[01:16:34] পিতৃপক্ষে চতুর্দশী আর অমাবস্যার দিনে করা

[01:16:38] উচিত

[01:16:39] আর যাদের মৃত্যুর পর সংস্কার

[01:16:42] হয়নি তাদের শ্রাদ্ধ অমাবস্যায় করা

[01:16:47] উচিত। যদিও এমনটা আজকাল হয়

[01:16:51] না। এমন মৃত্যুই ঘটে

[01:16:54] না। সাধ্যের প্রশ্নই আসে

[01:16:57] না। এসব ছিল আগেকার দিনে। অভিশাবে মানুষ

[01:17:01] মরেছে বলেও বিশ্বাস করতে লগে।

[01:17:05] তিল, কুষ, গঙ্গাজল, কলাপাতা গুছাতে গুছাতে

[01:17:08] মরচাজ মশাই বলল এই যেমন ধরো তিলকুশ দিয়ে

[01:17:13] করা উচিত শ্রাদ্ধ আর তর্পণ

[01:17:17] কেন

[01:17:18] জানো কারণ পিতৃলোকের অধিশ জনার্দনের

[01:17:22] শরীরের ঘাম থেকে তিল আর লোম থেকে কুষের

[01:17:26] [মিউজিক]

[01:17:28] উৎপত্তি তাই তর্পণ ও অর্ঘের সময় তিল ও

[01:17:31] কুষের ব্যবহার করা

[01:17:34] উচিত তারপর ধর এ ব্রাহ্মণ ভোজন এরও কিন্তু

[01:17:39] নিয়ম আছে। 10টা বামন ডাকলাম আর পাত পেড়ে

[01:17:43] খাওয়ালাম। তাহলে ওটা আদু কাজের কাজ হলো

[01:17:46] না। খাওয়ানোই হলো

[01:17:49] কেবল। এতো যখন তখন যাকে তাকে খাওয়ানো যায়।

[01:17:54] যে উদ্দেশ্যেই ভোজন তার নিয়ম

[01:17:58] আছে। শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণ ভোজে সবচেয়ে

[01:18:01] পূর্ণদায়ী সময় কুতব।

[01:18:04] দিনের অষ্টম মুহূর্ত 10টা বেজে 36 মিনিট

[01:18:08] থেকে 12টা বেজে 24 মিনিট

[01:18:11] পর্যন্ত কিন্তু আজকাল কজন সে নিয়ম

[01:18:16] জানে জানে

[01:18:19] না এই মৃতের পরিবারে খরচ খর্চা একই

[01:18:22] হয় কিন্তু ব্রাহ্মণের অজ্ঞতার ফল ভোগ করে

[01:18:26] আর

[01:18:27] কি আসলে শ্রদ্ধা সহকারে শ্রাদ্ধ করলে

[01:18:30] পূর্বপুরুষরা সন্তুষ্ট হন আশীর্বাদ দিয়ে

[01:18:34] পরলোক গমন

[01:18:36] করেন। শাস্ত্র মতে পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধ

[01:18:40] কর্ম না করলে তারা রুষ্ট হন এবং অভিশাপ

[01:18:44] পর্যন্ত দিতে পারেন।

[01:18:47] কুসুম একটু উসখুস করে উঠলো হঠাৎ। এদিক

[01:18:50] ওদিক উকি দিতে লাগল। সেদিকে লক্ষ্য করে

[01:18:53] ফের ভটচাজ মশাই বলল, শ্রাদ্ধের গুরুত্ব

[01:18:56] কতখানি জানো?

[01:18:59] পিতৃপক্ষে পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

[01:19:02] হিন্দু ধর্মে অবশ্য

[01:19:04] করণীয়। এর ফলেই মৃতের আত্মা স্বর্গে

[01:19:08] প্রবেশাধিকার

[01:19:10] পান। এ প্রসঙ্গে গরুর পুরাণ গ্রন্থে বলা

[01:19:13] হয়েছে পুত্রবিনা মুক্তি নাই।

[01:19:19] ধর্মগ্রন্থে গৃহস্থদের দেব ভূত ও অতিথিদের

[01:19:23] সঙ্গে পিতৃদর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

[01:19:27] পুত্রবিনা মুক্তি নাই তাহলেই হতছাড়া

[01:19:29] ছেড়াদ করছিস কেন এর পুত্র কই এতো আটকুড়া

[01:19:35] ছেলে পেলে কই এর কিছুই তো নেই আগাছাটার

[01:19:44] বলে হাসতে হাসতে উঠনে গড়িয়ে পড়ল কুসুম

[01:19:48] হাততালি দিয়ে হেসে হেসে উঠতে থাকলো আর

[01:19:51] বলতে থাকলো অটকুরু তার আবার ছেড়াদো

[01:19:55] [সশব্দ হাসি]

[01:19:59] ওর ছেড়াতো না পয়সার ছেড়া রাখ রাখ এসব রাখ

[01:20:03] বাদ বাদ দে বাদ বা যা যা দূরে যা দূরে যা

[01:20:07] বল সবাই মিলে বল ধু ধু ধুমাবতি সহা ধু ধু

[01:20:11] ধুমাবতি সহা ধু ধু ধুমাবতি সহা

[01:20:17] একটা মাটির বড় থালায় ভাত, মুগডাল,

[01:20:21] আলুভাজা, পোস্ত, মাছের মাথা দিয়ে ছেচড়া,

[01:20:24] চুনো মাছের চর্চরি, কাতলার কালিয়া, সরষে

[01:20:27] ইলিশ, চাটনি, মিষ্টি, পায়েশ সব সাজিয়ে

[01:20:31] ওপরে একটা কলাপাতা চাপা দিয়েছে

[01:20:34] যমুনা। পাশে মাটির গ্লাসে জল। সেটাতেও এক

[01:20:39] টুকরো কলাপাতা চাপা দেওয়া। পুকুরঘাটে

[01:20:42] যাচ্ছে ওরা। বাড়ি থেকে বেরোবে এবার।

[01:20:46] যমুনার সাথে বয়স্কা কিছু

[01:20:49] মহিলা বাড়ির কাজকর্ম কোন রকমে মিটেছে। আজ

[01:20:54] আশপান্না

[01:20:56] ছিল। কুসুমের বাপের বাড়ির লোকজন ফিরে

[01:20:59] গেছে একটু আগেই। ওর মা ভীষণ অসুস্থ হয়ে

[01:21:03] পড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে হয়তো।

[01:21:07] মা সুস্থ হলে মেয়েকে নিয়ে যাবে। বোধহয়

[01:21:11] চিরকালের জন্যই নিয়ে চলে যাবে।

[01:21:14] এখন বিকেল

[01:21:15] পরন্ত সন্ধ্যের ঠিক মুখে এটা দিতে হবে

[01:21:19] পুকুরপড়ে

[01:21:21] বৌমা কথা বলো না যেন মুখে আঁচল চাপা দিয়ে

[01:21:25] নাও দরকার পড়লে খাবারে যেন থুতু না ছেটে

[01:21:29] বেরই এবার হ্যা চল

[01:21:33] ওরা

[01:21:34] এগলো আলো আধারে পুকুরের এক নিরালা কোণ

[01:21:38] দেখে থালাটা নামিয়ে রাখলো

[01:21:41] যমুনা পাশে গ্লাসটা

[01:21:43] রাখল। ঢাকা দেওয়া কলাপাতা সরিয়ে দিল। যা

[01:21:47] যা খেতে অঞ্জন ভালোবাসতো তাই রান্না করে

[01:21:50] দেওয়া হয়েছে। এইতো শেষ ছেলেটার জন্য কিছু

[01:21:54] করে

[01:21:55] দেওয়া। চোখ দুটো টনটন করে উঠলো

[01:21:59] যমুনার। সন্ধে নেমেছে। ইশারায় মাসি শাশুড়ি

[01:22:04] ফিরতে বলল। ওরা বাড়ির পথে

[01:22:07] ফিরলো। আর পেছন ফিরে দেখতে নেই। মুখ বন্ধ

[01:22:12] রেখেই বাড়ির পথে

[01:22:15] [মিউজিক]

[01:22:19] এগোলো। পা হাত ধুয়ে ঘরে ঢুকলো যমুনা। উকি

[01:22:24] মেরে দেখলো পাশের ঘরে।

[01:22:27] এখনো সেই একইভাবে কুসুম খেয়ে

[01:22:31] চলেছে। এক গামলা মাছ ভাজা নিয়ে সে দুপুর

[01:22:34] থেকে বসেছে। কাটাকুটি মুখ থেকে ফেলছে আবার

[01:22:38] তুলছে। চিবিয়ে ফেলে দেওয়া কাঁটাগুলো

[01:22:40] আবার মুখে

[01:22:42] পুড়ছে। বাধ্য হয়ে ওকে ওই ঘরে রেখে

[01:22:45] দেওয়া হয়েছে। সামলানো যাচ্ছে না। আর কাল

[01:22:49] সেই শ্রাদ্ধে বসার সময় থেকে চূড়ান্ত

[01:22:51] অবাধ্যতা করছে কুসুম।

[01:22:54] একটা সময় এমন হয়েছিল কাজ করা সম্ভব

[01:22:57] হচ্ছিল না। এমন করতে শুরু করল বাধ্য হয়ে

[01:23:01] ওর ঘরেই ওকে হাত বেঁধে খাটে বসিয়ে রাখা

[01:23:03] হলো। সবারই খারাপ লাগছিল কিন্তু কি বা

[01:23:06] করার ছিল। শ্রাদ্ধটা হতে দিত না ওই মেয়ে।

[01:23:10] কি যে হবে ভেবে বুকের ধুপুকুনি শুরু হয়ে

[01:23:13] যাচ্ছে যমুনার। ভরচাজ মশাই কাল আসবে

[01:23:16] বলেছে। দেখা যাক কতখানি কি।

[01:23:20] বরদি ও

[01:23:22] বরদি চমকে তাকালো

[01:23:25] যমুনা। স্বাভাবিক গলায় কথা বলতে কতদিন পর

[01:23:28] শুনলো কুসুমকে।

[01:23:30] কি? একটু আসবে গো। কোথায় রে? এইতো এই

[01:23:36] ঘরে। এসো না গো একটু। যমুনা কিছু না ভেবেই

[01:23:41] ঘরে ঢুকলো।

[01:23:43] মায়াই লাগলো মেয়েটাকে দেখে। আহা গো।

[01:23:48] কতটুকু বয়সে কি সর্বনাশ হলো।

[01:23:51] কত বড় জীবন পড়ে

[01:23:54] বল কি

[01:23:55] বলবি বসো বসো এখানে নিজের পাশের মেঝেটায়

[01:24:00] ইশারা করল কুসুম একটু ইতস্তত করে বসলো

[01:24:04] যমুনা

[01:24:07] বল বর্দি তোমরা আমাকে কেন বেঁধে রাখছো গো

[01:24:13] তুই জানিস না তুই কি করেছিস আমি ইচ্ছা করে

[01:24:17] করিনি বিশ্বাস করো ওরও দোষ ছিল। ওর জন্যই

[01:24:22] সব হয়েছে। কি হয়েছে ওর

[01:24:26] জন্য? আমি আমি আমি

[01:24:29] আমি বলবো আমি আমি সব বলবো। তোমাকেই বলব

[01:24:33] তোমাকেই বলতে বলেছে।

[01:24:36] কে? কি বলতে

[01:24:40] বলেছে? ও ভুল পুজো করেছিল। ভুল পুজো

[01:24:46] করেছিল। ওর উচিত হয়নি এটা করা। খুব খুব বড়

[01:24:51] ভুল করে ফেললো

[01:24:52] গো। হ্যাঁ আমরা তো বাধা দিয়েছিলাম রে

[01:24:56] জানতে পেরে। ওটা না ওটা না।

[01:25:00] তাহলে কোনটা? ওই যে ওযে 13 দিন আগে যেটা ও

[01:25:07] করেছিল। 13 দিন আগে কি করেছিল? পুজো

[01:25:12] করেছিল গো। লুকিয়ে লুকিয়ে। বলে ঠোটে

[01:25:16] আঙ্গুল দিল কুসুম।

[01:25:19] আঙ্গুল হাতময় মাছের তেল ছাল

[01:25:23] কাটাকুটি চুপ করতে বলল

[01:25:26] যেন যমুনা কি বলবে বুঝতে পারলো না সবাইকে

[01:25:30] লুকিয়ে চুপি চুপি পূজো করেছিল তো

[01:25:34] কার পুজো করেছে যার

[01:25:38] আহ ছোট কি হেয়ালি করছিস বলতো বলবি তো বল

[01:25:42] নয়তো আমি গেলম এই না না না শোনো শোনো শোনো

[01:25:46] শোনো শোনো শোনো বৌদি ভাতি

[01:25:48] তোমাকে না বললে মারবে কিন্তু

[01:25:52] তাড়াতাড়ি যমুনার শাড়িটা চেপে ধরলো

[01:25:54] কুসুম আশ হাতেই চেপে ধরল ডান হাত দিয়ে

[01:25:59] শাড়িটা ধরে রেখেই বলল বলছি

[01:26:05] আজ থেকে 13 দিন আগে চুপি চুপি রাতিরে

[01:26:10] বলছি আজ থেকে 13 দিন আগে চুপি চুপি রাতিরে

[01:26:10] গিয়ে পুজো করে এসেছিল

[01:26:12] তিন মাঘার ওখানে বসে পুজো করে এসেছিল

[01:26:16] রাত্রিদেড়টা এগেছিল

[01:26:18] জিনিসপত্র নিয়ে গিয়ে ওই ওইখানে বসেই

[01:26:22] পূজো করে এসেছিল। কিন্তু ওযে ভুল করেছিল

[01:26:26] সব ভুল। মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝছে না যেন

[01:26:30] যমুনা।

[01:26:32] ঠাকুরপ 13 দিন আগে মাঝরাতে ওই তিন মাখার

[01:26:35] ঘাটে গিয়ে পূজো

[01:26:37] করেছিল। কিন্তু ওই ঘাটে কেন? ওখানে তো যত

[01:26:40] গরু মোষ মরলে ফেলা হয়। আর বেওয়ারিশ লাশ

[01:26:44] কখনো সক হাসপাতালে বড় একটা এমন লাশ থাকে

[01:26:48] না তবুও কই বললে না বর্দি ও বর্দি এমন

[01:26:54] স্বরে বলল

[01:26:56] কুসুম যেন সন্ধেবেলা দুই যা গল্প করতে

[01:26:59] বসেছে আমি না আমি না বুঝতে পারছি না রে

[01:27:04] ছোট তুই বস আমি তোর ভাসুর ঠাকুরদের ডাকি

[01:27:08] তারা বুঝবে আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে

[01:27:12] ঠিক আছে তো তার আগে একটা একটা গল্প বলি

[01:27:16] শুনে যাও গল্প বলবি অবাক

[01:27:20] যমুনা বলে কি তবুও যেন এড়িয়ে যেতেও

[01:27:24] পারলো না অমুক এক টানে বসে রইল কুসুমের

[01:27:30] দিকে চেয়ে কাকটা সবে ডিম

[01:27:33] পেড়েছিল হঠাৎ টুক করে চুরি করে এনেছিল ও

[01:27:37] দিনের বেলা কাকটা তখন বাসায় ছিল না

[01:27:42] সেদিনই রাতে আনলো ওই কাকটাকে। বাসায়

[01:27:45] ঘুমোচ্ছিল

[01:27:46] কাকটা। তাকে ধরেই একটা বস্তায় ভরে দিল।

[01:27:51] তারপর তারপর আগুন জ্বলছিল। দাউ দাউ আগুন।

[01:27:56] সেই আগুনে কাকের ডিমটা দিল। ফট করে ফেটে

[01:28:00] গেল।

[01:28:01] তারপর কাকটাকে বের করলো বস্তা থেকে। পায়ে

[01:28:06] সুতো জড়িয়ে রেখেছিল। গায়েও সুতো জড়ানো।

[01:28:10] যাতে ও ডানা মেলে না উঠতে পারে। সে

[01:28:14] সব খুলে দিল। কাকটা চিৎকার করে উঠলো। ও

[01:28:20] বুঝেছিল কিছু খারাপ হবে ওর সাথে। তারপর কি

[01:28:25] করল

[01:28:26] জানো? কাকটার একটা পালক ছিড়ে নিল। লাগলো

[01:28:31] ওর। জ্যান্তর শরীর থেকে টেনে পালক ছিড়লে

[01:28:35] লাগবে না বল। সেই পালক আগুনে দিল। কাকটা

[01:28:40] কাকটা আরো আরো চিৎকার করতে

[01:28:43] লাগলো। বুঝে গেল ঠিক কি হতে চলেছে ওর

[01:28:46] সাথে। তারপর কাকটার একটা ডানা গায়ের জোরে

[01:28:52] ছিড়ে

[01:28:54] নিল। জ্যান্ত পাখিটার ডানা

[01:28:58] টেনে ছিড়ে নিল। যেন সেই ডানাও আগুনে

[01:29:03] ফেলল। কাকটা তখনো প্রাণ আছে। খুব ডাকছে।

[01:29:08] কাকে ডাকছিল

[01:29:10] বলতো? কাকটা যত ডাকে ও তত মন্তর বলে।

[01:29:15] একসময় হাতমারা কাকটাকে দিয়ে দিল

[01:29:19] আগুনে। কাক পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল

[01:29:24] চারপাশে। আগুন নিতে কাক পোড়া ছাই জীভে

[01:29:28] ঠেকিয়ে চুপ কর চুপ কর। মাগো এসব কি গল্প?

[01:29:33] কার গল্প? হঠাৎ এক লাথি মেরে মাছের ফাঁকা

[01:29:37] গামলাটা উল্টে দিল কুসুম। তোর গুষ্টির

[01:29:40] গল্প ওই ভাগারে বসে এসব করেছিল।

[01:29:45] দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জোরে দুলতে শুরু

[01:29:47] করেছে

[01:29:48] কুসুম। এবার ভয় পেয়েছে যমুনা। চিৎকার

[01:29:52] করে হাকলো। কই গো কে আছো? কোথায় সব?

[01:29:56] শিগরি এসো এখানে। কাছে পিঠেই ছিল সবাই।

[01:30:00] ছুটে আসতে যতক্ষণ।

[01:30:03] ঘরে ঢুকতেই সবাই দেখলো যমুনার চুলের মুটি

[01:30:07] এক হাতে ধরে কুসুম দুলছে আর

[01:30:12] বলছে এতদূর যা ইচ্ছা তাই সব সব চিতা করে

[01:30:17] দেব ভাঙ্গার করে দেব আমি একটাকে নিকেশ

[01:30:20] করেছি

[01:30:21] আরেকটাকেও

[01:30:24] ভরচ মশাইকে নিয়ে আসি

[01:30:28] আরেকটাকেও ভরচ মশাইকে নিয়ে আসি

[01:30:28] বর্দা গতি ভালো ঠেকছে না কাল কাল সকাল

[01:30:32] অব্ধি অপেক্ষা করার সময় নেই। ভয়ার্থ

[01:30:35] গলায় বলল

[01:30:37] রঞ্জন। উঠনের মাঝখানে বসেছে কুসুম। সবাই

[01:30:41] ভেবেছিল হয়তো আসতে চাইবে না। ধরে বেঁধে

[01:30:44] আনতে হবে। কিন্তু নিজেই দিববি হেঁটে চলে

[01:30:48] এসেছে। রাগ রাগ চোখ মুখটা কেমন কালচে

[01:30:52] দেখায়। দু হাত ঠোট থুতনি শাড়ি মাখামাখি

[01:30:56] মাছ ভাজার তেল। আসটে গন্ধ ভাসছে হাওয়ায়।

[01:31:01] ভরচাজ মশাই গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিল

[01:31:04] চারদিকে। কুসুমের উল্টো দিকে বসলো। ওর

[01:31:08] দিকে তাকিয়ে হাত জোড় করে

[01:31:11] বলল, মা মা আমি বিশেষ কিছু জানি না।

[01:31:16] সামান্য পড়াশোনা আছে মাত্র। এটুকু বলতে

[01:31:20] পারি। এরা এই বাড়ির লোকেরা কেউ কিচ্ছুটি

[01:31:23] জানতো না।

[01:31:25] মা অঞ্জন যা করেছে যা ভুল করেছে সব ও এদের

[01:31:31] আড়ালে

[01:31:32] করেছে। এদের শাস্তি দিও না

[01:31:35] মা। অঞ্জনের কৃতকর্মের ফলও

[01:31:39] পেয়েছে। তুমি এবার শান্ত হও

[01:31:43] মা। মা

[01:31:45] মা শান্ত

[01:31:48] হও। মা

[01:31:50] [মিউজিক]

[01:31:52] ওম বিবরণ

[01:31:54] চঞ্চল

[01:31:58] দীর্ঘামালিনাম্বরা

[01:32:03] কুন্তলা বর্ণে তুমি হও

[01:32:07] ধুমাবতি মহা বিদ্যা রূপ ভেদে তুমি

[01:32:12] মহাসতীরা নাশিনি তুমি হরির

[01:32:15] মোহিনী হীনহীনে করো দয়া মাগো রুদ্রা

[01:32:20] [মিউজিক]

[01:32:22] ওম দুর্গায়

[01:32:24] দুর্গাপারায় সারায়

[01:32:29] সর্বকারি

[01:32:45] কৃষ্ণা তুমি কত রূপ যেন ধরিতে

[01:32:50] জননী গো শান্তিময়ী হৃদহিতে চুপ কর চুপ কর

[01:32:56] চুপ কর

[01:32:58] চুপ এদের আড়ালে করেছিল শয়তানটা তাই নাকি

[01:33:05] রে হ্যা মা এরা কেউ জানতো না সকলের অজ্ঞাত

[01:33:10] সারে

[01:33:12] ওই ওই শয়তানটা কাকতন্ত্র করে আমাকে

[01:33:14] জাগিয়েছে কেন জানিস হ্যাঁ উপরে উঠবে

[01:33:18] আরো উপরে উঠবে লোভ লোভ লোভ ক্ষমতার লোভ

[01:33:22] অর্থের

[01:33:23] [মিউজিক]

[01:33:26] লোভ

[01:33:27] [মিউজিক]

[01:33:29] কাকতন্ত্র অঞ্জন কাকতন্ত্র

[01:33:34] করেছিল সেটা আবার কি বলছেন

[01:33:37] মশাই কাকতন্ত্র কি সে বড় ভয়ঙ্কর তন্ত্র

[01:33:42] বাবা আমরা সারাজীবন পুজো আচছা করেও ভাবতে

[01:33:46] পারবো না

[01:33:48] মা ধুমাবতির আরাধনা করে যে সাধক সে পারে

[01:33:51] করতে এই

[01:33:53] তন্ত্র কিন্তু গুরু বিনা অঞ্জন কিভাবে

[01:33:59] লোভ লোভ লোভের বসে ওই শয়তানের শয়তানি

[01:34:02] দুজনে মিলে পড়েছে

[01:34:05] সব শেষের কথাটা বলতে বলতে কুসুম নিজেই

[01:34:10] নিজের মুখটা ধরে ঝাঁকিয়ে দিল

[01:34:15] ছোট বউ ছোট বউ করেছে কিভাবে ওর বিয়ের

[01:34:20] আগেই তো ঠরপ করতো

[01:34:23] এসব শোন তাহলে তোদের এই ছোট বউ সব

[01:34:29] জানত ওর ভাতার সব গর্ত করেছিল আর এই

[01:34:32] শয়তানের যোগ্য সঙ্গিনী হয়েছিল দেখস না

[01:34:36] বর গেলার আগেই কেমন গিলে কুটে বসে

[01:34:39] থাকতে সব এই তন্ত্রের

[01:34:42] নিয়মে কোন বই পড়ে বিদ্যা ফরিয়েছিল

[01:34:45] দুজনেই ভুল ভুল ভুল ভুল ভুল উপাচার হয়েছে

[01:34:49] আমার

[01:34:51] তিথি নক্ষত্র কিচছু

[01:34:53] দেখেনি সময় কাকতন্ত্র

[01:34:56] করেছে আমার আমার বাচাকে জেন্ত পড়িয়া

[01:34:59] মেরেছে ওভাবে ওরা

[01:35:02] মুরদনেতন্ত্র করতে গেছিল ওর ভাতারটা যা

[01:35:06] করতো সব জানতো এই

[01:35:08] হারামজাদি এই হারামজাদি উসকে দিত বেশি এগি

[01:35:13] খুব নোলা খুব লো এটা

[01:35:16] এটা হার শয়তানি দুজনের জুটি হয়েছিল

[01:35:21] খাসা শয়তানে শয়তানি

[01:35:24] মিলেছিল একটাকে খেয়েছি আরেকটাকে খেয়ে

[01:35:28] শান্তি পাপ দুজনে ফল ভোগ করবেও

[01:35:33] দুজনে মা দয়া করো মা আর কি বা করতে

[01:35:39] পারি ভুল করে

[01:35:41] ফেলেছে

[01:35:43] মা ক্ষমা করো

[01:35:47] ক্ষমা এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল কুসুম

[01:35:51] বজ্র কঠিন স্বরে বলল আমি

[01:35:55] ধুমাবতি কাউকে ফেরাই না কত লো কত খাবি নে

[01:36:01] খা

[01:36:03] চারপাশটা বিশ্রি একটা পোড়া গন্ধে ভরে

[01:36:07] উঠলো ধুষর ধোয়ায় ভরে যেতে থাকল গাঢ়

[01:36:11] থেকে গাঢ়তর হতে থাকল সেই ধোয়া কিছু

[01:36:15] পরিষ্কার করে দেখা যাচ্ছে না। ভিড়ের

[01:36:18] মধ্যে ভয়ের গুঞ্জন উঠেছে

[01:36:25] একটা। বিভৎস শব্দটায় সবার বুকের রক্ত জল

[01:36:29] হয়ে এলো যেন। সবাই দেখলো গোটা বাড়িময়

[01:36:33] ছেয়ে যাওয়া ধুষর ধোঁয়া। একটা জায়গায়

[01:36:36] কুন্ডলী পাকাচ্ছে। কুন্ডলী পাকাতে পাকাতেই

[01:36:39] হঠাৎ লম্বালম্বিভাবে নামতে লাগলো

[01:36:42] ধোঁয়াটা। এক জায়গায় জড় হয়ে নির্দিষ্ট

[01:36:45] একটা লম্বা চওড়া আকার নিয়ে সোজাসুজি নামতে

[01:36:52] লাগলো। চারপাশটা পরিষ্কার হয়েছে। উঠনময়

[01:36:56] জলা মশাল হ্যারিকেন লম্প কুপির আলোয়ে সবাই

[01:37:00] যা দেখল তাতে বুকের রক্ত জল নয়। হিম হয়ে

[01:37:06] জমে গেল

[01:37:08] যেন। সাদা নোংরা শাড়ি পড়া। সারা শাড়িতে

[01:37:12] তেলের দাগ রুক্ষ উড়ন্ত চুল মুখটা কালচে

[01:37:17] বড় বড় লাল টকটকে চোখ নিয়ে বিরাট বড় এক

[01:37:21] হা করে কুসুম আকাশের দিকে মুখ করে হাঁটুতে

[01:37:25] ভর দিয়ে বসে আছে দুটো হাত শরীরের পেছনে

[01:37:29] টানটান করে রাখা যেন অদৃশ্য কিছু দিয়ে

[01:37:33] ধরে রাখা ওপর থেকে নেমে আসা সমস্ত ধোয়া

[01:37:37] কুসুমের বিরাট বড় হায়ের ভেতর ঢুকছে

[01:37:41] ঢুকেই

[01:37:46] যাচ্ছে। প্রবল শব্দ করে ওই ধুম্র রাশি

[01:37:49] গিলে ফেলছে

[01:37:51] কুসুম। গিলতে গিলতে সামনের দিকে ঝুকে

[01:37:54] পড়ছে। হাঁটু ভেঙে আস্তে আস্তে ঝুকছে

[01:37:57] সামনের দিকে। পেটটা ক্রমশই ফুলে উঠছে।

[01:38:02] উপস্থিত সকলে এমনকি ভরচাজ মশাইও নির্বাক

[01:38:06] দাঁড়িয়ে। কথা বলতে ভুলে গেছে সবাই। এমন

[01:38:09] অতিপ্রাকৃত দৃশ্য কেউ কখনো শোনেইনি। দেখা

[01:38:12] তো অনেক দূরের বিষয়। আস্তে আস্তে পেটটা

[01:38:15] ফুলতে থাকলো। আর কুসুম

[01:38:19] ঝুকতে লাগলো। ওর মুখ দিয়ে বেরনো

[01:38:23] শব্দটাও। এখন অনেক

[01:38:26] আস্তে। হঠাৎই ওই একভাবে এক রেখায় নামা

[01:38:30] ধোঁয়া প্রবল বেগে ধেয়ে এলো নিচের দিকে।

[01:38:33] শেষবারের মত দ্বিগুন স্বরে ওরকম চিৎকার

[01:38:36] করল কুসুম এবং মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল।

[01:38:39] ঠিক তখনই একটা শব্দ হলো এবং সবাই

[01:38:44] দেখলো উপুর হয়ে পড়ে থাকা কুসুমের পেটের

[01:38:48] কাছ দিয়ে গলগলিয়ে রক্ত ও

[01:38:51] ধোয়া একসাথে বেরিয়ে

[01:38:57] আসছে। ধুমাবতীর বাইরের অমঙ্গলময় সত্তা ও

[01:39:02] তার ভয়ঙ্করী মূর্তিটি কামনা বাসনার

[01:39:06] নিবৃত্তির প্রতীক।

[01:39:08] কামনা বাসনা সর্বস্ব জীবনের বিপরীতে এই

[01:39:12] রূপ। এছাড়াও দেবীর কুৎসিত রূপ তার

[01:39:16] ভক্তদের এই শিক্ষায় দেয় যে বাইরের

[01:39:21] চাকচিক্যময় রূপের বদলে অন্তরনিহিত সত্যই

[01:39:25] হল মূল

[01:39:26] বস্তু। ধুমাবতী সেই আদি অন্ধকার ও

[01:39:31] অজ্ঞানের মূর্ত রূপ। যা থেকে মায়ার

[01:39:35] সংসারের সৃষ্টি

[01:39:37] তিনি সৃষ্টির পূর্বে ও ধ্বংসের পরে এই

[01:39:41] অন্ধকার ও অজ্ঞানতার প্রতীক। এই অজ্ঞানতা

[01:39:45] যা সর্বোচ্চ সত্যকে ঢেকে রাখে তাও

[01:39:49] প্রয়োজনীয়।

[01:39:51] কারণ এই অজ্ঞানতার উপলব্ধি না থাকলে সত্য

[01:39:57] জ্ঞান লাভ এক প্রকার

[01:40:00] অসম্ভব। এখানে মায়ের পূজো মা হিসেবেই

[01:40:05] হয়। মাকে মা হিসেবেই দেখা হয়। এখানে

[01:40:09] হলেন উনি

[01:40:10] রক্ষক। এই স্থান এখানকার মানুষ। সকলকে উনি

[01:40:14] রক্ষা করেন সমস্ত বিপদ

[01:40:17] [মিউজিক]

[01:40:18] থেকে। মাতৃরূূপে পূজিতা হচ্ছেন মা এখানে

[01:40:22] চিরকালী। সকলে পূজো দেন। দ্বিতীয় পারেন।

[01:40:26] কেবল বিবাহিত পুরুষ নারী আলাদা না এসে

[01:40:31] যুগলে আসেন। তেমনটাই চলে আসছে আর কি।

[01:40:35] মা এখানে বর

[01:40:37] প্রদানকারিনি। আপনাদেরও খালি হাতে ফেরাবেন

[01:40:40] না। সমস্ত ভুলের ক্ষমা চেয়ে নিন। মা আবার

[01:40:45] আপনাদের সংসারে হারানো সুখ সমৃদ্ধি সব

[01:40:48] ফিরিয়ে

[01:40:49] দেবেন। বারাণসীর দেবী ধুমাবতীর এই মন্দিরে

[01:40:53] ওরা দুভাই এসেছে। রজত ও

[01:40:57] রঞ্জন। বরচাজ মশাইয়ের কথামত এখানে এসে

[01:41:00] মায়ের কাছে পূজো দিয়ে যেতে।

[01:41:03] কুসুমের তিন দিনের শ্রাদ্ধ শান্তি মেটার

[01:41:05] পরেই চলে এসেছে ওরা দুই

[01:41:07] ভাই। আর এক মুহূর্ত দেরি

[01:41:11] নয়। আমরা যদি আগে জানতাম

[01:41:16] পর্দা এমনটা যে কেন করল

[01:41:19] [মিউজিক]

[01:41:22] ওরা? এতটুকু আজ পেলাম

[01:41:27] না। বড় হয়েও আটকাতে পারলাম না।

[01:41:33] রঞ্জনের চোখে

[01:41:35] জল। সবেমাত্র মন্দির থেকে বেরিয়েছে ওরা।

[01:41:39] পুরোহিতের কথা শুনে মনটা অনেক হালকা

[01:41:42] লাগছে। রজত

[01:41:47] বলল, সবই

[01:41:50] নিয়তিরে। কোথায় ভাইয়ের বিয়ে দিলাম

[01:41:53] যাতে থিতু হয় আর সেই

[01:41:58] কিনা। যাক।

[01:42:01] যা হবার

[01:42:03] হয়েছে সংসারটাই ভেঙে গেল

[01:42:08] রে কপালের দোষ কন্ডাবে

[01:42:11] কে আর তো পাবো না ওকে কখনো শত

[01:42:15] চেষ্টাতেও মাথা খুটে মরে

[01:42:18] গেলেও ফিরে তো পাওয়া যাবে না সব পাওয়া

[01:42:23] যাবে চাইলে সব পাওয়া যায়

[01:42:29] হঠাৎ

[01:42:31] দাঁড়িয়ে পড়লো দুই

[01:42:33] ভাই। সামনে হাত বাড়িয়ে একজন

[01:42:37] ভিখারী। সাদা ময়লা

[01:42:40] শাড়ি। কালো গায়ের রং কচকানো

[01:42:45] চামড়া। উড়ো উড়ো খোলা চুল। বাঁকা

[01:42:50] নাক। হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বুড়িটা ওদের

[01:42:53] দিকে। পয়সা চায়

[01:42:56] বোধহয়। বুড়িটাকে দেখেই

[01:43:00] কেমন যেন করে উঠলো

[01:43:02] ভেতরটা। রজত তাড়াতাড়ি পকেটে হাত ঢুকিয়ে

[01:43:06] পয়সা বের করে দিল বুড়ির

[01:43:08] হাতে। পয়সাটা না নিয়েই বুড়ি বলল,

[01:43:12] কিন্তু চাইতে

[01:43:14] নেই। সব চাইতে

[01:43:17] নেই। মাথা পেটে আর পেট পেটে মরেছে কেমন

[01:43:23] ভয়?

[01:43:29] [সশব্দ হাসি]

[01:43:32] খিলখিল করে বুড়িটা হেসে

[01:43:35] উঠলো। ওরা

[01:43:37] দেখলো

[01:43:39] বুড়িটার সামনের দুটো

[01:43:42] দাঁত

[01:43:51] নেই। আজ গল্প পাঠে ছিল সায়কামান। বিভিন্ন

[01:43:55] চরিত্রে বর্ণিশা বর্ষা ঋতুপর্ণা

[01:43:59] দিতিপ্রিয়া মৌপিয়া এনামল কৌশিক সায়ক

[01:44:05] এবং আমি তোমা শব্দগ্রহণে নীলাভ আবহ ও

[01:44:09] স্পেশাল ইফেক্টসের সায়ন স্ক্রিপটিং এ

[01:44:13] বর্ষা শুনছিলেন শ্রীতমা সেনগুপ্তির কাহিনী

[01:44:18] ধুমাবতি সবাই ভালো

[01:44:20] থাকবেন শুভরাত্রি

[01:44:29] [মিউজিক]
